সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় মানব পাচার ও চোরাচালান চক্রের চার সদস্য সেনাবাহিনীর ক্যাম্পে আত্মসমর্পণ করেছে। যৌথ বাহিনীর টানা অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতার মুখে পড়ে তারা আত্মসমর্পণে বাধ্য হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
জানা যায়, শ্যামনগর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় কুখ্যাত মানব পাচারকারী ও চোরাকারবারীদের ধরতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) যৌথভাবে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় ভেটখালী এলাকা থেকে কয়েকজন অপরাধী কৌশলে পালিয়ে গেলেও দিনব্যাপী যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান এবং গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রাখা হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় গত রবিবার (২১ ডিসেম্বর) বিকালে চারজন মানব পাচারকারী ও চোরাকারবারী কালীগঞ্জ সেনা ক্যাম্পে আত্মসমর্পণ করে। আত্মসমর্পণের পরপরই তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে রাতেই শ্যামনগর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) সকালে শ্যামনগর থানা পুলিশ তাদের সাতক্ষীরা আদালতে প্রেরণ করলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আত্মসমর্পণকারী চোরাকারবারীরা হলেন— শ্যামনগর উপজেলার সাহেবখালী গ্রামের রফিকুল ইসলাম ওরফে নেদা কয়াল, পশ্চিম কৈখালীর রেজাউল ইসলাম, কৈখালী গ্রামের হাফিজুর রহমান এবং পূর্ব কৈখালীর আব্দুর রহিম। তাদের বিরুদ্ধে সীমান্তপথে মানব পাচার, মাদক পাচারসহ ১২ থেকে ১৪ হাজার টাকার বিনিময়ে অবৈধভাবে মানুষ পারাপারের একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় ও গোয়েন্দা সূত্রে আরও জানা যায়, এসব অপরাধীর মধ্যে কয়েকজন সুন্দরবন এলাকায় সক্রিয় জলদস্যুদের সঙ্গে যোগসাজশে অস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহের সাথেও জড়িত ছিল। কালিন্দী ও রায়মঙ্গল নদীসহ সুন্দরবনের দুর্গম জলপথ ব্যবহার করে তারা নিয়মিত মাদকের চালান পারাপার করত বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ইতিপূর্বে কয়েকজন চোরাকারবারী আটক হলেও এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রেখেছিল। তবে একসঙ্গে চারজন চিহ্নিত অপরাধীর আত্মসমর্পণের ফলে সীমান্ত এলাকায় মানব পাচার ও চোরাচালানের প্রবণতা কিছুটা হলেও কমবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন গ্রামবাসী জানান, সীমান্ত এলাকায় এখনও আরিফ ওরফে গুলি আসলামসহ নৈকাটী, দুরমুজখালী ও গোলাখালী এলাকার আরও কয়েকজন চোরাকারবারী সক্রিয় রয়েছে। তাদেরও গ্রেপ্তার করা গেলে সুন্দরবন ও কৈখালী সীমান্ত দিয়ে মানব পাচার ও চোরাচালান কার্যক্রম অনেকাংশে বন্ধ হয়ে যাবে বলে তারা মনে করেন।
এ বিষয়ে শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ খালেদুর রহমান বলেন, যৌথ বাহিনী চারজন মানব পাচারকারী ও চোরাকারবারীকে রাতে থানায় হস্তান্তর করেছে। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। সোমবার সকালে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
৩ দিন ৯ ঘন্টা ৩ মিনিট আগে
১১ দিন ১৩ ঘন্টা ২৮ মিনিট আগে
১১ দিন ১৪ ঘন্টা ০ মিনিট আগে
১২ দিন ১০ ঘন্টা ২১ মিনিট আগে
১২ দিন ১০ ঘন্টা ৩৯ মিনিট আগে
১৩ দিন ৭ ঘন্টা ১৫ মিনিট আগে
১৩ দিন ১৪ ঘন্টা ৩৪ মিনিট আগে
১৩ দিন ২০ ঘন্টা ৩৮ মিনিট আগে