যশোরের প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ যেন থামছেই না। এবার শহরের 'স্ক্যান হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে' নাকের হাড় বাঁকা (ডিএনএস) অপারেশনের পর আবুল হোসেন (৪৫) নামে এক রোগীর রহস্যজনক মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। নিহতের পরিবারের দাবি, অপারেশন পরবর্তী ভুল ইনজেকশন এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলায় প্রাণ হারিয়েছেন তিনি।নিহত আবুল হোসেন ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার ধান্যহাড়ীয়া গ্রামের আবু ছিদ্দিকের ছেলে।পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার সন্ধ্যায় মাত্র ১৫ হাজার টাকার চুক্তিতে নাকের সাধারণ একটি অপারেশনের জন্য আবুল হোসেনকে ওই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাত ৮টার দিকে অপারেশন শেষ করে তাকে কেবিনে স্থানান্তর করা হয়। কিছুক্ষণ পরই রোগীর গলা দিয়ে রক্ত ও থুতু বের হতে থাকলে কর্তব্যরত নার্সকে ডাকা হয়। স্বজনদের অভিযোগ, নার্স এসে প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী দুটি ইনজেকশন পুশ করার পরপরই রোগী প্রচণ্ড ছটফট শুরু করেন। এর মাত্র ১৫ মিনিটের মাথায় অক্সিজেনের অভাবে ধুঁকতে ধুঁকতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন আবুল হোসেন।
নিহতের স্ত্রী ফুলমতি ও চাচাতো ভাই নজরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, মৃত্যুর পরপরই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত রহস্যজনক আচরণ শুরু করে। তারা কোনো ধরণের আইনি প্রক্রিয়ার সুযোগ না দিয়েই তড়িঘড়ি করে একটি অ্যাম্বুলেন্স ডেকে লাশ বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করে। এমনকি নিহতের পরিবারের কাছে থাকা চিকিৎসার প্রেসক্রিপশন ও যাবতীয় কাগজপত্র জোরপূর্বক কেড়ে নেওয়া হয় বলে তারা জানান। স্বজনদের দাবি, নিজেদের ভুল ঢাকতেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রমাণ নষ্টের এই অপচেষ্টা চালিয়েছে।এ বিষয়ে হাসপাতালের মালিক বিপু ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, "অপারেশনটি যশোর সদরের একজন চিকিৎসক করেছিলেন। মৃত্যুটি অস্বাভাবিক হলেও আমাদের ধারণা রোগী হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন।" কাগজপত্র কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ এড়িয়ে গিয়ে তিনি জানান, নিহতের পরিবারকে মানবিক কারণে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।এদিকে সাধারণ একটি অপারেশনে এসে কেন রোগীকে লাশ হয়ে ফিরতে হলো, তা নিয়ে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, ক্লিনিক মালিকদের আর্থিক সহায়তার টোপ মূলত বিচার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার একটি কৌশল। নিহতের পরিবার এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
৪ দিন ১৭ ঘন্টা ৫৪ মিনিট আগে
৬ দিন ১৫ ঘন্টা ১৭ মিনিট আগে
৮ দিন ৯ ঘন্টা ১০ মিনিট আগে
৮ দিন ৯ ঘন্টা ৫৯ মিনিট আগে
৮ দিন ১০ ঘন্টা ৪৩ মিনিট আগে
৯ দিন ৯ ঘন্টা ৫১ মিনিট আগে
১০ দিন ৭ ঘন্টা ৩৮ মিনিট আগে
১২ দিন ১৭ ঘন্টা ১ মিনিট আগে