সাতক্ষীরার শ্যামনগরে ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অনিয়ম, স্বেচ্ছাসেবকদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার ( ৬ নভেম্বর ) সকাল ১১টায় সিপিপি উপজেলা কার্যালয় জেসি কমপ্লেক্সের সামনে শ্যামনগর পৌরসভার সিপিপি স্বেচ্ছাসেবকবৃন্দের উদ্যোগে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় পৌরসভার নারী–পুরুষ স্বেচ্ছাসেবকরা ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে এতে অংশ নেন।
ঘণ্টাব্যাপী কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন শ্যামনগর পৌরসভার সিপিপি টিম লিডার মোঃ আব্দুর রশিদ নান্টু, ১নং ইউনিট টিম লিডার নজরুল ইসলাম মুন্না, ২নং ইউনিট টিম লিডার ভবেসিন্দু মন্ডল, ৩নং ইউনিট টিম লিডার হাবিবুর রহমান, ৪নং ইউনিট টিম লিডার ইয়াছিন মোড়ল, ৫নং ইউনিট টিম লিডার রবীন্দ্রনাথ মন্ডল, ৬নং ইউনিট টিম লিডার শাহীন ভূইয়া, ৭নং ইউনিট টিম লিডার আব্দুর রশিদ নান্টু, ৮নং ইউনিট টিম লিডার হেলাল মাহমুদ, ৯নং ইউনিট টিম লিডার দেবাশিস গায়েনসহ আরো অনেকে।
বক্তারা অভিযোগ করেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সিপিপি’র শ্যামনগর সহকারী পরিচালক মুন্সি নুর মোহাম্মদ নীতিমালা ও বিধিবিধান উপেক্ষা করে সিপিপিকে ব্যক্তিগত প্রভাব বিস্তারের ‘বাণিজ্যিক সংগঠন’-এ পরিণত করেছেন। ২০২১ সালের সিপিপি স্বেচ্ছাসেবক নির্দেশিকা অনুযায়ী যোগদানের বয়সসীমা ১৮ থেকে ৩৫ বছর হলেও তিনি নিয়ম ভঙ্গ করে মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নে ৪০ বছরের বেশি বয়সী নিপা চক্রবর্তী এবং রমজাননগরে ১৬ বছর বয়সী তানিয়াকে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে নিয়োগ দেন।
অভিযোগ আরও উঠে আসে, কর্মকর্তার অনৈতিক নির্দেশনা না মানায় পদ্মপুকুর ইউনিয়নের নারী স্বেচ্ছাসেবক মাছুরাকে বিনা কারণে বাদ দেওয়া হয়। জেলা পরিষদ নির্বাচনে তার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট না দেওয়ায় রমজাননগরের আছমা মেম্বার ও কৈখালীর রাবিয়া মেম্বারের সিপিপি আইডি কার্ড প্রদানে অযথা বাধা সৃষ্টি করেন তিনি।
বক্তারা আরও জানান, কর্মকর্তা বিভিন্ন মিটিং–সেমিনার ও প্রশিক্ষণ কর্মশালায় স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে অশালীন ও অপমানজনক ভাষায় কথা বলেন। দুর্যোগের সময় জরুরি প্রয়োজনে তাকে ফোন করলে কল কেটে দেওয়া, অফিসে গেলে বিরক্তি প্রকাশ করা এবং স্বেচ্ছাসেবকদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে নিজের স্বার্থ হাসিল করাই তার নিয়মিত আচরণে পরিণত হয়েছে।
এছাড়া বেনামী অভিযোগের মাধ্যমে শ্যামনগর সদর ইউনিয়নের টিম লিডার মোঃ আব্দুর রশিদ নান্টুকে একাধিকবার মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করার অভিযোগও উঠে আসে। পরবর্তীতে আব্দুর রাজ্জাক নামে এক ব্যক্তির ভিডিও স্টেটমেন্টে জানা যায়, তার নাম ব্যবহার করে ইয়াসিন মোড়ল ও আব্দুর রশিদ নান্টুর নামে অভিযোগ দাখিল করেছিলেন ওই কর্মকর্তা।
স্বেচ্ছাসেবকরা আরো বলেন, জাতীয় পুরস্কার পাওয়ার ক্ষেত্রে অর্থের বিনিময়ে সহযোগিতা করা, নথি জাল করা ও পছন্দসই ব্যক্তিকে পুরস্কার পাইয়ে দেওয়ার মতো গুরুতর অপরাধেও জড়িত রয়েছেন মুন্সি নুর মোহাম্মদ। অভিযোগ অনুযায়ী রমজাননগরের স্বেচ্ছাসেবক ফারুক হোসেনকে পুরস্কার পাইয়ে দিতে তৎকালীন ইউএনওর কাছে জাল কাগজপত্র পাঠানো হয়, যেখানে প্রকৃত যোগ্য ব্যক্তি নজরুল ইসলামের তথ্য গোপন করা হয়।
এসব অনিয়মে ক্ষুব্ধ স্বেচ্ছাসেবকরা মানববন্ধন করে দ্রুত ওই কর্মকর্তাকে বদলির দাবি জানান এবং বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
৩ দিন ৯ ঘন্টা ১৫ মিনিট আগে
১১ দিন ১৩ ঘন্টা ৪০ মিনিট আগে
১১ দিন ১৪ ঘন্টা ১২ মিনিট আগে
১২ দিন ১০ ঘন্টা ৩৩ মিনিট আগে
১২ দিন ১০ ঘন্টা ৫০ মিনিট আগে
১৩ দিন ৭ ঘন্টা ২৭ মিনিট আগে
১৩ দিন ১৪ ঘন্টা ৪৬ মিনিট আগে
১৩ দিন ২০ ঘন্টা ৫০ মিনিট আগে