একসময় কখনো সাইকেল, কখনো স্কুটি চালিয়ে বিদ্যালয়ে আসতেন তিনি। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে ছুটে আসতেন শিক্ষার্থীদের পাঠদান করতে। সেই বিদ্যালয় থেকেই দীর্ঘ ১৬ বছরের শিক্ষকতা জীবনের অবসরজনিত ইতি টানলেন সহকারী প্রধান শিক্ষক আলাউল কবির। বিদায়ের দিনে শিক্ষার্থীদের ফুল ছিটানো, স্কাউট দলের সম্মানজনক বিদায় আর সহকর্মীদের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে সজ্জিত প্রাইভেট কারে বাড়ি ফিরলেন তিনি। যে মানুষটি একদিন সাইকেল কিংবা স্কুটি চালিয়ে বিদ্যালয়ে এসেছেন, তাঁর বিদায় হলো ভালোবাসা ও সম্মানের এক অনন্য আয়োজনে।
চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার ওচমানপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আলাউল কবিরের বিদায় সংবর্ধনায় সৃষ্টি হয় আবেগঘন পরিবেশ। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাঁকে ফুলের মালা, ফুলের তোড়া, উত্তরীয়, ক্রেস্টসহ নানা উপহার দিয়ে সম্মান জানানো হয়। শিক্ষার্থীরা ফুল ছিটিয়ে তাঁকে বিদায় জানায়। স্কাউট দলের সদস্যরা তাঁকে এগিয়ে দেন প্রাইভেট কার পর্যন্ত। পরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনায় সজ্জিত প্রাইভেট কারে করে তাঁকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হয়।
১৯৯১ সালে মাত্র ১ হাজার ৫১২ টাকা ৫০ পয়সা বেতনে শিক্ষকতা জীবন শুরু করেন আলাউল কবির। প্রথমে মিরসরাইয়ের মাজেদা হক উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন তিনি। বাড়ি থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরের বিদ্যালয়ে যেতে বাসে চড়ার পাশাপাশি প্রায় তিন কিলোমিটার পথ হেঁটেও যাতায়াত করেছেন। এরপর জয়পুর পূর্ব জোয়ার আঙ্কুরের নেছা ওবায়দুল হক উচ্চ বিদ্যালয় ও বারইয়ারহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। সর্বশেষ ওচমানপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে টানা ১৬ বছর সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ বিদ্যালয়ে তিনি হিসাববিজ্ঞান ও গণিত বিষয়ে পাঠদান করতেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, গীতা পাঠ ও মানপত্র পাঠ করা হয়। বিদ্যালয়ের শিক্ষক শাহজাহান সিরাজের সঞ্চালনায় এবং প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ নুরুল আনোয়ারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ফিরোজ কবির। বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের সাবেক ক্রীড়া শিক্ষক নির্মল চন্দ্র নাথ, অভিভাবক সদস্য মহি উদ্দিন ও শিক্ষক প্রতিনিধি জোৎস্না আরা বেগম। সাবেক ক্রীড়া শিক্ষক নির্মল চন্দ্র নাথ, অভিভাবক সদস্য মহি উদ্দিন ও শিক্ষক প্রতিনিধি জোৎস্না আরা বেগম তাঁদের বক্তব্যে আলাউল কবিরের দীর্ঘ কর্মজীবন, আন্তরিকতা ও বিদ্যালয়ের প্রতি অবদানের কথা তুলে ধরেন। তাঁরা তাঁর সুস্বাস্থ্য ও সুন্দর অবসরজীবন কামনা করেন।
বিদায়ী শিক্ষক আলাউল কবির বলেন, শিক্ষকতা জীবনের দীর্ঘ পথচলায় অনেক স্মৃতি জমা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ভালোবাসা, সহকর্মীদের সহযোগিতা এবং বিদ্যালয় পরিবারের আন্তরিকতা আমাকে সব সময় অনুপ্রাণিত করেছে। বিদায়ের দিনে সবাই যেভাবে আমাকে সম্মান ও ভালোবাসায় সিক্ত করেছেন, তা আমার জীবনের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে থাকবে। সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ নুরুল আনোয়ার বলেন, আলাউল কবির দীর্ঘদিন ধরে এই বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। সহকর্মী হিসেবে তাঁর সঙ্গে কাটানো সময় আমাদের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর বিদায় আমাদের জন্য আবেগের, তবে তাঁর অবদান ও স্মৃতি বিদ্যালয়ের সঙ্গে জড়িয়ে থাকবে।
বিদ্যালয়ের সভাপতি ফিরোজ কবির বলেন, একজন শিক্ষক শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান দেন না, শিক্ষার্থীদের জীবন গঠনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। আলাউল কবির তাঁর দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর অবদান বিদ্যালয় পরিবার শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। আমরা তাঁর অবসরজীবনের সুস্বাস্থ্য ও সুখ-শান্তি কামনা করি।
৪ ঘন্টা ৪৬ মিনিট আগে
৫ ঘন্টা ০ মিনিট আগে
৫ ঘন্টা ১ মিনিট আগে
১৯ ঘন্টা ২৯ মিনিট আগে
১৯ ঘন্টা ৩২ মিনিট আগে
১৯ ঘন্টা ৩৩ মিনিট আগে
১ দিন ১১ ঘন্টা ৩২ মিনিট আগে