একশ’ পৌরসভা-উপজেলায় প্রার্থী দিল এনসিপি ইবনে সিনা ট্রাস্ট ও মাছরাঙ্গা কমিউনিকেশনের কর্পোরেট চুক্তি স্বাক্ষরিত ধামরাইয়ে পূর্ব শত্রুতার জেরে যুবককে কুপিয়ে হত্যা দুর্গাপুরে কালবৈশাখী গাছ ভেঙে ঘর তছনছ। অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন বৃদ্ধা বেগমগঞ্জ সাব রেজিষ্ট্রি অফিসে চুরির হিড়িক মায়ের আঁচলই শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয়... শান্তিগঞ্জে ধানবোঝাই ট্রলির ধাক্কায় প্রাণ গেল মাদ্রাসাছাত্রের নোয়াখালীতে গ্যারেজে চলছিল চোরাই অটোরিকশা বেচাকেনা, গ্রেপ্তার ৫ কৃষি জমির মাটি কেটে ইট ভাটায় বিক্রি, ফসল উৎপাদন ব্যহত হওয়ার আশঙ্কা সুবিপ্রবি-মাউন্ট এডোরার স্বাস্থ্যসেবা চুক্তি পুলিশ উদ্ধার করল সামিরের ঝুলন্ত লাশ আসন্ন বাঘারপাড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এনসিপির মনোনয়ন পেলেন ইয়াহিয়া জিসান তরুণ প্রজন্মকে নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন স্থাপনা-জাহাজে হামলার হুমকি ইরানের শেরপুরে জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত বিশ্ব মা দিবসে সাংবাদিক জামাল কাড়ালের মায়ের রোগমুক্তি কামনা কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবে নিহত পরিবারের সংবাদ সম্মেলন নলতায় ডেয়ারি কারখানায় গভীর রাতে হামলার অভিযোগ মিরাজের ফাইফারে ২৭ রানের লিড পেল বাংলাদেশ ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অর্থ লুটপাটের অভিযোগ

ন্যায্য দাম ও সংরক্ষণ সংকটে বিপাকে কৃষকরা, হাজার হাজার মেট্রিকটন আলু মাঠে পড়ে আছে

ন্যায্য দাম না পাওয়া এবং সংরক্ষণ ব্যবস্থার অভাবে বছরের পর বছর কমে যাচ্ছে গলাচিপা উপজেলায় আলু চাষের পরিমাণ। কৃষকদের আগ্রহ কমে যাওয়ায় একসময় সম্ভাবনাময় এই ফসল এখন লোকসানের আশঙ্কায় চাষিরা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালে এই উপজেলায় প্রায় ৪০০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হলেও ২০২৫ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৩৬০ হেক্টরে। আর চলতি ২০২৬ সালে মাত্র ২৬০ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হয়েছে। যদিও এ বছর ৩৬৫ হেক্টর জমিতে চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল, কিন্তু বাস্তবে তা অর্জন করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয় কৃষকদের মতে, গলাচিপা উপজেলার মাটি ও ভৌগোলিক অবস্থান আলু চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। কৃষি অফিস জানায়, প্রায় ১৯৮০ সালের শুরু থেকেই এ উপজেলায় আলুর আবাদ শুরু হয়। ভালো ফলন ও বাজারমূল্য পাওয়ায় তখন কৃষকদের মধ্যে আলু চাষে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দেয়। উপজেলার সদর ইউনিয়নের মুরাদনগর, বোয়ালিয়া ও চরখালী গ্রামে সবচেয়ে বেশি আলুর আবাদ হয়ে থাকে। প্রতি হেক্টরে গড়ে প্রায় ২৫ টন আলু উৎপাদন হলেও সংরক্ষণ সুবিধা না থাকায় কৃষকরা উৎপাদিত আলু ধরে রাখতে পারছেন না। কৃষকদের অভিযোগ, উপজেলায় কোনো হিমাগার না থাকায় আলু সংরক্ষণে মারাত্মক সংকট তৈরি হয়েছে। ফলে বাধ্য হয়ে কম দামে আলু বিক্রি করতে হচ্ছে। অন্যদিকে পাইকারি ক্রেতারাও এলাকায় তেমন আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। চাষিদের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে প্রতি বিঘা জমিতে আলু চাষ করতে সার, বীজ ও শ্রমিক বাবদ খরচ হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার টাকা। অথচ বাজারদর অনুযায়ী প্রতি বিঘার আলু বিক্রি করতে হচ্ছে মাত্র ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকায়। এতে প্রতি বিঘায় ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হচ্ছে কৃষকদের। স্থানীয় কৃষকরা মোঃ মিলন হাওলাদার জানান, এইভাবে লোকসান হলে ভবিষ্যতে আর আলু চাষ করা সম্ভব হবে না। আমরা ন্যায্য দাম চাই এবং আলু সংরক্ষণের জন্য একটি হিমাগার চাই। উপজেলা কৃষি অফিসার আরজু আক্তার জানান, দ্রুত সংরক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা না গেলে আলু চাষে আগ্রহ আরও কমে যেতে পারে, যা স্থানীয় অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। স্থানীয় কৃষক ও সচেতন মহল সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন—সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে দ্রুত একটি হিমাগার স্থাপন করা হোক। এতে একদিকে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত আলু সংরক্ষণ করতে পারবেন, অন্যদিকে দেশের আলুর ঘাটতি পূরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে গলাচিপা উপজেলা।
আরও খবর