সাতকানিয়ায় বাস-অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে মেয়েসহ বাবা নিহত, আহত ৩ মিরসরাইয়ে অটিজম সেন্টার ও নার্সিং ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েই যাত্রা শুরু করলো লাইফ সেইফার সংস্থার আবারও কক্সবাজারের হোটেলে আগুন, রক্ষা পেলেন ৩ শতাধিক পর্যটক লোহাগাড়া চরম্বায় মাদ্রাসা ভবন নির্মাণে অনুদান দিলেন “এরশাদ হোসেন” ‎মন্ত্রী মঈন খানের সুস্থতা কামনায় পলাশ উপজেলা প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের দোয়া মাহফিল ‎ নালিতাবাড়ীতে মাংসের দোকানে মোবাইল কোর্ট, তিন দোকানে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা পীরগাছায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি আন্তঃজেলা ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন জয়পুরহাটে সিঁদুর দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৫ গোয়ালন্দে পদ্মা নদীতে গোসলে নেমে ৮ বছরের শিশু নিখোঁজ, উদ্ধার অভিযান চলছে লাখাইয়ে দেদারসে বিক্রি হচ্ছে কেমিক্যাল যুক্ত কলা, রয়েছে স্বাস্থ্য ঝুকি। তিন দিন বন্ধ থাকবে হজ পোর্টাল ড. আবদুল মঈন খানকে দেখতে হাসপাতালে রাষ্ট্রপতি ইউরোপ থেকে ফেরত এলো ৩৫ বাংলাদেশি যমুনা ফিউচার পার্কে আজ জেমসের কনসার্ট বাংলাদেশে ৬৩৬ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে জাপান নালিতাবাড়ীর কৃষক সেন্টু হাজংয়ের ধান উদ্ভাবন সরেজমিনে পরিদর্শন করলেন শেরপুরের ডিসি ফরিদা ইয়াসমিন সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতার অভিযোগ 'শত্রুতার জেরে ছেলে-মেয়েকে স্বর্ণ চুরির মামলায় হয়রানি করা হচ্ছে' তেঁতুলিয়ায় থার্টিন হুসার্স ওপেন রোভার স্কাউট গ্রুপের জোটা-জোটি ক্যাম্প অনুষ্ঠিত। মিরসরাইয়ে পাহাড়ধসে সন্তানহারা পরিবারের পাশে বিএনপি নেতা ফজলুল মুরাদ, স্থাপন করলেন নলকূপ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার সারাদেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় বদ্ধপরিকর-নুরুল আমিন এমপি

অচাষকৃত শাকের মেলা ও রান্না প্রতিযোগিতা

 অচাষকৃত শাকের মেলা ও রান্না প্রতিযোগিতা

রনজিৎ বর্মন শ্যামনগর(সাতক্ষীরা)প্রতিনিধি ঃ  উপকূলীয় অঞ্চলের স্থানীয় খাদ্য ভান্ডার ও অচাষকৃত উদ্ভিদ সংরক্ষণে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের ধুমঘাট আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হয় উপকূলীয় অচাষকৃত শাকের মেলা ও রান্না প্রতিযোগিতা।

সিক্সটিন ডেজ অব গ্লোবাল অ্যাকশন অন এগ্রোইকোলজি ২০২৫’ ও ‘বিশ্ব খাদ্য দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে কৃষক-কৃষানি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সাংবাদিক, স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।

 সবুজ সংহতি ও স্থানীয় জনসংগঠন সমূহের আয়োজনে গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিকের সহায়তায় উক্ত কর্মসূচিতে শীলতলা গ্রামের স্থানীয় পাঁচটি জনসংগঠনের ২০ জন সদস্য অংশগ্রহন করেন যার মধ্যে ১০ জন অচাষকৃত উদ্ভিদের প্রদর্শনীতে এবং বাকী ১০ জন রান্না প্রতিযোগিতায়। এই প্রদর্শনীতে ৯০ প্রজাতির উদ্ভিদ স্থান পায়। তার মধ্যে ছিলো থানকুনি, হেলাঞ্চ, শাপলা, গাদোমনি, আদাবরুন, পেপুল, ইপিলইপিল, দুর্বা, তুলশি, সেঞ্চি, বামনআটি, বিলকুমারী, কলমি, কচুশাক, নাটা, অশ্বগন্ধ্যা, শিষাকন্দা,ঘুমশাক, ডুমুর, আকম্দ, মাটিফোড়া, তিতবেগুন, নিমুখা, বৌনুটি, ধুতরা ইত্যাদি। এসময় অংশগ্রহনকারীরা এসব উদ্ভিদের গুনাগুন, প্রাপ্তিস্থান, কোন মৌসুমে পাওয়া যায়, কোনটি মানুষ ও প্রানীর খাবার এবং কিভাবে খাওয়া যায় তার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

 সবুজ সংহতির সভাপতি জিল্লর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আব্দুল আলিম, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রাজীব বাছাড়, স্থানীয় ইউপি সদস্যা কমলা রানী মৃধা,  কৃষানী অল্পনা রানী, কৃষানী মিতা রানী, কৃষক চিত্তরঞ্জন, বারসিক কর্মকর্তা রামকৃষ্ণ জোয়ারদার,বিশ্বজিৎ মন্ডল, মফিজুর রহমান, মিলন, বরষা রানী  প্রমুখ।

ধুমঘাট আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আব্দুল আলিম জানান, “অংশগ্রহণকারীরা ৭০ থেকে ৮০ প্রজাতির অচাষকৃত উদ্ভিদ শনাক্ত করেছেন। স্থানীয়রা এসব উদ্ভিদের পুষ্টিগুণ ও সংরক্ষণ পদ্ধতি সম্পর্কে নতুনভাবে জানতে পেরেছেন।

উপসহকারী কৃষিকর্মকর্তা রাজিব বাছাড় জানান, অচাষকৃত উদ্ভিদ সংরক্ষণ ও স্থানীয় খাদ্য সংস্কৃতি টিকিয়ে রাখার বিষয়ে সচেতনতা বেড়েছে। অংশগ্রহণকারীরা অচাষকৃত উদ্ভিদের খাদ্য ও ঔষধি গুণ সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান অর্জন করেছেন।

জিল্লুর রহমান বলেন,“এ মেলার মাধ্যমে স্থানীয় খাদ্য সম্পদ ও নারীদের ঐতিহ্যগত জ্ঞানকে নতুনভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে। নারীরা যে খাদ্য নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখছে তা এই মেলার মাধ্যমে আমরা দেখতে পেলাম।

কৃষানী অল্পনা রানী মিস্ত্রি বলেন, উপকুলীয় অঞ্চল ছিলো একসময় প্রকৃতির সমাহার। এখানে চাষ করা অচাষকরা নানান শস্য ফসলে ভরা ছিলো। বর্তমানে আধুনিক কৃষি ও বাজর নির্ভর খাদ্যাভ্যাস, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, লবনাক্ততা বৃদ্ধি, অচাষকৃত উদ্ভিদের প্রাপ্তি স্থল বিলুপ্ত, রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার বৃদ্ধির কারণে এসকল প্রাণবৈচিত্র্য বিলুপ্তর পথে। আর এসকল উদ্ভিদবৈচিত্র্য সংরক্ষণ সচেতনতার প্রয়োজন।

রান্না প্রতিযোগিতায় স্থানীয় নারীরা বিভিন্ন শাক, মূল ও কন্দজাত উপাদান দিয়ে ঐতিহ্যবাহী খাবার প্রস্তুত করেন। পাঁচ সদস্যের বিচারকমন্ডলী স্বাদ, পুষ্টিগুণ ও উপস্থাপনার ভিত্তিতে বিজয়ী নির্বাচন করেন।

বিজয়ীদের মধ্যে শাকের মেলায়: ১ম মালতি রানী, ২য় শিখা রানী, ৩য় পৃথা রানী। রান্না প্রতিযোগিতায়: ১ম ইতি রাণী, ২য় রিংকু রাণী, ৩য় অঞ্জলী রাণী পুরস্কার গ্রহণ করেন।

ছবি- শ্যামনগর উপকূলে গ্রামীন নারীদের অচাষকৃত শাকের রান্না প্রতিযোগিতা।



Tag
আরও খবর