মোংলা প্রতিনিধিঃ
সুন্দরবনের বিভিন্ন নদী ও খালে মাছ ধরার সময় ‘ডন বাহিনী’ পরিচয়ে একদল সশস্ত্র বনদস্যু কমপক্ষে ১৮ জন জেলেকে অপহরণ করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় সুন্দরবননির্ভর জেলেদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
বন থেকে ফিরে এসে অপহৃত জেলেদের সহযোগীরা জানান, বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত সুন্দরবনের অভ্যন্তরীণ মামুন্দো ও মালঞ্চ নদীর বিভিন্ন খালে মাছ ধরার সময় সশস্ত্র বনদস্যুরা নিজেদের ‘ডন বাহিনী’ পরিচয় দিয়ে প্রতিটি নৌকা থেকে একজন করে জেলেকে জিম্মি করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়।
জেলেদের দাবি, দস্যু দলের মধ্যে তারা ২০১৮ সালে আত্মসমর্পণ করা বনদস্যু শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের আটিরউপর গ্রামের শাজাহান এবং একই গ্রামের শফিকুল ইসলাম ওরফে ভেটে শফিকুলকে চিনতে পারেন। তারা দুই জন ‘ডন বাহিনীর’ প্রধানের একনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন।
সূত্রটি জানায়, মামুন্দো নদীর মাইটেভাঙা খাল থেকে তিনটি নৌকায় তিন জন জেলেকে তুলে নেয় দস্যুরা। এ সময় দুটি নৌকা ছেড়ে দিয়ে একটি নৌকা নিয়ে যায় তারা। এ ছাড়া মালঞ্চ নদীর মাইশারকোল খাল থেকে দুটি নৌকা থেকে দুই জন, একই নদীর উলোবাড়ি খাল থেকে দুটি নৌকা থেকে দুই জন এবং মামুন্দো নদীর রাজাখালী খাল থেকে তিনটি নৌকার তিন জনসহ কলাগাছি এলাকা থেকে তিনটি নৌকা থেকে তিন জন জেলেকে অপহরণ করা হয়। পরে আরও আট জনকে জিম্মি করে বনদস্যুরা। এসব জেলেদের অপহরণ করা হলেও নিরাপত্তার কারণে তাদের নাম প্রকাশ করা যাচ্ছে না বলে জানান তারা।
অপহৃত জেলেদের অধিকাংশের বাড়ি সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের হরিনগর, কদমতলা, মথুরাপুর, মৌখালী ও ছোট ভেটখালী এলাকায়।
জেলেদের দাবি, বন বিভাগের সব নিয়ম মেনে মাছ ধরলেও তারা বনদস্যুদের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেন না। ঘটনার পর নিরাপত্তাহীনতায় অনেক জেলে সুন্দরবনে মাছ ধরা বন্ধ করে লোকালয়ে ফিরে আসতে শুরু করেছেন।
ভুক্তভোগী জেলেরা বন বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত উদ্ধার অভিযান এবং সুন্দরবনে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বন বিভাগের কাছে জানতে চাইলে পশ্চিম সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের ফরেস্ট রেঞ্জার ফজলুল হক জানান, তারা শুক্রবার দুপুরে বিষয়টি জানতে পেরেছেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করেছেন। জেলে জিম্মি হওয়ার ঘটনাটি কোস্টগার্ডসহ সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
তবে, অভিযান চালানোর বিষয়ে কোস্টগার্ড তাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা না পাওয়ার কথা জানিয়েছে বলে জানান তিনি। এতে জিম্মি জেলেদের পরিবার চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছে।
অন্যদিকে, কোস্টগার্ড মোংলার মিডিয়া বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তারা বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করেছেন। তবে চলমান অভিযান সফলভাবে শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনও বক্তব্য দেওয়া সম্ভব নয়।
১ দিন ১৫ ঘন্টা ৫০ মিনিট আগে
১ দিন ১৮ ঘন্টা ৫১ মিনিট আগে
২ দিন ১৮ ঘন্টা ৩৮ মিনিট আগে
২ দিন ২১ ঘন্টা ১০ মিনিট আগে
২ দিন ২২ ঘন্টা ৫৪ মিনিট আগে
৩ দিন ২২ ঘন্টা ৩৯ মিনিট আগে
৪ দিন ১৯ ঘন্টা ৫৪ মিনিট আগে
৬ দিন ২০ ঘন্টা ৯ মিনিট আগে