রংপুরের পীরগাছায় বাবাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগে ছেলে হাসানুর রহমানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার তাম্বুলপুর বাজারে ‘আইন ও অধিকার ফাউন্ডেশন’-এর উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, তাম্বুলপুর ইউনিয়নের চর তাম্বুলপুর মাস্টারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মাহাবুর রহমান ওরফে মহুবার (৫৫) তার ছেলে হাসানুর রহমানের (২২) ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্তের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
বক্তারা বলেন, পিতা-মাতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সমাজে সম্পদলোভী ও নৃশংস কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করারও দাবি জানান তারা।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন তাম্বুলপুর ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী ফারুকুল ইসলাম রাখু ও রুবেল মিয়া, স্থানীয় বাসিন্দা শাহ আলম এবং আইন ও অধিকার ফাউন্ডেশনের রংপুর বিভাগীয় প্রতিনিধি অবসরপ্রাপ্ত সৈনিক সবুজ মিয়া। এ সময় স্থানীয় এলাকাবাসীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। মানববন্ধন থেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।
পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক জানান, হাসানুর রহমান পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে উপজেলার তাম্বুলপুর ইউনিয়নের চর তাম্বুলপুর মাস্টারপাড়ার মহুবারকে তার ছেলে হাসানুর বুকে ছুরি বসিয়ে হত্যা করেন। অভিযুক্ত ছেলে ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন।
সূত্রে জানা যায়, তিন মাস আগে বিয়ে করেন হাসানুর রহমান। বিয়ের পর তিনি কোনো কাজকর্ম না করায় কিছুদিন আগে তাঁর স্ত্রী বাপের বাড়ি চলে যান। ফলে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে হাসানুরের সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছিল।
শুক্রবার সকালে হাসানুরের শাশুড়ি কয়েকজন স্বজনকে সঙ্গে নিয়ে তাঁদের বাড়িতে আসেন। তবে জামাই হাসানুর তাঁদের ঘরে বসতে কিংবা আপ্যায়ন করতে অস্বীকৃতি জানান। বিষয়টি নিয়ে পারিবারিক বাগ্বিতণ্ডা শুরু হলে বাবা মহুবার রহমান ছেলেকে নির্দেশ দেন শাশুড়িকে সম্মান জানাতে এবং তাঁদের সঙ্গে নিয়ে ভাত খেতে।
হাসানুর বাবার নির্দেশ অমান্য করলে মহুবার রহমান ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে একটি চড় মারেন। শাশুড়ির সামনে বাবার হাতে চড় খাওয়ার ঘটনা মেনে নিতে না পেরে হাসানুর ঘরে থাকা একটি ধারালো চাকু এনে বাবার বুকে বসিয়ে দেয়।
ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত অবস্থায় স্বজনরা মহুবার রহমানকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে পথেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাঁর মৃত্যু হয়।
৫৩ মিনিট আগে
১ ঘন্টা ৬ মিনিট আগে
২ ঘন্টা ২ মিনিট আগে
২ ঘন্টা ৩ মিনিট আগে