বরিশাল রুপাতলীর মহাসড়ক এখন ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের দখলে! সাংবাদিকের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ রোহিঙ্গা সংকটকে ভুলে যাওয়া সংকটে পরিণত হতে দেওয়া যাবে না : হুমায়ুন কবির লোহাগাড়ার সাংবাদিক জগতের নক্ষত্র এম এম আহমদ মনির অসুস্থ নয়া রাষ্ট্রপতিকে যুক্তরাষ্ট্রের অভিনন্দন সেনবাগের ছিলোনিয়া ইউনিয়ন হাই স্কুল অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের গঠনতন্ত্রে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর নোয়াখালীর সেনবাগে পুলিশের বিশেষ অভিযান: ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ৫, দুই মাদকসেবীর কারাদণ্ড ক্ষেতলালে ডিবি ও পুলিশের যৌথ অভিযান: নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা রাসেলসহ আটক ২, পাঠানো হলো কারাগারে উলিপুরে ভাওয়াইয়া শিল্পী কছিম উদ্দিনের ৩৪ তম মৃত্যু বার্ষিকী পালিত ক্ষেতলালে ১ হাজার সিম ও ১৯টি স্মার্টফোনসহ অনলাইন জুয়াড়ি গ্রেপ্তার কালাইয়ে মাদকাসক্ত স্বামীর নির্যাতনে স্ত্রীর মৃত্যু সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ শ্যামনগরের শিক্ষক ও কবি সুপদ বিশ্বাস আর নেই ইটাখোলা বাজার কুলি শ্রমিক ইউনিয়নের ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন কাল সেনবাগে রাত ৮টার পরও দোকানপাট খোলা: সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন মৌলভীবাজার জেলা মডেল মসজিদের ইমামের অপসারণ দাবি এলাকাবাসীর আশাশুনির কাদাকাটিতে নিত্যপণ্য ন্যায্যমূল্যে বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন সংযোগ সড়কের অভাবে ঝিনাইগাতীর দিঘীরপাড়ে ৫০ পরিবারের দুর্ভোগ কলকাতার অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৫ বাংলাদেশির মরদেহ বেনাপোল দিয়ে দেশে ফিরেছে লাখাইয়ে মাদক মামলায় ১বছরের সাজাপ্রাপ্ত মাদক কারবারি গ্রেফতার।

গণমাধ্যমে আগুন: স্বাধীনতার সীমানা কোথায়?

প্রথম আলোর প্রধান কার্যালয়ের ভেতরে আগুন জ্বলছে

বৃহস্পতিবার রাতে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। কিন্তু এই শোকের মধ্যেই ঢাকায় গণমাধ্যমের দুটি প্রধান কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। প্রথম আলো এবং দ্য ডেইলি স্টারের অফিসে এই আক্রমণের ফলে পত্রিকা দুটির শুক্রবারের প্রকাশনা ব্যাহত হয় এবং অনেক সাংবাদিক আতঙ্কের মধ্যে পড়েন। একই সময়ে নিউ এজের সম্পাদক নূরুল কবীরকে হেনস্তা করা হয়। এই ঘটনাগুলো কি শুধুমাত্র আবেগের উচ্ছ্বাস, নাকি গণমাধ্যমের স্বাধীনতার উপর একটি চিন্তাজনক আঘাত? বিভিন্ন পক্ষের প্রতিক্রিয়া এবং তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রশ্নগুলোই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

শরিফ ওসমান হাদি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের একজন প্রধান মুখ ছিলেন এবং আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় মুখোশধারীদের গুলিতে তিনি আহত হন এবং সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর মারা যান। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ঢাকা, রাজশাহীসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ শুরু হয়।

রাত ১১টার দিকে কারওয়ান বাজারে প্রথম আলোর কার্যালয়ে একদল বিক্ষুব্ধ লোক জড়ো হয়। তারা ভাঙচুর চালায় এবং আগুন ধরিয়ে দেয়। ফলে পত্রিকার প্রকাশনা এবং অনলাইন কার্যক্রম ব্যাহত হয়। প্রথম আলো কর্তৃপক্ষ জানায়, এটি তাদের ২৭ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ছাপা সংস্করণ প্রকাশ করতে না পারা। কাছাকাছি ফার্মগেটে দ্য ডেইলি স্টারের অফিসেও অনুরূপ হামলা হয়, যেখানে অনেক কর্মী আটকে পড়েন এবং ফায়ার সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের উদ্ধার করে। নিউ এজের সম্পাদক নূরুল কবীর দ্য ডেইলি স্টার অফিসের সামনে গেলে তাঁকে ধাক্কাধাক্কি এবং হেনস্তা করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী এবং মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীরা পত্রিকা দুটিকে "ভারতপন্থী" বা "পূর্ববর্তী সরকারের সমর্থক" বলে অভিযোগ করে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি সমাবেশে রাকসু সহসভাপতি মোস্তাকুর রহমান প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার বন্ধের ডাক দেন, যা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

বিভিন্ন পক্ষের প্রতিক্রিয়া: নিন্দা থেকে উদ্বেগ

এই ঘটনায় দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মহল থেকে নিন্দা জানানো হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের সম্পাদকদের সাথে কথা বলে সংহতি প্রকাশ করেন এবং বলেন, এটি স্বাধীন সাংবাদিকতার উপর আক্রমণ। সম্পাদক পরিষদ এবং সংবাদপত্র মালিক সমিতি (নোয়াব) এটিকে "বাংলাদেশের উপর আক্রমণ" বলে অভিহিত করে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানায়। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং সাংবাদিক সংগঠনগুলো হামলার নিন্দা করে।

প্রথম আলো কর্তৃপক্ষ মনে করে, এটি একটি "স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর পরিকল্পিত আক্রমণ" যা হাদির মৃত্যুকে পুঁজি করে চালানো হয়েছে। অন্যদিকে, কিছু বিক্ষোভকারী পত্রিকাগুলোর সমালোচনামূলক রিপোর্টিংকে কারণ হিসেবে দেখছেন। আন্তর্জাতিক মিডিয়া যেমন বিবিসি, রয়টার্স এবং সিপিজে (কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস) উদ্বেগ প্রকাশ করে সাংবাদিকদের নিরাপত্তার কথা বলেছে।

এই ঘটনাগুলো গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে গভীর প্রশ্ন তুলেছে। একদিকে, হাদির মৃত্যুতে জনগণের ক্ষোভ এবং বিচারের দাবি স্বাভাবিক। অন্যদিকে, সহিংসতা যা সম্পত্তি ধ্বংস এবং সাংবাদিকদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে দেশের স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করতে পারে। গণমাধ্যম যেহেতু সমাজের আয়না, তার উপর আক্রমণ জনগণের জানার অধিকারকে ক্ষুণ্ন করে।

ইতিহাস থেকে দেখা যায়, যেখানে গণমাধ্যমকে ভয় দেখানো হয়, সেখানে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়। এই ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে, যদিও তারা পরে উদ্ধারকাজে অংশ নেয়। শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যু একটি জাতীয় শোকের বিষয়, এবং তাঁর হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার হওয়া উচিত। একইসাথে, গণমাধ্যমের উপর হামলা যে কোনো গণতান্ত্রিক সমাজে অগ্রহণযোগ্য। সকল পক্ষকে ধৈর্য ধরে আইনের শাসন মেনে চলতে হবে।

প্রথম আলো, ডেইলি স্টার বা নিউ এজ—এগুলো কোনো ভবন নয়, কোনো দেয়াল নয়। এগুলো একেকটি চিন্তার প্ল্যাটফর্ম, প্রশ্ন করার পরিসর, জনগণের কণ্ঠ। এগুলো বন্ধ করার ঘোষণা মানে মূলত প্রশ্ন বন্ধ করার চেষ্টা।

এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি কাজ হলো, হামলাকারীদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে রাজনৈতিক ও ছাত্রনেতৃত্বকে বুঝতে হবে, মতভিন্নতার জবাব আগুনে নয়, যুক্তিতে দিতে হয়।

কারণ, গণমাধ্যম পুড়ে গেলে কেবল সংবাদকক্ষই নয় - পুড়ে যায় সমাজের বিবেক।
আর বিবেকহীন সমাজ শেষ পর্যন্ত কাউকেই নিরাপত্তা দিতে পারে না।

আরও খবর