মঠবাড়িয়ায় উদ্ধারকৃত দুই মরদেহের রহস্য উদঘাটন, মামালা দায়ের
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার দক্ষিণ আমড়াগাছিয়া এলাকায় উদ্ধার হওয়া দুই ব্যক্তির মরদেহের রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। তদন্তে জানা গেছে, পুকুর খননের সময় মাটিধসে চাপা পড়ে দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় দুইজনকে এজাহারনামীয় এবং আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ মে সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে মঠবাড়িয়া থানা পুলিশ খবর পায় যে উপজেলার দক্ষিণ আমড়াগাছিয়া এলাকায় রাস্তার পাশের একটি মৎস্য ঘেরের বাঁধসংলগ্ন স্থানে আব্দুল রশিদ বেপারীর মরদেহ পড়ে আছে। একই এলাকার উত্তরাংশে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে সাগর হাওলাদারের মরদেহও উদ্ধার করা হয়।
খবর পেয়ে মঠবাড়িয়া থানার দুটি টিম পৃথকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করে। নিহতদের শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন না পাওয়ায় ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে সিআইডির ফরেনসিক টিমকে ডাকা হয়। পরে ফরেনসিক টিম ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করে এবং মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।
তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি ৭-৮ জন শ্রমিককে প্রতিদিন এক হাজার টাকা মজুরিতে তথাকথিত ম্যাগনেটিক পিলার খোঁজার কাজে নিয়োগ করেন। শ্রমিকদের বিষয়টি গোপন রাখার জন্য কোরআন শরীফ ছুঁয়ে শপথও করানো হয়েছিল বলে জানা যায়।
পরে শ্রমিকরা আমড়াগাছিয়া খালের পাশে সাগর হাওলাদারের নতুন খনন করা পুকুরে খননকাজ শুরু করেন। একপর্যায়ে ওপর থেকে মাটির বিশাল অংশ ধসে পড়ে চারজন শ্রমিক মাটিচাপা পড়েন। এর মধ্যে দুজন কোনোভাবে প্রাণে বাঁচলেও আব্দুল রশিদ বেপারী ও সাগর হাওলাদার সম্পূর্ণভাবে মাটির নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।
এ ঘটনায় মঠবাড়িয়া থানায় দণ্ডবিধির ৩০৪এ ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় দুইজনকে এজাহারনামীয় আসামি এবং আরও ৪-৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
আজ সোমবার (১ জুন) পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মোঃ মনজুর আহম্মেদ সিদ্দিকী এক প্রেস রিলিজের মাধ্যমে গণমাধ্যমকে বলেন, “ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন, ফরেনসিক আলামত সংগ্রহ এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অল্প সময়ের মধ্যেই ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়েছে। তদন্তে এটি মাটিধসে চাপা পড়ে মৃত্যুর ঘটনা বলে প্রমাণিত হয়েছে। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “পুলিশের নিরলস প্রচেষ্টা ও পেশাদার তদন্তের ফলে ১০ ঘণ্টারও কম সময়ে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা সম্ভব হয়েছে।”