কিডনি বিকল আশরাফুলের চিকিৎসায় অর্থ সংগ্রহে ট্যুরিস্ট ক্লাব সাস্ট আয়োজন করেছে চ্যারিটি ট্যুর লাখাইয়ে পল্লী বিদ্যুতের অস্বাভাবিক বিল, এবং ঘন্টার পর ঘন্টা লোডশেডিং, বিভিন্ন মহলের ক্ষোভ। আক্কেলপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জামালগঞ্জ বাজারে অভিযানে,১৫ হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ নালিতাবাড়ীর গাছগড়ায় কারিতাসের উদ্যোগে ভার্মি কম্পোস্ট সার বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত শেখ মুজিবসহ তিন প্রতিকৃতি ভাঙলো ছাত্রদল, লীগ ইস্যুতে বিক্ষোভ ৪ আগস্ট গোপন মিটিং করেছিলেন ববি শিক্ষকরা ঝিনাইগাতীতে দেশীয় মাছ ধরার নিষিদ্ধ কারেন্ট ও চায়না দুয়ারী জাল আটক ও ধ্বংস গোয়ালন্দ উপজেলা শাখার জাতীয় ছাত্রশক্তি আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন রাজবাড়ীতে ডিবি পুলিশের অভিযানে ২০০ পুরিয়া হিরোইন সহ গ্রেপ্তার তিন লালপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ জন পরিচ্ছন্ন কর্মী দিয়েই চলছে পরিস্কারের কাজ আগামী ১ নং ইউসুফপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নিজ ইউনিয়নবাসীর সেবা করতে চান চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো: শরিফুল ইসলাম এক বছরে সর্বোচ্চ রফতানি জুলাইয়ে, তবু সামনে শঙ্কা যশোরের শার্শার বাগআঁচড়ায় প্রতারণার মাধ্যমে নারীর কাছ থেকে স্বর্ণের দুল ও মোবাইল ছিনতাই ঢাকাসহ ১৩ জেলায় বৃষ্টির আভাস, নদীবন্দরে সতর্কতা কুলিয়ারচরে পুলিশের পিকআপের ওপর ট্রাক উল্টে কনস্টেবলের মর্মান্তিক মৃত্যু সংবিধান সংশোধন কমিটির প্রথম বৈঠক আজ শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে ভার্মি কম্পোস্ট সার তৈরির প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত পীরগাছাকে মাদক, ইভটিজিং ও বাল্যবিবাহমুক্ত করতে পুলিশের বিশেষ অভিযান শুরু গোয়ালন্দে পানিতে ডুবে তিন বছরের এক শিশুর মৃত্যু লাখাইয়ে পরিদর্শিকা সুচিত্রার দুর্নীতি অনিয়মের তদন্তে নাটকীয়তা, ভুক্তভোগীদের কথা না শুনেই সটকে পড়ল তদন্ত কমিটি।

দুবলার চরে শুঁটকি মৌসুম শুরু ,প্রস্তুত জেলেরা

ছবি সংগৃহীত

মোংলা প্রতিনিধিঃ 


সুন্দরবন ও বঙ্গোপসাগর পাড়ে দুবলার চরে শুরু হচ্ছে শুঁটকি মৌসুম। এ মৌসুমকে ঘিরে মোংলার উপকূলের নদ-নদীতে জড়ো হয়েছে শত শত ট্রলার। বনবিভাগের কাছ থেকে পাস-পারমিট নিয়ে শনিবার (২৫ অক্টোবর) দিনগত মধ্যরাত থেকে এসব ট্রলারে করে সমুদ্রে যাত্রা করবেন জেলেরা। এখন মোংলায় অবস্থান নিয়ে জেলেরা তাদের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ট্রলার ভর্তি করছেন।

সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, ২৬ অক্টোবর থেকে দুবলার চরে শুরু হচ্ছে শুঁটকি মৌসুম। শুঁটকি মৌসুম শেষ হবে আগামী বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি। এ মৌসুমের চার মাস ধরে জেলেরা দুবলার আলোরকোল, অফিসকেল্লা, নারকেলবাড়িয়া ও শেলার চরে অবস্থান করবেন। চরগুলোতে জেলেদের থাকার জন্য ৯০০ ঘর তোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। দোকানের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে ৮০টি। এরমধ্যে রয়েছে মুদি, তেল, ওষুধ, সেলুন ও হোটেলসহ নানা পণ্যের দোকান। মাছ বেচাকেনার জন্য ১০০টি ডিপোর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এ মৌসুমকে ঘিরে চরগুলোতে প্রায় ১০ হাজার জেলে-মহাজনের সমাগম ঘটবে। তারা চরে থাকার জন্য অস্থায়ী ঘর নির্মাণ করবেন। নির্মাণ করবেন মাছ শুকানোর চাতাল ও ট্রলার থেকে মাছ ওঠানো-নামানোর জন্য জেটি এবং ঘাট। তবে এসব কাজে জেলেরা কোনোভাবেই সুন্দরবনের কোনো প্রজাতির গাছপালা কাটতে ও ব্যবহার করতে পারবেন না। কেউ যদি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বনের ক্ষতিসাধনের অপচেষ্টা চালান, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ নিষেধাজ্ঞা মেনেই চরে ঘর তোলাসহ অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণে জেলেরা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছেন।

খুলনার পাইকগাছার জেলে মহাজনরা বলেন, ‌‘বনের গাছপালা কাটা ও ব্যবহার নিষেধ। তাই আমরা জাল ধরার জন্য কাঁকড়া, ঘর ও চাতাল নির্মাণের বাঁশ, বেড়া-চটকি সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছি। আমরা বনের কোনো ক্ষতি করবো না।’

সাতক্ষীরার আশাশুনির জেলে মহাজনরা জানায়, ‘একটি পরিপূর্ণ ট্রলার নিয়ে দুবলার চরে যেতে আমাদের ২০-২৫ লাখ টাকার প্রয়োজন হয়। আমরা জেলে, এত টাকাতো আমাদের নেই। তাই ধার-কর্জ করে নৌকা, জাল, বসতঘরের প্রয়োজনীয় মালামাল ও মানুষজন নিয়ে সাগরে যাচ্ছি। আবহাওয়া ভালো থাকলে ভালো মাছ পাবো, টাকাও উঠবে। অন্যথায় লোকসান গুনতে হবে আমাদের।’

আশঙ্কার কথা জানিয়ে বাগেরহাটের রামপালে জেলে মহাজনরা বলেন, ‘কয়েক বছর ধরে সাগরে জলদস্যু ছিল না। এখন আবার জলদস্যু বেড়েছে। গতবছরও আমার জেলেদের জিম্মি করে পৌনে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ নিয়েছে। আমাদের ভয় শুধু ডাকাতের। আমরা চাই প্রশাসনে কঠোর নজরদারি। আমরা যেন শান্তিতে মাছ ধরতে পারি।’

বাগেরহাটের মোংলার জেলে মহাজনরা আশংকা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা যে সময়টা ধরে দুবলার চরে থাকি, এই সময়টাই ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের সময়। ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের কারণে আমাদের মাছ ধরা ও শুকানোর কাজে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটে। ঝড়ে অনেক সময় ট্রলার ডুবে যায়। বৃষ্টিতে চরের মাছও পচে যায়। এতে আমাদের ভীষণ ক্ষতি হয়। তারপরও কিছু করার নেই। ঝড় -জলোচ্ছ্বাসের সঙ্গে যুদ্ধ করেই আমাদের বেঁচে থাকতে হয়।’

পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, গত মৌসুমে শুঁটকি থেকে বনবিভাগের ছয় কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছিল। আশা করছি, এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ৭-৮ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় সম্ভব হবে।

আরও খবর