প্রধানমন্ত্রী-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চান বলেই আওয়ামী লীগের মিছিল: সারজিস আলম পদ্মা ব্যারেজ হলে ২৪ জেলার অর্থনৈতিক রূপান্তর ঘটবে: পানি সম্পদ মন্ত্রী লোহাগাড়ায় ২ হাজার ইয়াবা ও বিদেশি পিস্তলসহ দুই যুবক গ্রেপ্তার গোয়ালন্দে ৪'শ রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান ও ওষুধ বিতরণ কর দেন, ভোটও দেন—তবু নাগরিক সেবাবঞ্চিত যশোর সিটি কলেজপাড়াবাসী *কক্সবাজারে মাদক মামলার ৩ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামী র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার* রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় চিরবিদায় নিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা এ.এফ.এম আমান উল্লাহ ছাত্রদলের উদ্যোগে খালেদা জিয়ার জীবন ও রাজনৈতিক সংগ্রাম নিয়ে রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ গোয়ালন্দে পাচারকালে সরকারি সার আটকের অভিযোগ, সন্ত্রাসী কায়দায় ছাড় নাগেশ্বরী উপজেলা প্রশাসন স্কুল এন্ড কলেজের ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল সম্পন্ন অষ্টম শ্রেণি চ্যাম্পিয়ন, সপ্তম শ্রেণি রানার্সআপ চট্টগ্রামে ট্যাংক দুর্ঘটনা পিয়াসের শেষ বিদায়ে কাঁদল মালিপাড়া, বাবাহারা ছোট্ট মেয়ে কালিগঞ্জে কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপের দল গঠনে বাছাই প্রতিযোগিতা কালিগঞ্জের নলতায় ইজিবাইক পরিবহন মালিক সমবায় সমিতির কমিটি গঠন ও আলোচনা সভা যশোরে এনসিপির নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন: শহরে আনন্দ মিছিল উলিপুরে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু আশাশুনি উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠতি ‎সুন্দরবনের ‘নানা ভাই’ বাহিনীর প্রধানসহ ১২ জনের আত্মসমর্পণ লাখাইয়ে কৃষি কর্মকর্তা সার পৌছে দিচ্ছেন কৃষকের হাতে,ব্যবসায়ীদের উপর রাখছেন কড়া নজরদারি। পাঁচবিবিতে মসজিদের ফ্যান চুরি করতে গিয়ে যুবক আটক ঢাকা শহরকে সিসিটিভির আওতায় আনার প্রকল্প পুনর্গঠন করা হচ্ছে

তেলের সংকটে বদলে যাচ্ছে চাষের ধরণ—শিবচরে ‘বিনা চাষে পাট’ নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত

“সংকটকে জয় করে মাঠে সবুজ বিপ্লব—বিনা চাষে দুলছে কচি পাটগাছ।”




মাঠজুড়ে সবুজের সমারোহ, কচি পাটগাছ বাতাসে দোল খাচ্ছে। কিন্তু এই দৃশ্যের পেছনের গল্পটা ভিন্ন—এ যেন সংকটকে জয় করার এক নিঃশব্দ বিপ্লব। মাদারীপুরের শিবচরে জ্বালানি তেলের সংকট যেখানে কৃষকদের হতাশার কিনারায় ঠেলে দিয়েছিল, সেখান থেকেই জন্ম নিয়েছে এক নতুন সম্ভাবনা—‘বিনা চাষে পাট চাষ’।

কয়েক সপ্তাহ আগেও চিত্রটা ছিল সম্পূর্ণ উল্টো। জমি প্রস্তুতের জন্য ট্রাক্টর চালাতে প্রয়োজনীয় তেলের অভাব, আর তার সঙ্গে বাড়তি খরচ সব মিলিয়ে পাট চাষ নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন কৃষকরা। অনেকেই ভাবছিলেন, এবার হয়তো পাট চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে হবে। কিন্তু কৃষকেরা থেমে থাকেননি। সংকটকে চ্যালেঞ্জ করেই খুঁজে নিয়েছেন বিকল্প পথ।

শিবচর উপজেলার বাশকান্দি ইউনিয়নের মির্জাকান্দি এলাকায় ও বহেরাতলা উত্তর ইউনিয়নের চরগজারীয়া ও পুরারটেক এলাকায়  গিয়ে দেখা যায়, চাষ ছাড়াই জমিতে সরাসরি পাট বপন করছেন কৃষকরা। প্রচলিত নিয়মে যেখানে জমি বারবার চাষ দিয়ে মাটি প্রস্তুত করা হয়, সেখানে এই নতুন পদ্ধতিতে সেই ধাপ পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়েছে। এতে একদিকে যেমন তেলের ব্যবহার কমেছে, অন্যদিকে উৎপাদন খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।

স্থানীয় কৃষক এসাহাক বেপারী বলেন, “তেলের সংকটে জমি চাষ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। পরে দেখি, আশপাশের কিছু কৃষক বিনা চাষেই পাট বুনেছে। আমিও চেষ্টা করি। এখন পর্যন্ত গাছের অবস্থা ভালোই মনে হচ্ছে।”

একই অভিজ্ঞতার কথা জানান আব্দুল গনি মিয়া। তার ভাষায়, “আমাদের এলাকায় কয়েক একর জমিতে এই পদ্ধতিতে পাট হয়েছে। শুরুতে ভয় ছিল, কিন্তু এখন মনে হচ্ছে সিদ্ধান্তটা ঠিকই ছিল।”

কৃষকদের এই আত্মবিশ্বাসের পেছনে রয়েছে পূর্ব অভিজ্ঞতা। কয়েক বছর ধরে তারা বিনা চাষে রসুন ও পেঁয়াজ চাষ করে আসছেন। সেই সফলতাই তাদের নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছে—প্রচলিত পদ্ধতির বাইরে গিয়েও কৃষি সম্ভব।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘বিনা চাষে চাষ’ বা জিরো টিলেজ পদ্ধতি বিশ্বজুড়েই ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এতে মাটির স্বাভাবিক গঠন অক্ষুণ্ণ থাকে, জৈব উপাদান নষ্ট হয় না এবং দীর্ঘমেয়াদে মাটির উর্বরতা বজায় থাকে। পাশাপাশি, কম যান্ত্রিক ব্যবহারের ফলে কার্বন নিঃসরণও কমে, যা পরিবেশের জন্য ইতিবাচক। তবে এই পদ্ধতির সাফল্য পুরোপুরি নির্ভর করে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর—মাটির ধরন, আগাছা নিয়ন্ত্রণ, সঠিক সময়ে বপন এবং প্রয়োজনীয় পরিচর্যা। 

শিবচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, “বিনা চাষে পাট চাষ পদ্ধতি এখনও পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে, তবে সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে এটি কৃষকদের জন্য লাভজনক ও পরিবেশবান্ধব একটি বিকল্প হতে পারে। বিষয়টি আরও কার্যকর ও টেকসই করতে বৈজ্ঞানিক গবেষণা জরুরি। আমরা এ বিষয়ে বিস্তারিতভাবে আলোচনা ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করছি।”

পাট—যাকে একসময় বলা হতো ‘সোনালী আঁশ’—বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এখনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশ্ববাজারে পরিবেশবান্ধব তন্তুর চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাটের গুরুত্বও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এই প্রেক্ষাপটে কম খরচে অধিক উৎপাদনের এমন উদ্যোগ দেশের পাটখাতকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।

শিবচরের এই পরিবর্তন তাই শুধু একটি অঞ্চলের কৃষি পদ্ধতির রূপান্তর নয়; এটি একটি বড় বার্তা—সংকটই কখনও কখনও নতুন সম্ভাবনার জন্ম দেয়। মাঠের কৃষকরা দেখিয়ে দিচ্ছেন, সীমাবদ্ধতার মধ্যেও উদ্ভাবনের পথ খোলা থাকে।

সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কৃষির এই অভিযোজন যদি সফল হয়, তবে ‘বিনা চাষে পাট চাষ’ শুধু শিবচরেই সীমাবদ্ধ থাকবে না—এটি ছড়িয়ে পড়তে পারে দেশের বিভিন্ন পাট উৎপাদনকারী অঞ্চলে। আর তখন হয়তো আবারও নতুন করে জেগে উঠবে বাংলাদেশের সেই চিরচেনা পরিচয়—সোনালী আঁশের দেশ।

Tag
আরও খবর