পে-স্কেলের গেজেট কবে, চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি বিচার প্রশাসনে বড়সড় ওলটপালট দিনাজপুরে ১০কেজি ওজনের গাঁজার গাছ ও ৩হাজার পিচ ইয়াবাসহ ৩ মাদক ব্যবসায়ী আটক ‎মোংলায় ১২০ পিস ইয়াবাসহ আন্তঃজেলা মাদক কারবারি চক্রের তিন সদস্য গ্রেফতার যশোরে পারিবারিক কলহে ছাদ থেকে লাফিয়ে স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যার চেষ্টা, আশঙ্কামুক্ত নাসিরনগরে নবাগত ইউএনও এরফান উদ্দিনের সঙ্গে পরিচিতি ও মতবিনিময় সভা নাসিরনগর(ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি: রাজবাড়ীতে মোবাইল ব্যাংকিং প্রতারণা ডিবি পরিচয়ে ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ২ গোয়ালন্দে ৪০ বছরের শিক্ষকতা শেষে আব্বাস আলী মোল্লার অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা গোয়ালন্দে ২টি ওয়ান শুটার গান, কার্তুজ ও ১০টি ককটেল উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১ জুয়া প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানে ইসলামপুর থানার ওসি মিজানুর রহমান আজ লাখাইয়ে কৃষ্ণপুর গণহত্যা দিবস। আক্কেলপুরে রেললাইনের ওপর থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির খণ্ড-বিখণ্ড মরদেহ উদ্ধার নিরাপদ পানি ও কৃষির উপযোগী পানির দাবিতে শ্যামনগরে যুবদের মানববন্ধন লালপুরে ত্রিমুখী সংঘর্ষে মোটরসাইকেল আরোহী নিহত, আহত ২ ভালো অর্জনকে স্বীকৃতি দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী মহেশখালীর ফয়সালকে নির্মম ভাবে হত্যা করে খুনিদের পৈশাচিক হাসি আদমদীঘিতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে যুবদলের পরিচ্ছন্নতা অভিযান এক বিদ্যালয়ের ৫০ শিক্ষার্থী অসুস্থ, কারণ খুঁজতে তদন্ত কমিটি গঠন বেগমগঞ্জের নিষিদ্ধ পলিথিন কারখানায় অভিযান, জরিমানাসহ কাচাঁমাল উদ্ধার বেগমগঞ্জে গাড়ির ধাক্কায় প্রাণ গেল স্কুলশিক্ষকের

চা শ্রমিকদের আন্দোলন ও কিছু কথা

ফাইল ছবি

◾ড. আবু সিনা ছৈয়দ তারেক 


দৈনিক ৮ ঘন্টা কাজে ৩০০ টাকা মজুরীর দাবীতে চা শ্রমিকরা ধর্মঘট করছেন গত কয়েক দিন ধরে। তাঁদের বর্তমান মজুরী দিনে ১২০ টাকা। সর্বশেষ খবরে জানা যায়, মালিক পক্ষ দৈনিক ১২০ টাকা থেকে ৩০ টাকা বাড়িয়ে ১৫০ টাকা দিতে রাজি হয়েছেন। কিন্তু ম্রমিকরা জানিয়ে দিয়েছেন তাঁরা ৩০০ টাকা মজুরী না দিলে কাজে যোগদান করবেন না, ধর্মঘট চালিয়ে যাবেন। ২০১৭ সালে আমি মৌলবী বাজার ও সিলেটের অনেক চা বাগান পরিদর্শনের সুযোগ পেয়েছিলাম। চা শ্রমিকরা মূলত: চা বাগানের আশে পাশে বসবাস করেন। কাজের সুবিধার জন্য মালিক পক্ষ সাধারণত: চা ফ্যাক্টরির পাশে সমতল জায়গায় তাদের জন্য বসতি নির্মান করে দেয়। ঘর গুলো সাধারণত: লম্বাকৃতির হয়। পার্টিশান করে প্রতিটি শ্রমিক পরিবারের জন্য একটি কক্ষ বরাদ্দ দেওয়া হয়। ফ্যাক্টরিতে বিদ্যুৎ সংযোগ থাকলেও শ্রমিকদের কলোনীতে বিদ্যুৎ এর সংযোগ চোখে পড়েনি। পয়:নিস্কাশন ব্যবস্থাও আদিম। কলোনীর আঙ্গিনায় মাটির চুলা তৈরী করে বন থেকে কাঠ সংগ্রহ করে তাদের রন্ধন কাজ করতে দেখেছি। মাটি দিয়ে অনেককে ঘর তৈরী করে থাকতেও দেখেছি। বেশ কয়েকটি পরিবারকে দেখেছি চা’য়ের কচি পাতা ভাজি করছে খাওয়ার জন্য। এটি নাকি তাদেরকে প্রায়ই খেতে হয়। কারণ, তাঁরা যে পারিশ্রমিক পান তা দিয়ে এর চেয়ে ভালো কিছু সংগ্রহ করা সম্ভব হয়না। চা শ্রমিকরা তাঁদের সন্তানদের লেখা-পড়ার সুযোগও খুব একটা দিতে পারেন না্। বড় রাস্তার পাশে কোন কোন জায়গায় হয়ত সরকারি প্রাইমারী স্কুল হয়েছে কিন্তু তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। এনজিও গুলো উপানুষ্ঠানিক প্রাথমিক শিক্ষার ব্যবস্থা করছে কোন কোন বাগানে, তবে তাও সীমিত। 


প্রতিটা চা বাগানের শ্রমিক চা বাগানের সাথে শিকলের শৃংখলে আবদ্ধ। প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে শ্রমিকরা চা বাগানে যায়, ৮ ঘন্টা ডিউটি করে, তারপর বিকেলে কলোনীতে এসে পাক করবে খায় এবং দ্রুত ঘুমিয়ে পড়ে। ঘরে যেহেতু বিদ্যুৎ নেই, কেরোসিন দিয়ে কুপি/হারিকেন জ্বালাতে হয়, তাই সজাগ থেকে কেরোসিন খরচ করার সামর্থ্য বা প্রয়োজন কোনটাই তাঁদের নেই। যারা সন্ধ্যা বেলায় ঘুমুবে না তারা মদ সংগ্রহ করে কিছুক্ষন মাতলামি করে ঘুমিয়ে পড়ে। মালিক পক্ষ শ্রমিকদের বিনোদনের জন্য মদ/তাড়ির সরবরাহ অবশ্য নিশ্চিত করে থাকে সেই ব্রিটিশ আমল থেকেই। এটিই তাদের একমাত্র বিনোদন।


চা শ্রমিকদের ৩০০ টাকা মজুরীর দাবিটা কি খুব বেশী অযৌক্তিক? বর্তমান বাজার মূল্যে চারজনের একটি পরিবারে তিন বেলা যদি মোটা চাউলের ভাতও খেতে হয় তাহলে দিনে কমপক্ষে দু’কেজি চাউল লাগে। দু’কেজি চাউলে ১২ জনে (তিন বেলা) খাওয়া কি খুব বেশী? আমি মনে করি অবশ্যই না। তাহলে দুু’কেজি চাউল কিনতেই যদি (৫০×২)১০০ টাকা খরচ হয়ে যায় তাহলে বাকী ২০ টাকা দিয়ে মাছ-মাংশ দুরে থাক, সবজিও তঁরা খেতে পারে না প্রতিদিন। তাই তাঁদের শেষ ভরসা কচি চা পাতা ভাজি। সামন্ত যুগে ইউরোপীয় সামন্ত প্রভূরা ভূমি দাসদের কিছু ভূমি দান করতো চাষ করে খাওয়ার জন্য। সামন্ত প্রভূরা এটা করতো যাতে কৃষি শ্রমিকরা শক্তি সঞ্চয় করে তাদের জমিতে কাজ করতে পারে। আমাদের দেশের চা শ্রমিকদের অবস্থা ইউরোপীয় সামন্ত সমাজের চেয়েও খারাপ। মালিক পক্ষ শ্রমিকদের পেট পুরে খাওয়ার ন্যুন্যতম মজুরি দিতেও রাজি হচ্ছে না। শ্রমিকরা যদি অভুক্ত থেকে চা বাগানে কাজ করতে যায়, তাহলে ভালো সার্ভিস কীভাবে দিবে? 


২০১৬ সালে আমি সৌদি আরবের জেদ্দা শহরে একরাত রাত্রি যাপন করেছিলাম। সেখানে একটি চা দোকানে ঢুকেছিলাম চা কিনবো বলে। দোকানটি ছিল একজন পাকিস্তানীর। আমি ভালো চা চাওয়াতে সে শ্রীলংকার ’লিপটন’ চা দেখালো। আমি বললাম, আমাদের বাংলাদেশে এর চেয়েও ভালো চা তৈরী হয়। একথা শুনে সে গরম হয়ে গেল এবং বলল বাংলাদেশে কিছু আছে নাকী? আমিও রেগে গেলাম দেশকে অপমান করেছে বলে এবং বললাম তুমি বাংলাদেশ সম্পর্কে কী জানো? সাথে সাথে ইন্টারনেট থেকে সিলেট এর ’লিপটন’ চা’র বাগান দেখালাম। এবার সে মাথা নীচু করে বললো আমি জানতাম না বাংলাদেশে চা উৎপাদন হয় এবং লিপটন চা বাগান তোমাদের দেশে রয়েছে। 


১২০ টাকা বেতনের চা শ্রমিকদের অবদানেই আমি সে দিন একজন পাকিস্তানীর মাথা নীচু করতে পেরেছিলাম। চা বগান মালিকদের অনুরোধ করছি দিননা, তাদের পারিশ্রমিক ৩০০ টাকা করে। ৮ ঘন্টার পারিশ্রমিক ৩০০ টাকা কী খুব বেশী। চা শ্রমিকদের বাঁচিয়ে রাখুন তাঁরা আপনাদের নিরাশ করবে না।


লেখক :ড. আবু সিনা ছৈয়দ তারেক

সহযোগী অধ্যাপক, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ

ঢাকা কলেজ, ঢাকা

আরও খবর