দীর্ঘদিনের জীবনের ঝুঁকি ও শঙ্কাকে বিদায় জানাল যশোরের ‘ফুলের রাজধানী’ খ্যাত ঝিকরগাছার গদখালীর ফুলচাষি ও ব্যবসায়ীরা। যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের বিপজ্জনক ফুটপাত ছেড়ে অবশেষে নির্ধারিত ও সুরক্ষিত স্থানে স্থানান্তরিত হয়েছে দেশের বৃহত্তম এই পাইকারি ফুলের বাজার। নতুন এই বাজারের শুভ উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে ফুলের অর্থনীতিতে যুক্ত হলো সোমবার সকালে নবনির্মিত এই ফুল বাজারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সিনিয়র কৃষি বিপণন কর্মকর্তা কিশোর কুমার সাহা।বাজারের স্থানান্তরের ফলে সম্ভাব্য সড়ক দুর্ঘটনার আতঙ্ক থেকে মুক্তি পাওয়ায় ক্রেতা-বিক্রেতা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ পর্যন্ত উচ্ছ্বাস ও স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে হাজারো ফুলচাষিকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বেচাকেনা করতে হতো, যা প্রায়শই দুর্ঘটনার কারণ হতো। এই ঝুঁকির অবসান ঘটিয়ে ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ভূপালি সরকারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বাজারটি সুন্দর ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে স্থানান্তরিত হয়েছে। এই দূরদর্শী উদ্যোগের বাস্তবায়ন স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
উদ্বোধনের দিন থেকেই নতুন বাজারটি সরব। গ্রামীণ জনপদের দূরদূরান্ত থেকে ফুল চাষীদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় ও জেলা শহর থেকে আসা পাইকারদের পদচারণায় ভোর থেকে বাজার প্রাঙ্গণে তৈরি হয়েছে ব্যস্ততার আবহ।সেড ও গণশৌচাগারের দাবি, আশ্বাস দিলেন সহকারী কমিশনার নতুন বাজারে অবকাঠামোগত কিছু সুবিধা দ্রুত নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ফুল চাষী ও ব্যবসায়ীরা। তাদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে: অবিলম্বে একটি বাইপাস লেনসহ স্থায়ী সেড নির্মাণ এবং সবার সুবিধার জন্য গণশৌচাগার স্থাপন।গদখালী ফুলচাষী ও ফুল ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু জাফরসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ঝিকরগাছা পৌর প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাভিদ সারওয়ারের কাছে এই যৌক্তিক দাবি পেশ করেন। সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাদের দাবীর প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে দ্রুততম সময়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন। সিনিয়র কৃষি বিপণন কর্মকর্তা কিশোর কুমার সাহাও এই বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন।কেবল দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানো নয়, আন্তর্জাতিক বাজারেও গদখালীর ফুলের খ্যাতি রয়েছে। এখানকার গ্লাডিউলাস, জারবেরা, রজনীগন্ধা ও গোলাপসহ মানসম্মত ফুল ইউরোপের পাঁচটি দেশে রপ্তানি হয়ে থাকে। গদখালী, নাভারন, পানিসারা ও মাগুরা ইউনিয়নের এই বাণিজ্যিক ফুলচাষ দেশের মোট চাহিদার সিংহভাগ পূরণ করে।ফুল উৎপাদন, বিপণন ও রপ্তানির মাধ্যমে এই গ্রামীণ জনপদের চাষিরা কেবল নিজেদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করছেন না, বিপুল সংখ্যক শ্রমজীবী মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেও বড় ভূমিকা রাখছেন।বর্তমানে ফুলের ভরা মৌসুম শুরু হওয়ায় এই জনপদের ফুল চাষিরা তাদের খেত পরিচর্যা এবং নতুন বীজতলা তৈরিতে দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করছেন, যা আগামীর অর্থনীতির চাকা সচল রাখার ইঙ্গিত দেয়।
৪ দিন ১৬ ঘন্টা ৫৪ মিনিট আগে
৬ দিন ১৪ ঘন্টা ১৭ মিনিট আগে
৮ দিন ৮ ঘন্টা ১০ মিনিট আগে
৮ দিন ৮ ঘন্টা ৫৮ মিনিট আগে
৮ দিন ৯ ঘন্টা ৪৩ মিনিট আগে
৯ দিন ৮ ঘন্টা ৫১ মিনিট আগে
১০ দিন ৬ ঘন্টা ৩৮ মিনিট আগে
১২ দিন ১৬ ঘন্টা ১ মিনিট আগে