খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব বড়দিন। প্রতি বছর ২৫ ডিসেম্বর এ দিবসটি পালিত হয়ে থাকে। এ বছর শেরপুরের সীমান্তঘেঁষা গারো পাহাড়ে উৎসবের আমেজ থাকলেও এবারের চিত্র অনেকটা ভিন্ন। আনন্দ-উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি এক অজানা আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে স্থানীয় গারো পল্লীগুলোতে। বিদ্যমান সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে এক ধরনের থমথমে আবহ তৈরি হয়েছে পাহাড়ি জনপদে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বড়দিনকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর গারো সম্প্রদায়ের ঘরে ঘরে শুরু হয় বর্ণিল সাজসজ্জা। নতুন পোশাক কেনা আর পিঠা-পায়সের গন্ধে মুখর থাকে পুরো এলাকা। তবে এবারের আয়োজনে নেই সেই পরিচিত কোলাহল। পাহাড়ি এলাকায় এখন দিন কিংবা রাত, সব সময়ই সুনসান নিরবতা। আগে বড়দিন ঘিরে পটকা ফোটানো বা আতশবাজির ধুম থাকলেও এবার তার কিছুই দেখা যাচ্ছে না। বাসিন্দাদের মধ্যে উৎসবের আনন্দের চেয়ে নিরাপত্তাহীনতার দুশ্চিন্তাই প্রকট হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সম্প্রতি দেশের কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রভাব পড়েছে এই সীমান্ত এলাকায়। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যায় জড়িতদের ভারতে পালিয়ে যেতে সহায়তা করার সন্দেহে নালিতাবাড়ী সীমান্ত থেকে কয়েকজন গারো যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই ঘটনার পর থেকেই পাহাড়ি এলাকায় এক ধরনের ভয় কাজ করছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারে সীমান্ত এলাকায় বিজিবির বিশেষ টহল এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। পুরো এলাকা এখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া নজরদারিতে। হাতিপাগার বিজিবির কোম্পানি কমান্ডার মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সীমান্ত সুরক্ষায় এই বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
বড়দিন উদযাপন নির্বিঘ্ন করতে শেরপুর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান ভূঁইয়া খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় জানান, বড়দিন উপলক্ষে রাতভর ধর্মীয় সংকীর্তন চলার সময় একা চলাচল না করতে এবং নেশাজাতীয় দ্রব্য বহন বা সেবন থেকে বিরত থাকতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নিরাপত্তার জন্য পুলিশের বিশেষ টিম নিয়োজিত থাকবে।
বারোমারি মিশনের পাল পুরোহিত ফাদার তরুণ বনোয়ারী বলেন, “দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরামর্শ অনুযায়ী ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখেই আমরা বড়দিন উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছি।”
শেরপুর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে, বড়দিন উদযাপন যাতে নিরাপদ ও আনন্দময় হয়, সে লক্ষে সব ধরনের সহায়তা প্রদান করা হবে।
৯ ঘন্টা ৫১ মিনিট আগে
১১ ঘন্টা ৩৬ মিনিট আগে
১ দিন ১১ ঘন্টা ২৩ মিনিট আগে
২ দিন ৮ ঘন্টা ৫ মিনিট আগে
৩ দিন ৯ ঘন্টা ৬ মিনিট আগে
৩ দিন ৯ ঘন্টা ১৬ মিনিট আগে
৩ দিন ১২ ঘন্টা ১২ মিনিট আগে
৪ দিন ১০ ঘন্টা ৩৭ মিনিট আগে