সাতক্ষীরা ইতিহাসের এক নিষ্ঠুর নির্মমতার নাম পাটকেলঘাটা পার কুমিরা গণহত্যা। ১৯৭১ সালের ২৩ এপ্রিল এই পাটকেলঘাটার সন্নিকটে পারকুমিরায় রাজাকারদের সহায়তায় পাক হানাদাররা ৭৯ জন নিরীহ মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করে।
যাদের পরিচয় পাওয়া গিয়েছিল সেই শহীদদের মধ্যে ছিলো পাটকেলঘাটা থানার পুটিয়াখালী গ্রামের শেখ আব্দুর রহমান, শেখ আলাউদ্দীন, শেখ সামছুর রহমান, শেখ বদরুদ্দীন, সালমত আলী, শেখ ফয়জুল ইসলাম, আজিজুর রহমান, সাজ্জাত আলী, বেলায়েত আলী, শামছুর রহমান, আজিজুর রহমান, আব্দুস সামাদ, কাশীপুর গ্রামের শেখ হায়দার আলী, তৈলকূপী গ্রামের আব্দুর রউফ, পারকুমিরা গ্রামের বিজয় পাল, কলাগাছির কার্ত্তিক মন্ডল, পারকুমিরার ষষ্ঠি কুন্ডু ও বিজয় পাল।
এর মধ্যে ৪৯ জনের লাশ পারকুমিরার বধ্যভূমিতে মাটি চাপা দিয়ে রাখা হয়। কাশীপুর গ্রামের শেখ হায়দার আলীকে পাকসেনারা জড়িয়ে আগুণ দিয়ে পুড়িয়ে মারে। যাদের পরিচয় পাওয়া যায় তাদের অনেককেই পরে পারিবারিকভাবে দাফন করা হয়। যাদের পরিচয় পাওয়া যায়নি তাদেরকে পারকুমিরার ওই বধ্যভূমিতে গণকবর দেওয়া হয়।
প্রসঙ্গত, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯২ সালে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী থাকাকালে কাশীপুর সফরকালে আশ্বাস প্রদান করেছিলেন, পারকুমিরা স্মৃতিস্তম্ভ নির্মিত হয়েছে।
তালা উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও যুবলীগের অন্যতমনেতা মাহবুব হোসেন মিন্টু বলেন,১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধে দখলদার পাকিস্তানি বাহিনী ও তার দোসররা পরিকল্পিত ভাবে মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ও শরনার্থী সহ নিরিহ নিরাস্ত্র মানুষের উপর এই নির্মম গনহত্যা চালায়।
শহীদ পরিবারের সন্তান তালা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ নুরুল ইসলাম সেই হত্যাযজ্ঞের লোমহর্ষক কাহিনী বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, সেদিন ছিল শুক্রবার। মসজিদে জুম্মার আযান হচ্ছিল। এ সময় তালার পাটকেলঘাটা থেকে পাকিস্তানি হায়েনারা পারকুমিরায় গিয়ে নিরীহ গ্রামবাসীকে আলোচনার কথা বলে একত্রিত করে। এ সময় সহজ সরল গ্রামবাসী সেখানে উপস্থিত হলে তাদের ওপর ব্রাশ ফায়ার করলে ঘটনাস্থলেই ৭৯ জন নিহত হয়।
এবং পারকুমিরায় আশ্রয় নেওয়া শরনার্থীদে ধরে পারকুমিরা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সামনে বধ্যভুমিতে এনে দড়িতে বেঁধে লাইন দিয়ে দাড় করিয়ে ব্রাসফায়ারে হত্যা করে। এছাড়া এলোপাতাড়ি গুলি করে যেখানে যাকে পায় তাকে হত্যা করে। অগ্নি সংযোগ করে গ্রাম জ্বলিয়ে দেয়। এই হত্যাকান্ডে আমার পিতা,বড়ভাই,চাচা,চাচতভাই সহ মোট ৭৯ জন শহীদ হন।মহান মুক্তি যুদ্ধে শহীদদের এই আত্নত্যাগ ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। বীর শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা। তাঁদের রুহের মাগফেরাত কামনা করি।
২৩ এপ্রিল "পাটকেলঘাটা গনহত্যা দিবস" (পুটিয়াখালি,পারকুমিরা,পাটকেলঘাটা) ঐ দিন ছিলো বাংলা ৯ বৈশাখ শুক্রবার। অতর্কিত হামলা চালিয়ে মুক্তি যুদ্ধে অংশগ্রহনকারি সদস্য, মসজিদ থেকে নামাজরত অবস্থায় মুসল্লিদের
২ ঘন্টা ৩২ মিনিট আগে
৩ ঘন্টা ৫২ মিনিট আগে
৪ ঘন্টা ৩৯ মিনিট আগে
৮ ঘন্টা ৫১ মিনিট আগে
১২ ঘন্টা ৯ মিনিট আগে
১২ ঘন্টা ২৬ মিনিট আগে
১৩ ঘন্টা ২ মিনিট আগে
১৩ ঘন্টা ৫২ মিনিট আগে