নাঙ্গলকোট উপজেলা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক গ্রেফতার দিনাজপুরে ১ কোটি ১৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগে ‘শাহীন স্টোরের’ বিরুদ্ধে মামলা শ্যামনগরে গাছ থেকে পড়ে এক ব্যবসায়ীর মৃত্যু নাগেশ্বরীতে ৬৩ পূজামণ্ডপের জন্য তৈরি হচ্ছে প্রতিমা: নিরাপত্তায় পুলিশের বিশেষ নজর ও পরিদর্শন নাগেশ্বরীতে ৬৩ পূজামণ্ডপের জন্য তৈরি হচ্ছে প্রতিমা: নিরাপত্তায় পুলিশের বিশেষ নজর ও পরিদর্শন শিল্পবর্জ্য ও দূষণের কারণে সুপেয় পানি কমছে : পানি সম্পদ মন্ত্রী জয়পুরহাটে মটর শ্রমিক ইউনিয়নের নবনির্বাচিত কমিটির অভিষেক ও শপথ কৃষকরাই দেশ গড়ার যোদ্ধা: রাষ্ট্রপতি লাখাইয়ে উর্ধ্বমুখী নিত্যপণ্যের দাম,অস্তিরতায় নিম্ন আয়ের মানুষ। জাতিসংঘ সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী আশাশুনি হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করনে নতুন ভবনের সয়েল টেস্ট উদ্বোধন তা’মীরুল মিল্লাতে আলিমে ভর্তি নিয়ে ভোগান্তির অভিযোগ, নির্বাচিত হয়েও ভর্তি হতে পারেননি অনেকে! দিনাজপুরে সম্ভাবনাময় পর্যটন শিল্পের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার আশ্বাস এমপি সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমের পীরগাছায় ছেলের হাতে বাবা খুন, ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন ১৬ বছরে পদার্পণ লালপুর উপজেলা প্রেস ক্লাব পীরগাছায় আল হাজরা ইয়াতিমখানার হাফেজ ছাত্রদের পাগড়ী প্রদান উপলক্ষে তাফসির মাহফিলের প্রস্তুতি ও সুধী সমাবেশ কবিরহাটে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা শেরপুরে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী জরিপ-এর প্রশিক্ষণ উদ্বোধন ঈশ্বরগঞ্জে নারী ও কন্যা শিশুর সহিংসতা নিরসনে আলোচনা সভা রূপালী ব্যাংকের গোপীনাথপুর শাখার নতুন ভবনের উদ্বোধন

অনুকূলে প্রকৃতি থাকলে রেকর্ড ফলনের সম্ভাবনা



মাঘ মাসের শুরুতেই সাতক্ষীরার আম বাগানগুলোতে ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য। গাছে গাছে হলুদাভ আমের মুকুলে ঢেকে গেছে শহর ও গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা। দীর্ঘদিন পর এমন ঘন ও সমানভাবে মুকুল আসায় আম চাষিদের মনে জেগেছে নতুন স্বপ্ন, যদিও সেই স্বপ্নের সঙ্গে জড়িয়ে আছে শঙ্কাও।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার পুরাতন সাতক্ষীরা, জোড়দিয়া, মুনজিতপুর, কুকরালি, ইটাগাছাসহ জেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে—বহু বছর পর এবার প্রায় সব আম গাছেই একসঙ্গে মুকুল এসেছে। অনেক বাগানে গাছের ডাল-পাতা ছাপিয়ে মুকুলের আধিক্য চোখে পড়ছে। এমন দৃশ্য দেখে চাষিরা বলছেন, প্রকৃতি সহায় হলে এবার আমের মৌসুম হতে পারে স্মরণকালের সেরা।

দেশের অন্যতম সুস্বাদু ও মানসম্মত আম উৎপাদনকারী জেলা হিসেবে সাতক্ষীরার সুখ্যাতি বহুদিনের। এখানকার আমের স্বাদ ও ঘ্রাণের কারণে দেশের বিভিন্ন জেলার পাশাপাশি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের কয়েকটি দেশে রপ্তানিও শুরু হয়েছে। চলতি মৌসুমে মুকুলের এই প্রাচুর্য সেই সম্ভাবনাকে আরও উজ্জ্বল করেছে।

মাঠপর্যায়ে কথা বলে জানা গেছে, পুরাতন সাতক্ষীরার আম চাষি আবু জাফর বলেন, এত ঘন মুকুল বহু বছর দেখিনি। আশা করছি ফলন ভালো হবে। তবে ভয়ও আছে—হঠাৎ ঝড় বা রোগে মুকুল ঝরে গেলে সব শেষ হয়ে যাবে।

জোড়দিয়া গ্রামের শেখ আমিনুর রহমান তিনটি স্থানে মোট নয় বিঘা জমিতে আম বাগান করেছেন। তিনি জানান, এখন পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে। যদি এমনই থাকে, তাহলে এবার ফলন রেকর্ড ছাড়াতে পারে।

অন্যদিকে মুনজিতপুর গ্রামের করিম প্রতিবছর আগাম আম বাগান কেনেন। তিনি বলেন, মুকুল আসার সময়টাই সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। আগেভাগে বাগান কিনে স্প্রে করি। মুকুল ভালো হলেও এখনো নিশ্চিন্ত হওয়ার সুযোগ নেই।

কুকরালি গ্রামের চাষি আবু সাঈদ বাস্তবতার কথা তুলে ধরে বলেন, মুকুল মানেই আম নয়। ঝড়-বৃষ্টি পার হয়ে গাছে আম দাঁড়াতে হবে। তবেই বলা যাবে ফলন কেমন হবে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত কয়েক বছরে কালবৈশাখী ঝড়, অনিয়মিত বৃষ্টি ও তাপমাত্রার হঠাৎ পরিবর্তনের কারণে অনেক বাগানে মুকুল ঝরে গেছে। পাশাপাশি ছত্রাকজনিত রোগ ও পোকার আক্রমণ ফলনের বড় শত্রু হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এ ছাড়া সার, কীটনাশক ও শ্রমিক খরচ আগের তুলনায় বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয়ও বাড়ছে।

চাষিরা অভিযোগ করেন, অনেক এলাকায় কৃষি বিভাগের নিয়মিত মাঠপর্যায়ের তদারকি নেই। সঠিক সময়ে সঠিক স্প্রে ও পরিচর্যার অভাবে অনেক সময় মুকুল নষ্ট হয়ে যায়। নজরুল ইসলাম বলেন, সময়মতো পরামর্শ পেলে অনেক ক্ষতি এড়ানো যেত। মুকুল পর্যায়ে স্পষ্ট নির্দেশনা খুব জরুরি।

সব শঙ্কার মাঝেও এবছর আমের মুকুল সাতক্ষীরার চাষিদের মনে বড় স্বপ্নের বীজ বুনেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে, রোগ-পোকার আক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখা গেলে এবং বাজারে ন্যায্য দাম পাওয়া গেলে চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরার আম দেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে চাষিদের ভাষায়—মুকুল থেকে আম, আর আম থেকে লাভ—এই পথ এখনো দীর্ঘ এবং অনিশ্চিত।

Tag
আরও খবর