রংপুর-৪ (পীরগাছা-কাউনিয়া) আসনে এক ভিন্ন রাজনৈতিক বার্তা নিয়ে মাঠে নেমেছেন বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ-মার্কসবাদী) মনোনীত প্রার্থী প্রগতি বর্মণ তমা। প্রচলিত রাজনীতির বাইরে দাঁড়িয়ে তিনি নিজেকে তুলে ধরছেন সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে।
নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামা অনুযায়ী, প্রগতি বর্মণ তমা পেশায় একজন গৃহশিক্ষক। মাসিক আয় প্রায় ২৫ হাজার টাকা। উল্লেখযোগ্য কোনো স্থাবর সম্পদ, বাড়ি কিংবা গাড়ির তথ্য নেই তার হলফনামায়। শিক্ষাগত যোগ্যতা মাস্টার্স ডিগ্রি। রাজনীতিতে যখন বিপুল সম্পদের প্রদর্শন সাধারণ ঘটনা, তখন তার এই স্বচ্ছ ও সাধারণ জীবনযাপনের চিত্র ভোটারদের মধ্যে আলাদা কৌতূহল তৈরি করেছে। প্রগতি বর্মণ তমা পীরগাছা উপজেলার গুয়াবাড়ী গ্রামের পীযুষ কান্তির কন্যা। তবে হলফনামায় বর্তমান ঠিকানা হিসেবে রাজধানীর ওয়ারী উল্লেখ করেছেন।
ছাত্র রাজনীতির ভেতর দিয়েই শুরু প্রগতি বর্মণ তমার রাজনৈতিক যাত্রা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তিনি সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সঙ্গে যুক্ত হন এবং পরবর্তীতে সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ভর্তি ফি বৃদ্ধি, শিক্ষাব্যবস্থার বাণিজ্যিকীকরণ, আবাসন সংকটসহ বিভিন্ন শিক্ষার্থী আন্দোলনে তিনি ছিলেন সক্রিয় মুখ।
শুধু ক্যাম্পাসকেন্দ্রিক আন্দোলন নয়, শ্রমিক-কৃষক ও নিম্নআয়ের মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামেও তাকে নিয়মিত মাঠে দেখা গেছে। বামপন্থী রাজনীতির আদর্শে বিশ্বাসী এই নেত্রী মনে করেন, রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণে শ্রমজীবী মানুষের স্বার্থ বরাবরই উপেক্ষিত।
নির্বাচনী প্রচারণায় প্রগতি বর্মণ তমা তুলে ধরছেন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বেকারত্ব, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য না পাওয়া এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের অব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো। তার ভাষায়, শোষণমুক্ত সমাজ গঠনে প্রয়োজন বিকল্প রাজনৈতিক শক্তির উত্থান।
পীরগাছা ও কাউনিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পথসভা ও গণসংযোগে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলছেন তিনি। অনেক ভোটারের কাছে তার সাধারণ জীবনযাপন, স্পষ্ট বক্তব্য ও আপসহীন রাজনৈতিক অবস্থান নতুন ধরনের আশার বার্তা হয়ে উঠছে।
তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশে একটা আকাঙ্খা তৈরি হয়েছে যে, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে। পরমতসঞ্চিতা থাকবে। যে উদ্দেশ্য নিয়ে আমরা গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করেছিলাম সেই বিষয়গুলো যাতে নিশ্চিত হয়। সেই প্রাথমিক ধাপ হিসেবে এই নির্বাচনটা সাধারণ মানুষের কাম্য ছিল। নির্বাচনটা সুষ্ঠুভাবে হওয়া দরকার। গত ১৫ বছর মানুষ সুষ্ঠু নির্বাচন দেখেনি। সেই পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
২ ঘন্টা ২ মিনিট আগে
৬ দিন ৩ ঘন্টা ১৮ মিনিট আগে
৭ দিন ৩ ঘন্টা ৩০ মিনিট আগে
৯ দিন ৩ ঘন্টা ৩৪ মিনিট আগে
৯ দিন ৪ ঘন্টা ১৯ মিনিট আগে
৯ দিন ৫ ঘন্টা ৩৮ মিনিট আগে
৯ দিন ১১ ঘন্টা ১২ মিনিট আগে