রাজবাড়ীতে মোবাইল ব্যাংকিং প্রতারণা ডিবি পরিচয়ে ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ২
রাজবাড়ীতে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্য পরিচয়ে এক ব্যবসায়ীকে ভয় দেখিয়ে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে প্রতারক চক্রের দুই সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে সদর থানা পুলিশ। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ফরিদপুরের ভাঙ্গা ও মুন্সীগঞ্জের পদ্মা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার মটরা গ্রামের মৃত এরফান মাতুব্বরের ছেলে চাঁন মিয়া (৫৪) এবং একই গ্রামের রোকন মাতুব্বরের ছেলে হাফিজুল মাতুব্বর (৩০)।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ।
পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গ্রেপ্তারের সময় চাঁন মিয়া ও হাফিজুল মাতুব্বরের কাছ থেকে নগদ ২ লাখ ২২ হাজার ৫০ টাকা, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ছয়টি আধুনিক মুঠোফোন, দুটি সাধারণ মুঠোফোন এবং বিভিন্ন অপারেটরের ১২টি সিমকার্ড উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে রাজবাড়ী সদর উপজেলার আলাদিপুর গ্রামের এক ব্যবসায়ীর মুঠোফোনে কল করেন চক্রের সদস্যরা। তাঁরা নিজেদের ডিবি পুলিশের সদস্য পরিচয় দিয়ে ব্যবসায়ীর কলেজপড়ুয়া ছেলেকে মাদকসহ আটক করা হয়েছে বলে জানান। এরপর ছেলেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার কথা বলে ব্যবসায়ীর কাছে ৭০ হাজার টাকা দাবি করা হয়।
ছেলের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে ওই ব্যবসায়ী আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরে আলাদিপুর বাজারের বিভিন্ন দোকান থেকে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রতারকদের ৫০ হাজার টাকা পাঠান তিনি। টাকা পাঠানোর পর প্রতারকদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তাঁদের ব্যবহৃত মুঠোফোন বন্ধ পান ব্যবসায়ী।
এরপর তিনি বাড়িতে ফিরে দেখতে পান, তাঁর ছেলে অক্ষত অবস্থায় বাড়িতেই রয়েছেন। তখন তিনি বুঝতে পারেন, প্রতারকরা ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে মিথ্যা তথ্যের মাধ্যমে তাঁর কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী রাজবাড়ী সদর থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রতারকদের অবস্থান শনাক্ত করে বুধবার রাতে ফরিদপুরের ভাঙ্গা ও মুন্সীগঞ্জের পদ্মা থানা এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানে চাঁন মিয়া ও হাফিজুল মাতুব্বরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রাজবাড়ী সদর থানার ওসি উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয় দিয়ে কেউ ফোন করে ভয়ভীতি দেখালে বা টাকা দাবি করলে যাচাই না করে কোনো অর্থ পাঠানো উচিত নয়। এ ধরনের ফোন বা প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করার জন্য তিনি সাধারণ মানুষকে পরামর্শ দেন।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অপরিচিত ব্যক্তির ফোনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয় বা কোনো স্বজনকে আটকের দাবি করা হলে আতঙ্কিত না হয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ এবং বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি।
৩ ঘন্টা ২৬ মিনিট আগে
৩ ঘন্টা ২৯ মিনিট আগে
৩ ঘন্টা ৩০ মিনিট আগে
৩ ঘন্টা ৩৫ মিনিট আগে
৪ ঘন্টা ৪৯ মিনিট আগে
৪ ঘন্টা ৫২ মিনিট আগে
৫ ঘন্টা ২ মিনিট আগে