সন্তানকে দানের পরও আজীবন সম্পত্তিতে বাবা-মার অধিকার, আইন পাস নিয়ামতপুরের ছাতড়া গরুহাটির প্রধান সড়ক দখল করে মার্কেটের সিঁড়ি, চরম দুর্ভোগে পথচারী, ১১দলীয় জোটের লংমার্চে জাতি কি পেলো ১১দলীয় জোটের লংমার্চে জাতি কি পেলো জামায়াতের কার্যক্রমে অসন্তোষ, শার্শায় বিএনপিতে ২০ পরিবারের ৫০ সদস্য অভয়নগরে নারিকেল গাছের পাতা কাটার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু রায়পুরে বসতঘরে আগুন, পুড়ে ছাই ১৫টির বেশি ঘর আশাশুনির বুধহাটাসহ ৪ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী যুবদলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে ---------- সাবেক এমপি কাজী আলাউদ্দীন লালপুরে পদ্মার চরে সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প " পরিদর্শনে চীনের দল ফটিকছড়ি উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মুহাম্মদ নাছির উদ্দীনের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল মানবতার আহবান ফাউন্ডেশন কতৃক বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচী সম্পন্ন মধুপুরে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উদযাপন শ্যামনগরে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে এক খামারীর মৃত্যু রাষ্ট্রায়ত্ত ৬ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ দেড় লাখ কোটি টাকা: অর্থমন্ত্রী প্রথমবার নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল, বরণে জনসমাগম ব্যাপক রোহিঙ্গা সংকট আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্যও হুমকি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চৌদ্দগ্রামে যাত্রা শুরু করল গ্রীণ ভিউ-২ হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট শেরপুরে সার ডিলারদের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক, কৃষকদের ন্যায্যমূল্যে ও সময়মতো সার সরবরাহ নিশ্চিতের নির্দেশ হকার্স মার্কেটের সমস্যা সমাধানে ব্যবসায়ীদের পাশে বরিশাল বিসিসি প্রশাসক” বাংলাদেশের পোল্ট্রি খামারে ভেষজ চর্চা নিয়ে নতুন গবেষণা

গৃহকর্মী-যৌনকর্মীদের ‘শ্রমিক’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সুপারিশ

দেশচিত্র নিউজ ডেস্ক

প্রকাশের সময়: 19-04-2025 08:33:29 pm

১৫টি মূল বিষয়সহ ৪৩৩টি সুপারিশ করেছে নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশন। শনিবার (১৯ এপ্রিল) বিকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে এই প্রতিবেদন হস্তান্তর করে কমিশন। এ সময় কমিশনের সদস্যরা প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ প্রধান উপদেষ্টার সামনে তুলে ধরেন। সুপারিশগুলোর মধ্যে আছে- শ্রম আইনে গৃহকর্মী ও যৌনকর্মীদের শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান। এটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে বাস্তবায়ন করা সম্ভব বলে মনে করে নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশন।



প্রতিবেদনে একই সময়ে বাস্তবায়ন করার মতো শ্রম খাতে অন্যান্য সুপারিশের মধ্যে আছে—- সব খাতে ৬ মাস বা ২৪ সপ্তাহ পূর্ণ বেতনে প্রসূতি, প্রসব ও দত্তকজনিত ছুটি নিশ্চিত করা। শ্রম আইনে “প্রসূতি কল্যাণ” পরিবর্তন করে “প্রসূতি অধিকার” লেখা এবং গর্ভধারণ থেকে প্রসবোত্তর ছুটিতে থাকাকালীন সময়ে চাকরিচ্যুতি নিষিদ্ধ করাসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য সুযোগ সুবিধা অর্ন্তভুক্ত করা। পাশাপাশি সব খাতে ২ সপ্তাহ পূর্ণ বেতনে পিতৃত্বজনিত ছুটি নিশ্চিত করা।


এছাড়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে বাস্তবায়ন করার মতো আরও দুটি শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ক সুপারিশ হচ্ছে- অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে নারীর কাজের স্বীকৃতি দেওয়া, গণপরিবহন আইনে সহিংসতা ও যৌন হেনস্তা নিরসনে সুনির্দিষ্ট ধারা অর্ন্তভূক্ত করা ও তার প্রয়োগ।


এছাড়া পরবর্তী সরকারের মেয়াদে বাস্তবায়নযোগ্য শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ক সুপারিশের মধ্যে আছে- সব খাতে নারী ও পুরুষ শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরী নির্ধারণ করা, যাতে মজুরী বৈষম্য নিরসন হয়। ন্যূনতম মজুরী বৈশ্বিক মানদণ্ডের সঙ্গে মিল রেখে প্রতি বছর পুনর্মূল্যায়ন করা এবং বাঁচার মতো মজুরীর জন্য নীতি প্রণয়ন করা।


নারী শ্রমিকদের নিরাপদ অভিবাসনের জন্য বেশ কিছু সুপারিশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। এর মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বাস্তবায়ন করার মতো সুপারিশগুলো হচ্ছে- অভিবাসী নারী শ্রমিক ও প্রত্যাগত নারী শ্রমিকদের জন্য বিদ্যমান অভিবাসন আইন, বিধি ও নীতিতে প্রয়োজনীয় সংশোধন করা- যাতে তাদের সর্বোচ্চ সুরক্ষা, সম্মান ও কল্যাণ নিশ্চিত হয়। অভিবাসী নারী শ্রমিকদের জন্য নিরাপত্তা ও সহায়তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক ও দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সম্পাদন ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা, যাতে পরিবীক্ষন ব্যবস্থা জোরদার এবং ত্রৈমাসিক ও বার্ষিক প্রতিবেদন নিশ্চিত হয়।


এছাড়া আছে প্রত্যাগত নারী অভিবাসী শ্রমিকদের পুনঃএকত্রীকরণ ও কর্মসংস্থান সহজ করতে খসড়া পুনঃএকত্রীকরণ নীতি অনুমোদন ও বাস্তবায়ন করার সুপারিশ।


নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনে আকাঙ্ক্ষা হিসেবে বলা হয়েছে- সব খাতে শোভনকাজ ও বাঁচার মতো মজুরীসহ অধিক সংখ্যক নারী অভিবাসনের ব্যবস্থা নেওয়া, যেখানে তারা আন্তর্জাতিক শ্রম ও অভিবাসন আইনের সব সুযোগ-সুবিধা পাবেন এবং তাদের কর্মপরিবেশ ও মর্যাদা বর্তমানের চেয়ে উন্নত হবে।


প্রতিবেদনে সংবিধান আইন ও নারীর অধিকার: 


সমতা ও সুরক্ষার ভিত্তি, নারীর অগ্রগতির জন্য প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা ও জাতীয় সংস্থাসমূহ, নারীর স্বার্থ ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিকেন্দ্রীকরণ ও স্থানীয় পর্যায়ের উন্নয়ন, নারী ও মেয়ে শিশুর জন্য সহিংসতা মুক্ত সমাজ, জনপরিসরে নারীর ভূমিকা: জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে, জন প্রশাসনে নারীর অংশগ্রহণ, নারীর অগ্রগতির জন্য শিক্ষা, প্রযুক্তি ও দক্ষতাবৃদ্ধি, সব বয়সী নারীর জন্য সুস্বাস্থ্য, অর্থনীতিতে অংশগ্রহণ ও সম্পদের অধিকার, শ্রম ও কর্মসংস্থান, নারী শ্রমিকের নিরাপদ অভিবাসন, দারিদ্র্য কমাতে টেকসই সামাজিক সুরক্ষা গণমাধ্যমে নারীর অংশগ্রহণ, চিত্রায়ন ও প্রকাশ , ক্রীড়া ও সংস্কৃতিতে নারীর অর্ন্তভুক্তি ও বিকাশ এবং দুর্যোগ ও জলবায়ু পরিবর্তনে নারী বিষয়ে সুপারিশ করা হয়েছে।


প্রতিবেদন বিষয়ে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রধান শিরীন পারভিন হক বলেন, ‘আমরা প্রতিবেদনে সব মিলিয়ে ৪৩৩টি সুপারিশ দিয়েছি। আমরা মনে করি, ৪৩৩টির মধ্যে যদি ২০০টিও বাস্তবায়ন হয়, তাহলেও আমরা অনেকটা এগিয়ে যাবো। আমাদের সুপারিশগুলো ৩টি ভাগে করেছি। আমরা মনে করি, এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় করা সম্ভব, দ্বিতীয়ত আমরা মনে করছি, এর পরের যে সরকার আসবে, যেই মেয়াদেই হোক না কেন, সেই সময়ের মধ্যে কী করা যায়- সেটাকে আমরা আলাদা ভাগ করেছি। আরেকটি ভাগ হচ্ছে, নারী আন্দোলনের যে চিরন্তন আকাঙ্ক্ষা ‘স্বাধীনতা’ এবং সেই স্বাধীনতা পেতে হলে, নারীর যদি সত্যিকারের মুক্তি পেতে হয়, তাহলে আমরা কী করতে চাই, আমাদের আকাঙ্ক্ষা কী , স্বপ্ন কী- সেগুলো তুলে ধরেছি। আমরা জানি, অনেক কিছু নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হবে, আমরা সেই বিতর্ককে স্বাগত জানাই। কারণ আমরা মনে করি, এখন ২০২৫ সাল, হাই টাইম- এগুলো নিয়ে জনপরিসরে আলোচনা হোক, বিতর্ক হোক, জানাজানি হোক, মানুষ জানুক নারী কী চায়, নারীর স্বপ্নটা কী।’ 

আরও খবর