চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, তিন বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব জসিম উদ্দিন আহমদের ছবি-সংবলিত ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে উল্লাস করার অভিযোগে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলায় ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামী লীগ ও এলডিপির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
গত
১৪ সেপ্টেম্বর
বিকেল আনুমানিক
৫টার দিকে
সাতকানিয়া থানার কালিয়াইশ ইউনিয়নের বিওসির
মোড়সংলগ্ন চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগের
কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে
বলে এজাহারে
উল্লেখ করা
হয়েছে।
এ
ঘটনায় চন্দনাইশ
উপজেলার হাশিমপুর
ইউনিয়নের ব্যবসায়ী
মোহাম্মদ আব্দুল
কাদের সিকদার
(৬০) বাদী
হয়ে ১৫
সেপ্টেম্বর রাত ৩টায় সাতকানিয়া থানায়
এজাহার দায়ের
করেন।
এজাহারে
উল্লিখিত সাক্ষীরা
হলেন—এমএ
হাশেম রাজু
(৬৩), পিতা-মৃত এমএ
জলিল, উত্তর
হাশিমপুর, ২ নম্বর ওয়ার্ড; সিরাজুল
ইসলাম সওদাগর
(৬৫), পিতা-হাজী তাজুল
ইসলাম, চন্দনাইশ
পৌরসভার ৮
নম্বর ওয়ার্ড;
এবং মোরশেদুল
আলম চৌধুরী
(৪৫), পিতা-মৃত মুন্সি
আহমদ চৌধুরী,
চন্দনাইশ পৌরসভার
১ নম্বর
ওয়ার্ড।
মামলার
এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন—সাতকানিয়ার কালিয়াইশ
ইউনিয়নের ১
নম্বর ওয়ার্ডের
আবু সৈয়দের
ছেলে আপিল
উদ্দিন (৫২),
চন্দনাইশের হাশিমপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর
ওয়ার্ডের মৃত
দেলোয়ার হোসেনের
ছেলে সাইফুল
ইসলাম (৪৫),
সাতকানিয়ার কালিয়াইশ ইউনিয়নের ৫ নম্বর
ওয়ার্ডের আবদুল
গফফারের ছেলে
ইলিয়াছ বাবুল
(৫৫) এবং
পুরানগড় ইউনিয়নের
৫ নম্বর
ওয়ার্ডের সিরাজ
আহমদ চৌধুরীর
ছেলে কামাল
উদ্দিন চৌধুরী
বাঁচা (৪৮)।
এজাহারে
বাদী অভিযোগ
করেন, ঘটনার
দিন আসামিরা
দেশীয় অস্ত্র,
লাঠিসোঁটা, রড ও ইট নিয়ে
চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগের কার্যালয়ের
সামনে জড়ো
হয়ে সরকারবিরোধী
স্লোগান দিয়ে
মিছিল করেন। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি
ও জনমনে
আতঙ্ক সৃষ্টির
চেষ্টা করা
হয় বলে
অভিযোগ করা
হয়েছে।
একপর্যায়ে
তারা সড়ক
বিভাগের কার্যালয়ের
মূল ভবনে
থাকা জিয়াউর
রহমান, খালেদা
জিয়া, তারেক
রহমান ও
জসিম উদ্দিন
আহমদের ছবি-সংবলিত ব্যানার
ছিঁড়ে ফেলে
পায়ের নিচে
দিয়ে উল্লাস
করেন বলে
এজাহারে উল্লেখ
করা হয়েছে।
বাদীর
দাবি, খবর
পেয়ে চন্দনাইশ
ও সাতকানিয়া
উপজেলা বিএনপি
এবং অঙ্গসংগঠনের
নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে গেলে অভিযুক্তরা সেখান
থেকে পালিয়ে
যান।
মামলায়
আরও অভিযোগ
করা হয়েছে,
নিষিদ্ধ ঘোষিত
ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামী লীগ ও
বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের
নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগসাজশে আসামিরা সন্ত্রাসী
কর্মকাণ্ড, রাষ্ট্র ও সরকারের বিরুদ্ধে
ষড়যন্ত্র, নাশকতা এবং জনমনে আতঙ্ক
সৃষ্টির উদ্দেশ্যে
ঘটনাস্থলে অবস্থান করেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা
তদন্তের মাধ্যমে
নির্ধারিত হবে।
এদিকে
মামলার ১
নম্বর আসামি
আপিল উদ্দিন
অভিযোগ অস্বীকার
করে বলেন,
এটি বিএনপির
ত্যাগী নেতাকর্মীদের
হয়রানি এবং
‘হাইব্রিডদের’ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে
দায়ের করা
মিথ্যা মামলা। তাঁর দাবি, সড়ক ভবনকে
কেন্দ্র করে
আধিপত্য বিস্তার
ও ঠিকাদারদের
ভয়ভীতি দেখানোর
পাশাপাশি নিয়মিত
ঠিকাদার সমিতির
ব্যানার ছেঁড়ার
ঘটনা ঘটছে। এসব থেকে নিজেদের রক্ষা
করতেই বাদীপক্ষ
আগে মামলা
করেছে।
আপিল
উদ্দিন আরও
বলেন, তিনি
উত্তর সাতকানিয়া
উপজেলা বিএনপির
সাবেক প্রতিষ্ঠাতা
সভাপতি, সাইফুল
ইসলাম চন্দনাইশ
উপজেলা বিএনপির
সাবেক যুগ্ম
আহ্বায়ক, ইলিয়াছ
বাবুল সাতকানিয়া
যুবদলের সাবেক
সাধারণ সম্পাদক
এবং কামাল
উদ্দিন উপজেলা
এলডিপির সমর্থক। তাঁদের কেউ আওয়ামী লীগের
রাজনীতির সঙ্গে
জড়িত নন
বলেও দাবি
করেন তিনি।
মামলার
বিষয়ে সাতকানিয়া
থানার অফিসার
ইনচার্জ মোহাম্মদ
জাহাঙ্গীর আলমের বক্তব্য জানতে ফোন
করা হলে
তিনি ব্যস্ত
আছেন জানিয়ে
কল কেটে
দেন।
পরে
সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার
মো. আরিফুল
ইসলাম সিদ্দিকী
জানান, সন্ত্রাসবিরোধী
আইনে একটি
মামলা হয়েছে
বলে তিনি
শুনেছেন।
তবে বিস্তারিত
তথ্যের জন্য
থানার ওসির
কাছ থেকে
জানার পরামর্শ
দেন তিনি।
৩ দিন ২১ ঘন্টা ৪৬ মিনিট আগে
৬ দিন ১৮ ঘন্টা ৫৮ মিনিট আগে
১১ দিন ২ ঘন্টা ২৪ মিনিট আগে
১১ দিন ১৯ ঘন্টা ৪১ মিনিট আগে
১৪ দিন ২২ ঘন্টা ২ মিনিট আগে
১৫ দিন ৪ ঘন্টা ৩৪ মিনিট আগে
১৯ দিন ১৯ ঘন্টা ৭ মিনিট আগে
২০ দিন ৪ ঘন্টা ১৯ মিনিট আগে