পীরগাছায় জান্নাতুল মাওয়া মডেল মাদ্রাসার বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মাঝে নগদ অর্থ ও সনদপত্র বিতরণ মধুপুরে এনসিপি নেতার বিরুদ্ধে ফেসবুকে মিথ্যা, প্রোপাগান্ডামূলক ও মানহানিকর দুর্নীতির তথ্য প্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন বহুমুখী লড়াইয়ের আভাস বহুলীতে: বিকল্প ভাবমূর্তির খোঁজে বহুলীবাসী, ক্লিন ইমেজে নজর কাড়ছেন এস এম রঞ্জু পে-স্কেলের গেজেট কবে, চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি বিচার প্রশাসনে বড়সড় ওলটপালট দিনাজপুরে ১০কেজি ওজনের গাঁজার গাছ ও ৩হাজার পিচ ইয়াবাসহ ৩ মাদক ব্যবসায়ী আটক ‎মোংলায় ১২০ পিস ইয়াবাসহ আন্তঃজেলা মাদক কারবারি চক্রের তিন সদস্য গ্রেফতার যশোরে পারিবারিক কলহে ছাদ থেকে লাফিয়ে স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যার চেষ্টা, আশঙ্কামুক্ত নাসিরনগরে নবাগত ইউএনও এরফান উদ্দিনের সঙ্গে পরিচিতি ও মতবিনিময় সভা নাসিরনগর(ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি: রাজবাড়ীতে মোবাইল ব্যাংকিং প্রতারণা ডিবি পরিচয়ে ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ২ গোয়ালন্দে ৪০ বছরের শিক্ষকতা শেষে আব্বাস আলী মোল্লার অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা গোয়ালন্দে ২টি ওয়ান শুটার গান, কার্তুজ ও ১০টি ককটেল উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১ জুয়া প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানে ইসলামপুর থানার ওসি মিজানুর রহমান আজ লাখাইয়ে কৃষ্ণপুর গণহত্যা দিবস। আক্কেলপুরে রেললাইনের ওপর থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির খণ্ড-বিখণ্ড মরদেহ উদ্ধার নিরাপদ পানি ও কৃষির উপযোগী পানির দাবিতে শ্যামনগরে যুবদের মানববন্ধন লালপুরে ত্রিমুখী সংঘর্ষে মোটরসাইকেল আরোহী নিহত, আহত ২ ভালো অর্জনকে স্বীকৃতি দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী মহেশখালীর ফয়সালকে নির্মম ভাবে হত্যা করে খুনিদের পৈশাচিক হাসি আদমদীঘিতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে যুবদলের পরিচ্ছন্নতা অভিযান

৩৩ বছরে অচল রাকসুর সাড়ে ৩ কোটি টাকা গেল কোথায়?

ফাইল ছবি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) অচল রয়েছে ৩৩ বছর। নির্বাচন না হলেও একজন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে প্রতি বছর ছাত্র সংসদ ফি বাবদ নেওয়া হচ্ছে ১৫ টাকা, আবাসিক হোক কিংবা অনাবাসিক, তাকে বাধ্যতামূলক ৩০ টাকা হারে দিতে হচ্ছে হল সংসদ ফি। প্রায় তিন যুগ ধরে রাকসু অচল থাকলেও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এই খাতে ফি নেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

হিসাব কষে দেখা গেছে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীকে তার ৫ বছরের শিক্ষাজীবনে রাকসু বাবদ ফি দিতে হচ্ছে ২২৫ টাকা। দীর্ঘদিন নির্বাচন না হওয়ার ফলে তৈরি হচ্ছে না রাকসু বডি। এতে নির্দিষ্ট ফি দিয়েও একজন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতি-নির্ধারণে তার প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে পারছে না।


বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাবিতে বর্তমানে নিয়মিত শিক্ষার্থী আছেন ২৬ হাজার ৩১৫ জন। ফলে প্রতি বছর রাকসু ও হল সংসদ ফান্ডে জমা হচ্ছে ১১ লাখ ৮৪ হাজার ১৭৫ টাকা। শিক্ষার্থী সংখ্যা কিছুটা কমিয়ে ধরলেও ৩৩ বছরে কেবল রাকসু ফান্ডেই জমা থাকার কথা প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা। ছাত্র সংসদ ফি থেকে প্রাপ্ত এ টাকা আসলে কোথায় যাচ্ছে, এমন প্রশ্নের জবাবে রাকসুর কোষাধ্যক্ষ ড. মো. জাফর সাদিক বলেন, ছাত্র সংসদের টাকা ফান্ডেই জমা আছে। আমি যোগ দেওয়ার আগে একবার স্পোর্টস প্রোগ্রামের জন্য মনে হয় এখান থেকে খরচ করা হয়েছিল, এছাড়া আর কোনও খাতে রাকসুর টাকা খরচ হয়নি। রাকসু নির্বাচন যখন হবে, তখন নিয়মানুযায়ী যেভাবে টাকাটা খরচ হওয়ার কথা, সেভাবেই হবে।


নির্বাচন না দিয়ে ফি নেওয়া কতটা যৌক্তিক এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আপনি এসব প্রশ্ন সভাপতিকে জিজ্ঞাসা করেন। আমাকে নয়।’


তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. ফরিদ উদ্দিন খান রাকসু ফি নেওয়ার যৌক্তিকতা নেই উল্লেখ করে বলেন, ‘যেটি ফাংশনাল না বছরের পর বছর ধরে, সে খাতে শিক্ষার্থীদের কাছ ফি নেওয়া হচ্ছে। নীতিগতভাবে তো নয়ই, আইনগতভাবেও এর কোনো যৌক্তিকতা থাকার কথা নয়। রাকসু যেহেতু ফাংশন করছে না, আমি মনে করি এ বাবদ ফি আদায় অবিলম্বে স্থগিত করা উচিত।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী সাকলাইন গৌরব বলেন, ‘রাকসু নির্বাচনের খবর নেই, ছাত্র সংসদ অকার্যকর হয়ে আছে। অথচ প্রশাসন প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে অনৈতিকভাবে রাকসুর ফি নিচ্ছে। ৩৩ বছরে জমা ফান্ডের টাকার হিসাব কি তারা আদৌ দিতে পারবে?’


রাকসু আন্দোলন মঞ্চের সমন্বয়ক আব্দুল মজিদ অন্তর এ বিষয়ে বলেন, ‘আমরা সবার আগে চাই রাকসু নির্বাচন। রাকসু কার্যকর হলে, এ ফান্ডের অর্থ নিয়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিগণ প্রশাসনের কাছে কৈফিয়ত চাইবে। তবে যেহেতু দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন হচ্ছে না, সেক্ষেত্রে রাকসু ফি সাময়িকভাবে স্থগিত করা যেতে পারে।’

রাকসু ফান্ডে বর্তমানে কত টাকা জমা আছে এবং কী খাতে এই টাকা খরচ হয় তা জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক অবায়দুর রহমান প্রামাণিকের সাথে যোগাযোগ করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী অর্থ ও হিসাব সংক্রান্ত সার্বিক বিষয়ের তত্ত্বাবধানে থাকেন কোষাধ্যক্ষ। তবে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য দিতে রাজি হননি। 


বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম সাঊদের কাছেও একই প্রশ্ন নিয়ে হাজির হন এ প্রতিবেদক। তিনিও রাকসু ফি নেওয়ার যৌক্তিকতা প্রসঙ্গে কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. সুলতান-উল-ইসলাম বলেন, ‘রাকসু সম্পর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে রাকসুর সভাপতি অর্থাৎ উপাচার্যকে জিজ্ঞেস করুন। এ বিষয়টি নিয়ে আমার জায়গা থেকে কোনো মন্তব্য দেওয়ার সুযোগ নেই।’

রাকসু সম্পর্কিত এসব বিষয়ে কথা বলার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম সাব্বির সাত্তারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। উপাচার্য অফিসে সকল নিয়ম মেনেই দেখা করার সময় চাওয়া হয়। কিন্তু কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে মোবাইল ফোনে রাবি উপাচার্যের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তবে তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য দিতে রাজি হননি।

সাজ্জাদ হুসাইন / বিভি/ডিসি 


আরও খবর