কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় ভিয়েতনাম জাতের নারিকেল গাছের ডাব বিক্রি করে আয় করেছে ৬০ হাজার টাকা। শুধু একটি গাছের ডাব বিক্রি বছরে এই টাকা আয় করেছেন উপজেলার দক্ষিণ ধুরুং দরবার রাস্তার মাথার ফার্মেসি ব্যবসায়ি মোহাম্মদ আমিন।
মোহাম্মদ আমিন জানান, কয়েক বছর আগে বাঁশখালী কৃষি অফিস থেকে ও স্থানীয় বিসমিল্লাহ নার্সারি থেকে সংগ্রহ করেছিলেন ১৪টি চারা সংগ্রহ করে নিজ বাড়ির চতুর্দিকে রোপন করে।এখন ৮টি গাছে ফলন দিচ্ছে। এর মধ্যে একটি গাছের ডাব বিক্রি করে এবছর ৬০ হাজার টাকা আয় হয়েছে ।
তিনি আরো বলেন, অনেক মুকুল ঝরে পড়ে যাচ্ছে। নাহলে ফলন আরো ভালো হত। রোধ করা সম্ভব হচ্ছেনা।
জানা যায়, ভিয়েতনামের নারকেল গাছের এই প্রজাতির নাম ‘ডুয়া এক্সিম লু’। এ জাতটি আবার দু’ধরনের। ‘সিয়াম গ্রিন কোকোনাট’ ও ‘সিয়াম ব্লু কোকোনাট’। সারা পৃথিবীতে এ পর্যন্ত দ্রুত নারকেল আসে এমন জাতের যেসব গাছের উদ্ভাবন ও চাষাবাদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে তার মধ্যে ভিয়েতনামের এই জাতটি সবচেয়ে বেশি আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এই গাছ একটানা ৭০/৮০ বছর পর্যন্ত ফল দিতে পারে। স্বাদে-গন্ধে, আকার ও পুষ্টিমানে এটি অসাধারণ। এর পানি অত্যন্ত মিষ্টি ও সুস্বাদু।
এছাড়া নিয়ম মতে রোপন ও যথাযথ পরিচর্যা করা হলে এ নারকেল গাছ সনাতনী গাছের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেশি ফল দেবে। গাছ ২ থেকে ৪ ফুট হলেই ফল ধরে। মাটিতে ছুঁই ছুঁই নারকেল মাটিতে বসেই পাড়া যাবে। লবণ সহিষ্ণু এই গাছ সব ধরনের মাটিতে চাষের উপযোগী। চারা পরিচর্যা করা সহজ। ঝড়ে বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে কম ক্ষতি হয়।
বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের মধ্য দিয়ে উন্নত জাতের এ নারকেলের জাতটি খাটো দুই জাতের নারকেলের চারা । সিয়াম গ্রিন কোকোনাট ডাব হিসেবে ব্যবহারের জন্য অতি জনপ্রিয়। এ জাতের রং সবুজ, আকার কিছুটা ছোট, প্রতিটির ওজন ১ কেজি ২০০ গ্রাম থেকে দেড় কেজি। ডাবে পানির পরিমাণ ২৫০ থেকে ৩০০ মিলি। গাছে প্রতিবছরে ৪০০ থেকে ৬০০টি ফল ধরে।
এছাড়া সিয়াম ব্লু কোকোনাটও অতি জনপ্রিয় জাত এটা ২০০৫ সালে উদ্ভাবন করা হয়।
এটা চাষীদের খুব পছন্দের জাত। চারা রোপণের আড়াই থেকে তিন বছরের মধ্যেই ফল ধরে। ফলের রং হলুদ। ওজন ১ কেজি ২০০ গ্রাম থেকে দেড় কেজি। ডাবের পানির পরিমাণ ২৫০ থেকে ৩০০ মিলি। ডাবের পানি অতি মিষ্টি ও জীবনী শক্তি বেশি হওয়ার কারণে এ জাতের ডাব বিদেশে রপ্তানি করা যায়। গাছে প্রতিবছরে ফল ধরে ৪০০ থেকে ৫০০টি। প্রায় সব ধরনের মাটি নারকেল চাষের জন্য উপযোগী। তবে অতি শক্ত, কাঁকর শিলাময় মাটি হলে প্রায় দেড় মিটার চওড়া ও দেড় মিটার গভীর করে তৈরি গর্তে জৈব পদার্থ সমৃদ্ধ উপরিভাগের মাটি ও সার দিয়ে ভরাট করে গাছ লাগালে গাছ সুন্দরভাবে বেড়ে উঠবে ও শুকনো মৌসুমে সেচের সুবিধা থাকলে অথবা বসতবাড়িতে সারা বছরই রোপণ করা যাবে। চারা রোপণের পরে প্রতি তিন মাস পর পর সার প্রয়োগ করতে হয়।
উপজেলা কৃষি অফিসার অসীম কুমার দাস বলেন,ভিয়েতনামী নারিকেল গাছে ফলন হয় ভালো, পরিচর্যা করলে ফলন আরও বৃদ্ধি পাবে। গাছ বড় হলে অনেকেই আর পরিমিত যত্ন নেয়না। ফলে গাছের মরকসহ নানা জটিলতা দেখা দেয়। নারিকেল গাছের মুকুল ঝরে গেলে উপজেলা কৃষি অফিসে যোগাযোগ করলে কার্যকর পরামর্শ নিতে পারবেন।
১ ঘন্টা ৯ মিনিট আগে
১ ঘন্টা ১৩ মিনিট আগে
১ ঘন্টা ৫১ মিনিট আগে
২ ঘন্টা ২০ মিনিট আগে
২ ঘন্টা ২৯ মিনিট আগে
৫ ঘন্টা ৫৬ মিনিট আগে
১ দিন ৩ ঘন্টা ৮ মিনিট আগে
১ দিন ৩ ঘন্টা ১০ মিনিট আগে