প্রকাশের সময়: 06-11-2026 06:09:17 pm
জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবিপ্রবি) কোনো ধরনের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ বা পরীক্ষা ছাড়াই পাঁচজনকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে নিয়োগ দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংবেদনশীল দপ্তরগুলোতে এ ধরনের নিয়োগ নিয়ে বিভিন্ন মহলে কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি মাসের শুরু থেকেই এই পাঁচজন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবেদনশীল দপ্তরগুলোতে দায়িত্ব পালন করছেন। সরেজমিনে দেখা গেছে, উপাচার্যের কার্যালয়ে একজন, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরে একজন এবং রেজিস্ট্রার অফিসের ভেতরে দুজন ও বাইরে একজন কর্মরত রয়েছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, এই পাঁচজনের মধ্যে দুয়েকজন নিয়োগপত্র পেলেও অধিকাংশই এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক নিয়োগপত্র পাননি। দাপ্তরিক আদেশ ছাড়াই তাদের কাজ শুরু করার বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সাধারণ কর্মচারীদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
নিয়োগের কোনো বিজ্ঞপ্তি ও সিলেকশন কমিটি ছাড়াই লোক নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়," বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজের গতিশীলতা বজায় রাখতে এবং জরুরি প্রয়োজনে সম্পূর্ণ অস্থায়ী ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ছয় মাসের জন্য ৫-৬ জন লোককে বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে৷ উপাচার্য নির্বাহী ক্ষমতা বলে, অস্থায়ী ভিত্তিতে, ছয় মাসের জন্য লোক নিয়োগের ক্ষমতা রয়েছে। তাছাড়া, যেহেতু নিয়োগগুলো সম্পূর্ণ জরুরি ও অস্থায়ী ভিত্তিতে করা হয়েছে, তাই এক্ষেত্রে সিলেকশন কমিটি বা পূর্বানুমোদনের প্রয়োজন হয়নি৷ এ বিষয়ে ইউজিসির সাথে মৌখিক জানানো হয়েছে৷"
নিয়োগ প্রসঙ্গে জাবিপ্রবি উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আমির হোসেন বলেন," প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল রাখা এবং বিভিন্ন দপ্তরে জরুরি কাজের স্বার্থেই মূলত এই অস্থায়ী নিয়োগগুলো দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার ক্ষেত্রে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর ঘাটতি রয়েছে। নিয়মিত ও দীর্ঘমেয়াদী সার্কুলার বা বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া বেশ সময়সাপেক্ষ, তাই বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং দৈনন্দিন কার্যক্রম সচল রাখতে ইউজিসির নিয়মের মধ্যে থেকে সর্বোচ্চ ছয় মাসের জন্য তিনটি পদে অস্থায়ী ভিত্তিতে লোক নিয়োগ করা হয়েছে। পরবর্তীতে কাজের মূল্যায়ন সাপেক্ষে বা বিধি মোতাবেক পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রশাসন সবসময় স্বচ্ছতা ও নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে কাজ করতে বদ্ধপরিকর।"
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী বলেন, এভাবে হঠাৎ করে লোক নিয়োগ করলে প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয় এবং স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়।
এছাড়া নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে অধিকাংশেরই একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়টি বিভিন্ন মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই-পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও সংস্কারের দাবি জোরালো হলেও এই নিয়োগ ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে।
১ ঘন্টা ৩৫ মিনিট আগে
৩ ঘন্টা ১২ মিনিট আগে
৩ ঘন্টা ২৬ মিনিট আগে
৩ ঘন্টা ৩০ মিনিট আগে
৩ ঘন্টা ৫১ মিনিট আগে
৪ ঘন্টা ৩৯ মিনিট আগে
৮ ঘন্টা ৫৮ মিনিট আগে