ঝিনাইগাতীতে কারিতাসের আয়োজনে ভার্মি কম্পোস্ট সার তৈরির ওপর প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত ‎মোংলায় কিশোরীকে ধর্ষণের দায়ে যুবক আটক: প্রলোভনের ফাঁদে বিপন্ন শৈশব কুলিয়ারচরে মাদকবিরোধী অভিযানে ইয়াবাসহ একজনকে আটকের পর ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারাদণ্ড নিয়ামতপুরে ৭নং শ্রীমন্তপুর ইউনিয়নে গনসংযোগ করছেন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী গোলাম মোর্শেদ আশাশুনির চাকলায় ওয়াপদা বেড়ীবাঁধ কেটে পাইপে লোনাপানি উত্তোলন বন্দের দাবীতে মানববন্ধন জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম আহ্বায়ক কমিটি মৌলভীবাজারের পরিচিতি সভা জাবিপ্রবিতে নবীনদের যুগোপযোগী দক্ষতা ও গবেষণায় জোর দেওয়ার আহ্বান শিবির সভাপতির নড়িয়ার কেদারপুরে মাদক বিরোধী র‍্যালি: ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের আহ্বান মন্ত্রিসভায় যুক্ত হচ্ছেন ৪ জন, রাতে শপথ ঝিনাইগাতীতে ভার্মি কম্পোস্ট সার তৈরির প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত শেরপুরে মাদক সেবনের দায়ে দুইজনের কারাদণ্ড শেরপুরে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী ও রিং জাল উদ্ধার, জনসম্মুখে ধ্বংস শেরপুর সদরে লাইসেন্সবিহীন এক করাতকলকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা প্রফেসর কাজী ফারুকী কল্যাণ ট্রাস্ট’–এর উদ্যোগে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা মিরসরাইয়ে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মিনাবাজার সড়ক সংস্কার করা হলো কৃষকদল নেতা আনোয়ারের উদ্যোগে নাগেশ্বরীতে ‘অরণ্য’র উদ্যোগে দিনব্যাপী ‘সবুজ উৎসব-২০২৬’ অনুষ্ঠিত নোয়াখালীতে মাদকবিরোধী অভিযানে ২জনের কারাদন্ড চৌমুহনী আবাসিক হোটেল থেকে আবারো অভিযানে গ্রেপ্তার ১২ দালাল ও হয়রানিমুক্ত সেবা নিশ্চিতের হুঁশিয়ারি বিভাগীয় কমিশনারের দেড় মাস বয়সী শিশুর মৃত্যু, বাবা পুলিশ হেফাজতে

নিষিদ্ধ পলিথিনে সয়লাব চৌমুহনী, প্রশাসনের না-ই নজরদারি

নিষিদ্ধ পলিথিনে সয়লাব চৌমুহনী,









নিষিদ্ধ পলিথিনে সয়লাব চৌমুহনী, প্রশাসনের না-ই নজরদারি                   


নোয়াখালী জেলার বানিজ্যিক শহর নামে পরিচিত চৌমুহনীতে অবৈধ ও নিষিদ্ধ পলিথিন কারখানায় ছেয়ে গেছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই, নেই কোনো অনুমোদন তাহলে প্রশাসনের নাকের ডগায় কিভাবে চলছে নিষিদ্ধ পলিথিন কারখানা এ নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এছাড়াও চৌমুহনীসহ বিভিন্ন স্থানে গোপনে গড়ে তোলা হয়েছে নিষিদ্ধ পলিথিনের কারখানা। এসব কারখানা থেকে বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়ছে নিষিদ্ধ পলিথিন।চৌমুহনী থেকে বিভিন্ন জেলা, উপজেলা,ইউনিয়ন ও কাঁচাবাজারে। এমন এলাকা পাওয়া দুষ্কর যেখানে পলিথিন ব্যাগের ব্যবহার নেই। এর ব্যবহার চলছে দেদারছে। শহর কিংবা গ্রামের মধ্যে কোনো তফাত নেই, সব জায়গায় ক্রেতারা বাজার করতে যায় খালি হাতে।আর ফিরে আসে পলিথিনের ব্যাগভর্তি বাজার নিয়ে। অনেক অসাধু ব্যবসায়ী গোপনে নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যাগ উৎপাদন ও বাজারজাত করছেন। তবে নিয়মিত অভিযান না থাকায় পলিথিনের বিক্রি ও ব্যবহার আগের তুলনায় অনেকাংশে বেড়ে গেছে। ফলে পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা বাড়ছে।


চৌমুহনীতে বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, অভিজাত রেস্টুরেন্ট, মুদি দোকান, কাঁচাবাজার থেকে শুরু করে ফুটপাতের প্রায় সব দোকানের পণ্য বহনে ব্যবহৃত হচ্ছে পলিথিন ব্যাগ। সহজলভ্য ও ব্যবহারে সুবিধা থাকায় ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ই ক্ষতির দিক বিবেচনা না করে পলিথিন ব্যাগ দেদারছে ব্যবহার করছেন।




তবে পরিবেশবিদরা বলছেন, নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যবহারে শাস্তির বিধান রেখে আইন করা হলেও কমেনি পলিথিন ব্যাগের ব্যবহার। পলিথিন ও প্লাস্টিক ব্যবহারে পরিবেশের ক্ষতির কথা চিন্তা করে ২০০২ সালে পলিথিন নিষিদ্ধ করা হয়। তখন বিকল্প হিসেবে কাগজ ও পাটের ব্যাগের প্রচলন শুরু হয়।পরবর্তী সময়ে আইনের প্রয়োগ না থাকায় পলিথিন বিক্রি ও ব্যবহার বেড়েছে জ্যামিতিকহারে।পলিথিন ব্যাগ বন্ধের আইন ও বিধিমালা রয়েছে।যারা এটা কার্যকর করবে তারা এটা করছে না। পরিবেশ অধিদপ্তরের নিয়মিত মনিটরিং ও অভিযান না চলার কারণে প্রকাশ্যে ব্যবহার হচ্ছে পলিথিন।


জানা যায়, গেলো বছর ২০২২ সালের ১৬ মার্চে চৌমুহনী দক্ষিণ বাজারের একটি কারখানায় অভিযান চালিয়ে একটি অবৈধ পলিথিন কারখানাকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছিলো বেগমগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান চৌধুরী।পরের মাসে (২৫ এপ্রিল) সোমবারে বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শামসুন্নাহার চৌমুহনী বিসিকে নিষিদ্ধ পলিথিন তৈরির করার অভিযোগে পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে এসপি প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং কারখানাকে ১ লাখ টাকা, ভাই ভাই প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিংকে ১ লাখ ও আল মদিনা প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং কারখানাকে ৫০ হাজার টাকাসহ মোট ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করে।কিন্তু অভিযান পরবর্তী কারখানাগুলো ফের নিষিদ্ধ পলিথিন তৈরি করছে প্রশাসনের নাগের ডগায়।


অনুসন্ধানে জানা যায়, চৌমুহনী শ্রী শ্রী রামঠাকুর মন্দির গেটের পূর্ব গলিতে একটি পলিথিন কারখানা রয়েছে।চলে নিষিদ্ধ পলিথিন তৈরি। নেই পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ও অনুমতি।কারখানার মালিক জানায় প্রশাসন অভিযান দিয়ে জরিমানা করে টাকা নিয়ে যায়। গোপনে পলিথিন তৈরি করে তারা।সব জায়গায় তৈরি হলে এখানে উৎপাদন হতে সমস্যা নেই তার। এসব নিউজ করে কোনো লাভ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এক পর্যায়ে সবার সাথে যোগাযোগ আছে বলেও জানান তিনি। অপরদিকে চৌরাস্তা বিসিক নগরীর ভিতরে কয়েকটি নিষিদ্ধ পলিথিন কারখানা রয়েছে। পাশাপাশি দক্ষিণ গোলাবাড়িয়াও কয়েকটি নিষিদ্ধ পলিথিন কারখানা রয়েছে। সিলগালা না করায় অভিযানের পর ফের চালু করে পলিথিন তৈরি করে এসব কারখানা। অনেকের মতে প্রভাবশালী ও প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই নাকি চলে এসব কারখানা।


এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের নোয়াখালী জেলার সহ-পরিচালক তানজিল তারেক বলেন, নিষিদ্ধ পলিথিন কারখানাগুলোতে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। মূল ব্যবসায়ীরা কৌশল পাল্টিয়ে ভ্রাম্যমাণভাবে পলিথিন উৎপাদন করছে। আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। নিষিদ্ধ পলিথিন কারখানাগুলোতে মোবাইল কোর্ট করে জরিমানা করা হয়েছে। অনেক কারখানা সিলগালাও করা হয়েছে।


এ বিষয়ে নোয়াখালী জেলা প্রশাসক দেওয়ান মাহবুবুর রহমান  বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে অনেক কারখানার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। চৌমুহনীসহ অন্যান্য জায়গায় নিষিদ্ধ পলিথিন কারখানায় অভিযান করা হয়েছে। অনেক কারখানা বন্ধ করা হয়েছে।

আরও খবর