/ উন্নয়ন পরিকল্পনা ও ইতিবাচক

বৃদ্ধ পিতা-মাতার কথা ভাবতে হবে

সায়েম আহমাদ - রিপোর্টার

আপডেট: 07-04-2021 14:57:49

একজন মানুষের জীবনের অংশগুলোকে চার ভাগে ভাগ করা যায়, শিশু-কিশোর, যুবক,এবং বার্ধক্যে। শিশু-কিশোর এই দুইটি স্তরে মানুষেরা সাধারণত পিতা-মাতার উপর নির্ভরশীল থাকে, কারণ এ সময় তারা উপার্জনক্ষম থাকেনা। এই সময়ের যাবতীয় প্রয়োজন মেটানোর জন্য নির্ভরশীল থাকতে হয় কিন্তুু  যখন তারা যৌবনে পদার্পণ করে বা যুবক কাল অতিক্রম করে। এই সময়টাতে একজন মানুষ নির্ভরশীলতা থেকে বের হয়ে এসে আত্মনির্ভরশীল হয়ে ওঠে। তারা নিজেরা অর্থ উপার্জন করে এবং এই অর্থ দিয়ে তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ সুন্দর জীবন উপহার দেওয়ার চেষ্টা করে। পৃথিবীর প্রত্যেক পিতা-মাতায়  চায় যেন তার সন্তানের ভবিষ্যৎ জীবনটা সুখের হয়। আর এই চাওয়াটাকে সফল করার জন্য পিতা-মাতারা তাদের জীবনের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করে, এবং তাদের শরীরের সবটুকু শক্তি দিয়ে হলেও অতিরিক্ত অর্থ উপার্জন করে। আর এই অতিরিক্ত অর্থ উপার্জন করার জন্য পিতাকে অধিক পরিশ্রম করতে হয় যার ফলে একসময় ছেলেকে  প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে অল্প বয়সেই সে বার্ধক্য বরণ করে। তারা যখন বার্ধক্য বরণ করে তখনও তাদের কোনো আফসোস থাকে না কারণ তারা বিশ্বাস করে যে তাদের ছেলেরা যারা আজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তারাই তার বার্ধক্যের সময়টুকুতে তাদের ব্যয় ভার বহন করবে, তাদের যাবতীয় প্রয়োজন তারা মিটাবে। এ তো গেল পিতা-মাতার চিন্তা তাদের সন্তানদেরকে নিয়ে, কিন্তু বাস্তবের চিত্র টা সম্পূর্ণ ভিন্ন। আমরা যদি সমাজের দিকে লক্ষ দেই তাহলে বাস্তব কিছু চিত্র পরিলক্ষিত হয় পিতা মাতাকে নিয়ে সন্তানদের চিন্তার। পিতা মাতা যখন বৃদ্ধ হয় তখন তাদের সন্তানরা তাদে ভার নিতে চায় না।  সন্তানদের এমন চিন্তার পেছনের প্রধান কারণ হলো তাদের স্ত্রী যারা তাদেরকে মানে সন্তানদেরকে সবসময় চাপে রাখে যেন সে তার পিতা-মাতার সাথে সম্পর্ক না রাখে। অথচ যখন একজন সন্তান জীবনের দুটি স্তর পার করেছে যে সময় তারা ছিল নির্ভরশীল। আর তাদের যাবতীয় প্রয়োজন মেটাতো তাদের পিতামাতা একটা পর্যায়ে যখন সন্তানরা তাদের পিতা মাতাকে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসে তখন এসব পিতা-মাতা ধুকে ধুকে মৃত্যুবরণ করে। কারণ  বৃদ্ধ বয়সে একজন মানুষ সবসময় একাকী বোধ করে এসময়  সে সকলের সাথে একত্রে বসবাস করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। আর এই একাকীত্ব  থেকে তারা মৃত্যুবরণ করে, তাদের এই মৃত্যুকে সাধারণত মৃত্যু না বলে হত্যা বলাযকে অধিক যুক্তিসংগত বলে আমি মনে করি। এতক্ষণ যা আলোচনা করলাম তার অধিকাংশই শহর জীবনে ঘটতে দেখা যায়, কিন্তু গ্রামীণ জীবনে এমন চিত্র আর অপ্রত্যাশিত নয়। আমরা জানি গ্রামীণ জীবনের অর্থনৈতিক কাঠামো কৃষিনির্ভর। কিন্তু বর্তমানে শিল্পের ব্যাপক উন্নয়নের ফলে গ্রামীণ জীবনের যেখানে যৌথ পরিবার ছিল সেখানে এখন একক পরিবার অধিকমাত্রায় গঠিত হচ্ছে। যার ফলশ্রুতিতে  বৃদ্ধ পিতা মাতার প্রতি সন্তানের অবহেলার চিত্র হরহামেশাই দেখা যাচ্ছে। তাই যখন পিতা-মাতার নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের প্রয়োজন পড়ে তখন তাদের খবরও নেয় না তাদের সন্তানেরা। তবে আশার কথা হলো সরকারকর্তৃক ভাতা প্রদান,যা এইসব বৃদ্ধ পিতা-মাতার জীবনের একমাত্র  অবলম্বন।  অনেকে আবার ভিক্ষাবৃত্তির মাধ্যমেও জীবন নির্বাহ করে যদিও তাদের সন্তান জীবিত রয়েছে। সমাজের এমন অবস্থা থেকে রক্ষা করার জন্য চাই মানসিক পরিবর্তন, এবং ধর্মীয় শিক্ষা নিজেদের মধ্যে স্থাপন করা। যাতে করে বৃদ্ধ পিতা-মাতা এমন দুর্দশা লাঘব হয়, আর তা তখনই সম্ভব হবে যখন বিবেক নামক অতি মূল্যবান গুণটি আমাদের মধ্যে স্থাপিত হবে।

জাফরুল ইসলাম 

শিক্ষার্থী

 রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

Tag

Comments (0)

Comments