সরকারি সেবা ব্যবস্থায় চরম অব্যবস্থাপনা ও জনভোগান্তি চরমে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় যখন দেশজুড়ে করোনা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার প্রচারণা চলছে, তখন সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে দৃশ্যপট একেবারেই ভিন্ন। জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলোতে রোগীরা চিকিৎসা নিচ্ছেন অমানবিক পরিবেশে—বালিশ ও কভারবিহীন বেডে, নোংরা ও দুর্গন্ধযুক্ত টয়লেটের পাশেই। এ যেন স্বাস্থ্যসেবার নামে রোগীদের জন্য আরেক ‘রোগে’ আক্রান্ত হওয়ার আতঙ্ক।
বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিনে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলো ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি ওয়ার্ডে রোগীদের জন্য নির্ধারিত বেডে নেই কোনো বালিশ, নেই কভার বা পরিষ্কার বিছানার চাদর। রোগীদের কেউ কেউ তাদের ব্যক্তিগত ব্যাগ, তোয়ালে, কাপড় কিংবা ছোট বালিশ মাথার নিচে দিয়ে কোনো রকমে শুয়ে আছেন। কেউ কেউ খালি মাথায় কষ্ট সহ্য করে ঘুমাতে চেষ্টা করছেন। বিশেষ করে স্ট্রোক, হৃদরোগ ও বয়স্ক রোগীদের জন্য এই অবস্থায় চিকিৎসা গ্রহণ অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে উঠেছে।
২নং ওয়ার্ডে ভর্তি এক স্ট্রোক রোগীর আত্মীয় জানান, “বুধবার গভীর রাতে রোগী ভর্তি করি। তখন হাসপাতাল থেকে কোনো বালিশ বা কভার দেওয়া হয়নি। বাধ্য হয়ে নিজের ব্যাগ মাথার নিচে দিয়ে রাত কাটিয়েছি।” পাশেই থাকা অন্য এক রোগীর ছেলে বলেন, “এখানে না আছে বালিশ, না আছে চাদর। এমনকি ফ্যানটাও নোংরা আর ধুলাবালিতে ভরা। আমাদের ঘরে যদি কেউ অসুস্থ হয়, আমরা তো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখি। কিন্তু হাসপাতালের অবস্থা এত খারাপ যে এখানে মানুষ সুস্থ হতে এসে আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছে।”
হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলোর অধিকাংশ বেডেই একই চিত্র। নোংরা ও ধুলোবালিতে ভরা বেড, দুর্গন্ধযুক্ত ফ্লোর, অপরিচ্ছন্ন টয়লেট, স্যাঁতসেঁতে দেয়াল—সবমিলিয়ে একটি আতঙ্কজনক পরিবেশ। রোগীদের অভিযোগ, টয়লেট ব্যবহার করতে গেলেই চোখে পানি আসে। টয়লেটের মধ্যে পরিষ্কার করার মতো কোনো সরঞ্জাম বা জীবাণুনাশক ব্যবহার হয় না বলেই মনে হচ্ছে। প্রতিদিন নিয়মিতভাবে ওয়ার্ড ও টয়লেট পরিষ্কারের কোনও উদ্যোগ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ তাদের।
তাদের আরও অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালের নামে নামমাত্র সেবা দেওয়া হচ্ছে। সরকারি বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও অধিকাংশ ওষুধ বাইরে থেকে কিনে আনতে হচ্ছে। এমনকি জরুরি প্রয়োজনেও অনেক সময় নার্সদের পাওয়া যায় না। কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, রোগী ভর্তি করাতে গিয়ে দুর্ব্যবহার ও দালালচক্রের সঙ্গেও মোকাবিলা করতে হচ্ছে তাদের।
হাসপাতালে দায়িত্বরত এক নার্স নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “অর্থ সংকট, জনবল সংকট এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে এসব সমস্যা চলছে। প্রতিদিন রোগীর সংখ্যা বাড়লেও হাসপাতালের রক্ষণাবেক্ষণে কোনো বাড়তি উদ্যোগ নেই।”
সাতক্ষীরার সুশীল সমাজ, মানবাধিকার কর্মী ও সচেতন নাগরিকরা বলছেন, “সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে সদর হাসপাতালকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং রোগীদের ন্যূনতম মানবিক সেবা নিশ্চিত করা স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্ব। যদি এখানে এসব মৌলিক সুযোগ-সুবিধাই না থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে?”
এ বিষয়ে জানতে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডাঃ ফয়সাল আহমেদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এভাবে যদি জনসেবা প্রদানকারী গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বহীনতা চলতে থাকে, তাহলে স্বাস্থ্যসেবা খাতের প্রতি জনগণের আস্থা হারিয়ে যাবে। অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী রোগী ও তাদের স্বজনরা।
৩ দিন ১২ ঘন্টা ২০ মিনিট আগে
১১ দিন ১৬ ঘন্টা ৪৫ মিনিট আগে
১১ দিন ১৭ ঘন্টা ১৭ মিনিট আগে
১২ দিন ১৩ ঘন্টা ৩৮ মিনিট আগে
১২ দিন ১৩ ঘন্টা ৫৬ মিনিট আগে
১৩ দিন ১০ ঘন্টা ৩২ মিনিট আগে
১৩ দিন ১৭ ঘন্টা ৫১ মিনিট আগে
১৩ দিন ২৩ ঘন্টা ৫৫ মিনিট আগে