যশোরের চৌগাছা উপজেলার স্বরুপদাহ ইউনিয়নের বড় কাকুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. তাসের আলীর বিরুদ্ধে এক শিশু শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগের পর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক বিদ্যালয়ে আসা বন্ধ করে দিয়েছেন। বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জোর চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক তাসের আলী প্রায়শই কোমলমতি শিশুদের যৌন নিপীড়ন করেন। গত ৬ আগস্ট এই বিষয়টি স্থানীয়দের কানে গেলে তারা স্কুল ঘেরাও করেন। খবর পেয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন এবং অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষককে সেখান থেকে উদ্ধার করেন। এ সময় উপস্থিত শিশু শিক্ষার্থীরা শিক্ষকের বিরুদ্ধে নানা ধরনের যৌন হয়রানির অভিযোগ জানায়।
স্থানীয় সূত্র এবং এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাসের আলীর বিরুদ্ধে একই ধরনের অপরাধের অভিযোগ নতুন নয়। এর আগে তিনি যখন গয়ড়া, মাধবপুর ও বল্লভপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন, তখনও ছাত্রীদের যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছিল। এ কারণে ২০১৩ সালে তার বিরুদ্ধে মামলা হয় এবং তাকে কারাবরণ করতে হয়। এতকিছুর পরও তার বিরুদ্ধে একই ধরনের অপকর্মে লিপ্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে। গয়ড়া ও বল্লভপুর স্কুলের শিক্ষক এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও তার বিরুদ্ধে একই অভিযোগ করেছেন। তারা জানান, যেখানেই তিনি কাজ করেন, সেখানেই এই ধরনের অপকর্ম করেন।অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মো. তাসের আলী তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে এটিকে তার বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছেন। ৬ আগস্টের পর থেকে কেন তিনি স্কুলে যাচ্ছেন না, এই প্রশ্নের জবাবে তিনি কল কেটে দেন।
এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিষয়টি তার নজরে এসেছে এবং তিনি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। অন্যদিকে, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাসুদুল হাসান এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন।স্থানীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের ভাই নাসির ও জাহাঙ্গীর এই বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য উঠেপড়ে লেগেছেন। স্থানীয় জনগণ অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, পূর্বের অপকর্মের কারণে কারাবরণ করা সত্ত্বেও তার বিরুদ্ধে কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এই ঘটনায় এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় আছেন। এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
৭ ঘন্টা ১ মিনিট আগে
৭ ঘন্টা ৭ মিনিট আগে
৭ ঘন্টা ১৫ মিনিট আগে
৮ ঘন্টা ২১ মিনিট আগে
৮ ঘন্টা ৫৩ মিনিট আগে
৯ ঘন্টা ৪৭ মিনিট আগে
১২ ঘন্টা ৫১ মিনিট আগে