শান্তিগঞ্জে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের উদ্বোধন বিদ্যুতের চাপ কমাতে ধামরাইয়ে ছাদে সোলার স্থাপনের উদ্যোগ, অনুষ্ঠিত হলো অবহিতকরণ সভা লাখাই থানার অফিসার ইনচার্জ  (ওসি) মুহাম্মদ শরীফ আহমেদ হবিগঞ্জ জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি। ধামরাইয়ে তিন বাড়ির ফটকে রহস্যজনক সামগ্রী, আতঙ্কে এলাকাবাসী এনসিপি ছাড়লেন সামান্তা শারমিন নাঙ্গলকোটে জটিল রোগে আক্রান্তদের আর্থিক সহায়তা কমিটিকে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ফুল দিয়ে বরণ পিকআপে বডিতে লুকানো ৬২ হাজার ইয়াবা উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১ অনুসন্ধানী সাংবাদিক এহসান এর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন, স্মারকলিপি পেশ, মামলা প্রত্যাহার ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি শেখ হাসিনাকে ট্রাভেল পাস দেওয়া হবে না: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী দু-এক মাসের মধ্যে শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরি নির্ধারণ করা হবে: প্রধানমন্ত্রী ২০২৭ সালের সরকারি ছুটির তালিকা প্রকাশ করে প্রজ্ঞাপন ময়মনসিংহে রেলওয়ের জমিতে ১৮ তলা ভবন, বিপাকে ১০৫ জন শেয়ার হোল্ডার ঝিনাইগাতী সীমান্তে ১১ লাখ টাকার ভারতীয় পোশাক জব্দ কটিয়াদীতে ছুরিকাঘাতে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জনের ছেলে আহত জয়পুরহাটে বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে কিশোর নিহত, বিক্ষুব্ধদের আগুনে পুড়ল বাস ইরানকে সহায়তার অভিযোগে ভারত ও তুরস্কের ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা পরীমনি জামিন নিতে আদালতে অর্থনৈতিক ও অবকাঠামো সহযোগিতায় বাংলাদেশ-চীনের সমঝোতা স্মারক সই স্বর্ণের দামে বড় লাফ, ভরি কত জোরারগঞ্জ থানায় ছয় মাসে ১০৮ মাদক মামলা, গ্রেপ্তার ১২৬ কারবারি

শ্রেষ্ঠ পদক পাওয়া এএসপি ইমরুল হাসানের বিরুদ্ধে সরকারি গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের অভিযোগ

জামালপুরের ইসলামপুর সার্কেলে যোগদানের মাত্র ছয় মাসের মধ্যে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. ইমরুল হাসান তিনবার ময়মনসিংহ রেঞ্জ এবং একবার জেলার শ্রেষ্ঠ সার্কেল কর্মকর্তার পদক পেয়েছেন। ইতোমধ্যে অনেকেই তাঁকে সেবা প্রদানে 'আস্থার প্রতীক' আখ্যা দিয়ে খবর চাউর করেছেন। কিন্তু এসব পদক ছাপিয়ে এবার তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি গাড়ি (পুলিশ পিকআপ ভ্যান) ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের বিস্তর অভিযোগ উঠেছে। এনিয়ে প্রকাশ্যে মুখ না মুখলেও থানা-পুলিশের মাঝে চাপা ক্ষোভ লক্ষণীয়। 


তবে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করেন এএসপি ইমরুল হাসান। তাঁর দাবি, সততার মানদণ্ডে তিনি একাধিকবার শ্রেষ্ঠ সার্কেল কর্মকর্তা পদক পেয়েছেন।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইসলামপুর সার্কেল কার্যালয় ভবনের তৃতীয় তলায় পরিবারসহ বসবাস করেন এএসপি মো. ইমরুল হাসান। তাঁর ছেলে (শিশু হওয়ায় নাম ব্যবহার করা হলো না) পৌর শহরের গাঁওকুড়া এলাকায় ইসলামপুর-পচাবলা রোডস্থ ব্যক্তি মালিকানাধীন সূর্যমুখী বিদ্যাপিঠে ইংরেজি ভার্সনে প্রথম শ্রেণিতে পড়ে। বিদ্যালয়টিতে সকাল ৯টায় ক্লাস শুরু হয়ে দুপুর ১টায় ছুটি হয়।


অনুসন্ধানে দেখা গেছে, পুলিশ পিকআপযোগে নিয়মিত এএসপি ইমরুল হাসান তাঁর ছেলেকে বিদ্যালয়ে আনা-নেওয়া করেন। এ কাজে তিনি ক্ষমতার প্রভাব খাঁটিয়ে নিয়োজিত রেখেছেন তিনজন পুলিশ সদস্য। তাঁদের একজন গাড়ি চালক। অন্য দুইজন তাঁর ছেলেকে দেখভাল করেন।


সরেজমিনে দেখা গেছে, এএসপি ইমরুল হাসানের নামে ইস্যূ করা ঢাকা মেট্টো-ঠ ১৪-২৯৮৮ নম্বরের পিকআপ ভ্যানটি রাখা হয় সার্কেল কার্যালয়ের অদূরে ইসলামপুর থানা-গ্যারেজে। সেখান থেকে সকাল ৮টার পরে চালক মাহমুদুল হাসান সার্কেল কার্যালয়ের সামনে পিকআপটি নিয়ে আসলে কনস্টেবল এনামুল হক এএসপি ইমরুল হাসানের ছেলেকে বাসার তৃতীয় তলা থেকে হাত ধরে হেঁটে এনে পিকআপে উঠান। এরপর অডিটোরিয়াম মোড় হয়ে পুরাতন সাব-রেজিস্টার কার্যালয় রোড দিয়ে পাটনিপাড়া মোড়, রেলগেট দিয়ে সূর্যমুখী বিদ্যাপীঠের ফটকে পিকআপটি দাঁড় করান। পিকআপ থেকে এএসপির ছেলেকে নামিয়ে হাত ধরে বিদ্যালয়ের কক্ষে পৌঁছে দেন কনস্টেবল এনামুল হক। ক্লাস শুরু না হওয়া পর্যন্ত ওই দুই পুলিশ সদস্য সেখানে অবস্থান করেন। 

যানজট এড়াতে ঘুরপথে বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসায় অন্তত দেড় কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে এভাবেই নিয়মিত দায়িত্ব পালন করে আসছেন তিনজন পুলিশ সদস্য। এএসপি ইমরুল হাসান কনস্টেবল এনামুল হককে অন্য কাজে রাখলে, এক্ষেত্রে বডিগার্ড মাজহারুল ইসলাম তাঁর ছেলেকে দেখভালের দায়িত্ব পালন করেন। 


সূর্যমুখী বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক এমএইচ পলাশ বলেন, এএসপি ইমরুল হাসানের ছেলে আমাদের প্রতিষ্ঠানে প্রথম শ্রেণিতে পড়ে। তাঁকে পুলিশ পিক-আপ যোগে বিদ্যালয়ে আনা-নেওয়া করা হয়।


ইসলামপুর সার্কেল কার্যালয়ের পুলিশ পিকআপ ভ্যান চালক মাহমুদুল হাসান বলেন, 'সরকারি গাড়ি দিয়ে সার্কেল স্যারের ছেলেকে বিদ্যালয়ে আনা-নেওয়ার বিষয়ে সার্কেল স্যারের সঙ্গে কথা বলুন।'

সার্কেল কর্মকর্তার ছেলেকে পুলিশ পিকআপে বিদ্যালয়ে আনা-নেওয়ার দায়িত্বে থাকা কনস্টেবল এনামুল হক এবং বডিগার্ড মাজহারুল ইসলাম বলেন 'আমরা সার্কেল স্যারের অধীনে চাকরি করি। তিনি যেখানে গাড়ি নিয়ে যেতে বলেন, আমরা সেখানেই গাড়ি নিয়ে যেতে বাধ্য। এর বাইরে কিছু বলতে পারব না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কনস্টেবল বলেন, 'ক্ষমতার দাম্ভিকতা দেখাতে অযথা সার্কেল কর্মকর্তা হেনেস্তা করেন। চাকরি হারানোর ভয়ে তাঁর বিরুদ্ধে কেউই মুখ খোলার সাহস পাই না। তাঁর যোগদানের সময় থানায় ১২-১৪ জন এসআই ছিলো। এখন সাতজন আছে। সরকারি গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা হলেও সার্কেল কর্কর্তার বিরুদ্ধে কারোর কথা বলার সুযোগ নেই।'

এবিষয়ে এএসপি মো. ইমরুল হাসান বলেন 'সততার মানদণ্ডে আমাকে একাধিকবার শ্রেষ্ঠ পদক দেওয়া হয়েছে। আমার অযথা অভিযোগ তোলে লাভ নেই। আমার ছেলেকে বর্তমানে বিদ্যালয়ে পাঠানো হচ্ছে না।'


যোগাযোগ করা হলে জামালপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মোছা. ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, 'আপনি আমার অফিসে আসেন। বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বুঝিয়ে দেব। মোবাইল বলতে চাচ্ছি না।:

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুহাম্মদ মানিক মিয়া বলেন, 'সরকারি গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। এটা আইনের পরিপন্থী। সরকারি গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার রোধ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্তসাপেক্ষে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারবেন।'

আরও খবর