মুন্সি শাহাব উদ্দীন, চট্টগ্রাম
লোহাগাড়ার বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ মাটি খেকো চক্রের অবাধ ও বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ফসলি জমি, পাহাড় ও প্রাকৃতিক পরিবেশ। রাতদিন সমানতালে ট্রাক, ডাম্পার ও ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে কাটা হচ্ছে জমির উর্বর টপসয়েল এবং পাহাড়ের মাটি, যার ফলে এলাকার স্বাভাবিক ভূ-প্রকৃতি মারাত্মকভাবে পরিবর্তিত হয়ে পড়ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কৃষিজমির উপরিভাগের সবচেয়ে উর্বর স্তর টপসয়েল অপসারণের ফলে বহু জমি ইতোমধ্যেই অনুর্বর হয়ে পড়েছে। যে জমিগুলো একসময় ধান, সবজি ও বিভিন্ন মৌসুমি ফসল উৎপাদনে সমৃদ্ধ ছিল, সেগুলো এখন ধীরে ধীরে ফসলহীন ও অনুৎপাদনশীল পতিত জমিতে পরিণত হচ্ছে। এতে করে কৃষিজীবী পরিবারগুলো চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে।
অন্যদিকে, পাহাড় কেটে মাটি উত্তোলনের ফলে শুধু কৃষিজমিই নয়, পুরো এলাকার পরিবেশ ও প্রতিবেশ ব্যবস্থাও মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ছে। পাহাড়ি ঢাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বৃষ্টির মৌসুমে ভূমিধসের আশঙ্কা বাড়ছে। সেইসাথে প্রাকৃতিক পানি প্রবাহের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে জলাবদ্ধতা ও পানিসংকটের ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে।
কৃষিবিদের মতে টপসয়েল হলো কৃষির প্রাণ। এই স্তর গঠিত হতে শত শত বছর সময় লাগে, কিন্তু ধ্বংস হতে সময় লাগে মাত্র কয়েক ঘণ্টা। তাই এভাবে নির্বিচারে মাটি কাটা চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে কৃষি উৎপাদন ভয়াবহভাবে কমে যাবে এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, কিছু প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এই অবৈধ মাটি কাটার কার্যক্রম চললেও প্রশাসনিক নজরদারি তুলনামূলকভাবে দুর্বল। ফলে দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে মাটি খেকো চক্র।
স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত এ অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসনের কঠোর ও স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে শুধু লোহাগাড়া নয়, পুরো অঞ্চলের কৃষি ব্যবস্থা ও পরিবেশ ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।
১ ঘন্টা ২৭ মিনিট আগে
১ ঘন্টা ৫৩ মিনিট আগে
২ ঘন্টা ১৭ মিনিট আগে
৩ ঘন্টা ১৪ মিনিট আগে
৩ ঘন্টা ১৭ মিনিট আগে
৩ ঘন্টা ২৩ মিনিট আগে
৩ ঘন্টা ২৪ মিনিট আগে
৩ ঘন্টা ২৬ মিনিট আগে