সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা এলাকায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী ঘোষ ডেয়ারি মিষ্টির কারখানায় হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও জবরদখলের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। একই সঙ্গে তারা থানায় মামলা গ্রহণে গড়িমসি ও নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ তুলে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
রবিবার (১০ মে) দুপুরে কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবের হলরুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রাজেশ কুমার ঘোষ। এ সময় তার পরিবারের সদস্যসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে রাজেশ কুমার ঘোষ অভিযোগ করেন, নলতা এলাকার আদি ঘোষ ডেয়ারি মিষ্টির কারখানায় শনিবার দিবাগত গভীর রাতে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়। তিনি দাবি করেন, স্থানীয় খোকন আমিন ওরফে মাহফুজুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি কারখানায় প্রবেশ করে কর্মচারীদের জিম্মি করে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়।
তিনি বলেন, রাত আনুমানিক ২টার দিকে আহছানিয়া রেসিডেন্সিয়াল ডিগ্রি কলেজ মাঠের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত কারখানায় অতর্কিত হামলা হয়। এ সময় কারখানায় অবস্থানরত অসিত কুমার, রাজেশ কুমার ও রাকেশ কুমারকে অস্ত্রের মুখে ভয়ভীতি দেখিয়ে বের করে দেওয়া হয়। পরে কারখানায় তালা ঝুলিয়ে দিয়ে ভেতরে থাকা শ্রমিক ও কর্মচারীদের আটকে রেখে তাণ্ডব চালানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, হামলাকারীরা কারখানার মূল্যবান যন্ত্রপাতি ভাঙচুরের পাশাপাশি প্রায় ১৭৫ বস্তা চিনি, ২ থেকে ৩ ড্রাম সয়াবিন তেল এবং অন্যান্য মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এতে প্রায় অর্ধ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।
রাজেশ কুমার ঘোষ আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর থানায় অভিযোগ দিতে গেলেও কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। বিশেষ করে কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জুয়েল হোসেন মামলা গ্রহণে গড়িমসি করছেন বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি। এ কারণে পরিবারটি বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
তবে এ ঘটনায় অভিযুক্ত খোকন আমিন ওরফে মাহফুজুল ইসলামের পক্ষ থেকে পাল্টা অভিযোগ আনা হয়েছে। তাদের দাবি, প্রকৃতপক্ষে তারাই হামলা ও জবরদখলের শিকার হয়েছেন। সংশ্লিষ্ট জমি ও কারখানা নিয়ে আদালতে মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলেও জানা গেছে।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানায়।
এ বিষয়ে কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জুয়েল হোসেন বলেন, ঘটনার পরপরই থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছিল। তবে অভিযোগের সঙ্গে সুনির্দিষ্ট তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে মামলা গ্রহণ করা হয়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
১ ঘন্টা ৭ মিনিট আগে
১ ঘন্টা ২০ মিনিট আগে
১ ঘন্টা ৩৯ মিনিট আগে
১ ঘন্টা ৪০ মিনিট আগে
২ ঘন্টা ২৪ মিনিট আগে
২ ঘন্টা ৪৩ মিনিট আগে