ইসলামপুরে ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিল, প্রতিবাদে ছাত্রদলের বিক্ষোভ পেট্রোলিয়াম ফুটবল ফেস্ট সিজন-৯ এর শিরোপা জিতল শ্যাডো স্ট্রাইকার্স গত ১৭ বছর ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে, বুলু নারী সেজে অনলাইনে প্রেম', পুরুষ হয়ে আরেক পুরুষকে বিয়ে করল প্রবাসী যুবক মুহূর্তের ঝড়ে মধুপুরে লণ্ডভণ্ড ৫৩ হেক্টর কলা-পেঁপের খেত নবীনদের পদচারণায় প্রাণ পেল দক্ষিণ নড়াইল শিমুলিয়া মহাবিদ্যালয় শ্যামনগর দেবীপুর কমিউনিটি ক্লিনিকে এমএমএস ট্যাবলেট বিতরণ উদ্বোধন ধর্ম-বর্ণ কারো সুযোগে বাধা হবে না: প্রধানমন্ত্রী নাঙ্গলকোট বাজার ব্যবসায়ী সংস্থার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা চিলমারীতে "চরে ইনক্লুসিভ কালচারাল ও স্পোর্টস ইভেন্ট" অনুষ্ঠিত হয়েছে পবিপ্রবিতে সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্বে মারামারি, ক্যাম্পাসে উত্তেজনা আশাশুনিতে জমি দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন ডোমারে যুব রেড ক্রিসেন্টের পরিচ্ছন্নতা অভিযান আধুনগরে অবৈধ করাতকলে ১৬ হাজার টাকা জরিমানা ব্যাংকে বন্ধক থাকা জমি তৃতীয় পক্ষকে দখল বুঝিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওসির বিরুদ্ধে আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি ও সুন্নাহ অনুসরণের অঙ্গীকার নিয়ে 'ইকরামুল উম্মাহ্ ফাউন্ডেশন'-এর নতুন কমিটি গঠন নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাগর সাময়িক বহিষ্কার প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেক সভা তারালী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আর নেই একজন"মাস্টার মশাই'' অধ্যাপক নূরুল ইসলামে স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত

এক দরিদ্র পরিবারেকে ঈদ উপহার, তাৎক্ষণিক লাখপতি অসহায় মাসুদ - হরমুজা

লাখপতি অসহায় মাসুদ ও হরমুজা





এক দরিদ্র পরিবারকে ঈদ উপহার, তাৎক্ষণিক লাকপতি অসহায় মাসুদ-হরমুজা




দারিদ্রতা তাদের জীবনের নিত্যসঙ্গী। কখনো পেট ভরে খায়, কখনো ক্ষুধার্ত কিংবা অর্ধাহারে- এভাবেই চলছিল প্রতিবন্ধী মাসুদ মিয়া ও হরমুজা বেগমের জীবন। সংসারের দুঃখ-কষ্টের সঙ্গে লড়াই করতে করতে তারা স্বপ্ন দেখার সাহস প্রায় হারিয়ে ফেলেছিল।


কিন্তু ঈদের আনন্দ যখন ম্লান হতে চলেছে তখনই নোয়াখালী জেলার  সেনবাগ উপজেলার ৫ নং অজুনতলা ইউনিয়নে  এক ব্যতিক্রমী মানবিক ঘটনা ঘটেছে। সহায়তা পেয়ে এক লাখ টাকা হাতে নিয়ে নিমিষেই লাখপতি হয়ে যান এই দুই অসহায় মানুষ। তাদের চোখ আনন্দে, বিস্ময়ে, আবেগে ভরে উঠল।


শারীরিক অসুস্থতার কারণে নিয়মিত কাজ করতে পারছেন না মাসুদ মিয়া। একদিন কাজ করলে কয়েকদিন বিশ্রাম নিতে হতো। এর অর্থ প্রায়শই তাকে তার স্ত্রী এবং সন্তানদের সাথে একটি অধম জীবনযাপন করতে হয়েছিল। অন্যদিকে, হরমুজ বেগম মানুষের দয়া ও উদারতার উপর নির্ভর করতেন।


জানা গেছে,নোয়াখালী জেলার  সেনবাগ উপজেলার ৫নং অজুনতলা ইউনিয়নে অবস্হিত সৈয়দ হারুন ফাউন্ডেশন শুক্রবার (২৯ মে) রাতে সেনবাগের ছিলোনিয়া বাজারে অবস্হিত রুহুল আমিন একাডেমিতে অসহায় ও দুস্থ মানুষের নামে টোকেন তৈরি করে লটারির আয়োজন করে। এবার সেই লটারিতে নির্বাচিত হয়েছেন মাসুদ মিয়া ও হরমুজা বেগম।


ঘোষণা অনুযায়ী ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান লায়ন সৈয়দ হারুন তাদের নিজ গাড়িতে করে নিজ বাড়ি থেকে অনুষ্ঠানে নিয়ে আসেন। পরে তাদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। তাদের সম্মানে বিশেষ ভোজসভারও আয়োজন করা হয়।


নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার ৫নং অর্জুনটোলা ইউনিয়নে আয়োজিত ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগ ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। গত চার বছর ধরে ঈদের পর প্রতিদিন এ ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আসছে সংগঠনটি। ফাউন্ডেশন এ পর্যন্ত মোট ৯ জন অসহায় মানুষকে লাখপতি করেছে।


এছাড়া 'ড্রিম মার্কেট' নামে একটি সহায়তা প্রকল্পের আওতায়,লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত পরিবারের সাত সদস্যকে তাদের পছন্দের বাজারে কেনাকাটা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। বাজারের সবচেয়ে বড় মাছ, মুরগি বা নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী কেনার সুযোগে সুবিধাভোগীরা আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে পড়েন।


আবেগঘন কণ্ঠে হরমুজা বেগম বলেন, "জীবনে এমন দিন আসবে কখনো ভাবিনি। মানুষের সহযোগিতায় কোনো না কোনোভাবে সামলে যেতাম। আজ এক লাখ টাকা সহায়তা পেয়ে খুবই আনন্দিত। এই টাকা দিয়ে একটি গরু ও জমি কিনে কৃষিকাজ করে স্বাবলম্বী হতে চাই।"


প্রতিবন্ধী মাসুদ মিয়ার স্ত্রী বলেন, "আমার স্বামী অসুস্থ থাকায় নিয়মিত কাজ করতে পারে না। আমাদের অনেক কষ্টে সংসার চালাতে হতো। এই সহায়তা আমাদের জন্য নতুন আশার আলো হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমার মেয়ের বিয়ের বয়স হয়েছে, কিন্তু টাকার অভাবে আমরা তার ব্যবস্থা করতে পারিনি। এই টাকা দিয়ে আমি আমার মেয়ের বিয়ের ব্যবস্থা করব এবং পরিবারের কষ্ট লাঘবের চেষ্টা করব।"


ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান লায়ন মোঃ সৈয়দ হারুন বলেন, "আল্লাহ আমাকে সাফল্য ও সম্পদ দিয়েছেন। আমি সব সময় সমাজের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে চেয়েছি। ইতিমধ্যেই ৯টি ওয়ার্ডের ৯ জন লাখপতি হয়েছেন। আমি গতানুগতিক সহায়তার বাইরে ব্যতিক্রমী কিছু করতে চেয়েছিলাম। আমি বিশ্বাস করি এই কর্মসূচি সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।"


সৈয়দ হারুনের স্ত্রী সৈয়দা সাজেদা আক্তার  শেলী বলেন, "সমাজের অনেক মানুষ ৫০০ বা এক হাজার টাকা দিয়ে সাময়িক সাহায্য করে, যা একটি অসহায় পরিবারের জন্য একটি দিনের জন্য যথেষ্ট নয়। যদিও এটি তাদের কষ্ট কিছুটা লাঘব করতে পারে, তবে এটি তাদের জীবনে কোন বাস্তব পরিবর্তন আনতে পারে না। আমার স্বামী বিশ্বাস করেন যে একজন ব্যক্তিকে সত্যিকার অর্থে সাহায্য করতে হলে, তাদের জীবনকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে হবে। একসাথে ১০০০০০(এক লাখ) টাকা, আমরা তাদের দাঁড়ানোর একটি নতুন সুযোগ দেওয়ার চেষ্টা করছি আমাদের স্বপ্ন যে আজ যারা সহায়তা পাচ্ছেন তারা একদিন সমাজের অন্যান্য অসহায় মানুষের জন্য দাঁড়াবেন।"


অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন রমজানুল ইসলাম বিজয়।এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সরকারি  সিটি কলেজের অর্থনিতি বিভাগের  অধ্যক্ষ হুমায়ুন কবির, সৈয়দ রুহুল আমিন মেমোরিয়াল একাডেমির সিইও  আব্দুর সাত্তার বিএসসি , সাবেক চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সাধন, মির্জা সোলায়মান, ছওলোনিয়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামাল উদ্দিন, সৈয়দ হারুনের স্ত্রী সৈয়দা সাজেদা আক্তার  শেলী, ছোট মেয়ে সৈয়দা তনিমা তাসনিম, ছেলে সৈয়দ রাহাত, স্থানীয় প্রজেক্টের সদস্যরা।

Tag
আরও খবর