কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৪ শতভাগ সাফল্যের ধারাবাহিকতায় আল ইসরার এগিয়ে চলা সীমান্তে মাদকের ছড়াছড়ি, প্রতিরোধে উদয়ন ক্লাবের সচেতনতামূলক র‍্যালি রাজবাড়ীতে ডিবির অভিযানে ২৫ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার গোয়ালন্দে দুই স্কুলে এসএসসিতে পাস মাত্র একজন নোয়াখালীতে ৩ লাখ ২০ হাজার টাকার নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ সেনবাগ উপজেলায় পাসের হারে প্রথম ছিলোনিয়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় কুমিল্লা বোর্ডে পাসের হারে সর্বনিম্ন নোয়াখালী, জেলায় শীর্ষে সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত ব্যক্তিকে জবাইয়ের চেষ্টা দিনাজপুরে সিআইডি পুলিশ সদস্যকে চড় , থানায় মামলা, জেলা কৃষকদলের সদস্য সচিব দল থেকে বহিষ্কার চিলাহাটিতে রেল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মানববন্ধন গোয়ালন্দে নৌযান শুমারি উপলক্ষে নৌ মহড়া দেওয়ানগঞ্জে এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় দুই প্রতিষ্ঠানের পাসের হার শূন্য লাখাইয়ে এসএসসি ও সমমানের দাখিল পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ। লাখাইয়ে যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার,এলাকায় চলছে নানা গুন্জন লালপুরে ইয়াবাসহ ৩ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার এজলাসে বসা হলো না, সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন সিভিল জজ ঢাকা-গোপালগঞ্জ রুটে ট্রেন চলাচল শুরু এসএসসি ও সমমান ফলাফলে ডোমার উপজেলায় জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১৬০ শিক্ষার্থী ঝিনাইগাতীতে ৬২ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

চুনতীর ১৯ দিনব্যাপী সীরাতুন্নবী (সা.) মাহফিল : প্রাপ্তি ও প্রত্যাশা

মোহাম্মদ ইমাদ উদ্দীন ( Contributor )

প্রকাশের সময়: 29-08-2025 12:00:11 pm

  মোহাম্মদ ইমাদ উদ্দীন 


"চুনতীর ১৯ দিনব্যাপী সীরাতুন্নবী (সা.) মাহফিল" একটি সুপ্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী সিরাত অনুষ্ঠান, যা ইসলামের প্রচার ও প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এই মাহফিল মূলত হযরত শাহ মাওলানা হাফেজ আহমদ (রহ.) কর্তৃক প্রবর্তিত, যিনি চুনতীর একজন বিখ্যাত আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব। ১৯৭২ সালে রবিউল আউয়াল মাসের ১১ তারিখে চুনতি শাহ মঞ্জিল চত্বরে ১ দিনব্যাপী সীরাত মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তী ১৯৭৩ সালে ৩ দিনব্যাপী, ১৯৭৪ সালে ৫ দিন, ১৯৭৬ সালে ১০ দিন, ১৯৭৭ সালে ১২ দিন, ১৯৭৯ সালে ১৫ দিন এবং একই বছর ২ দিন বাড়িয়ে ১৭ দিন, আরো ২ দিন বাড়িয়ে ১৯ দিনব্যাপী সীরাতুন্নবী মাহফিল করা হয়। সেই ১৯৮০ সাল থেকেই ১৯ দিনব্যাপী সীরাতুন্নবী (সা.) মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এবং এতে বিভিন্ন আলেম, ইসলামী চিন্তাবিদ ও স্কলারগণ অংশ নেন। 

"চুনতি ১৯ দিন ব্যাপী সীরাতুন্নবী (সাঃ) মাহফিল"  এটি একটি অরাজনৈতিক ও শান্তিপূর্ণ নবী প্রেমিকদের সম্মেলন , যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষ একত্রিত হতে পারে।  ১৯ দিন ব্যাপী এই মাহফিলের মাধ্যমে সকলে নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর শিক্ষা ও আদর্শকে নিজেদের জীবনে ধারণ করার চেষ্টা করে।  এই মাহফিলটি নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি গভীর প্রেম ও শ্রদ্ধা প্রদর্শনের একটি চমৎকার উদাহরণ। এই মাহফিলের প্রধান উদ্দেশ্য হল,মানুষকে ইসলামের সঠিক জ্ঞান দেওয়া এবং তাদের মধ্যে নবীপ্রেম জাগ্রত করা। এই মাহফিল ইসলামের মূল শিক্ষা, যেমন- কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে জীবনযাপন, সঠিক জ্ঞান প্রচার এবং কুসংস্কার ও বিদ'আতের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে সহায়তা করে। এমনকি এই মাহফিল মানুষের মধ্যে আধ্যাত্মিক চেতনা বৃদ্ধি করে এবং তাদের জীবনকে পরিশুদ্ধ করতে সহায়তা করে। বিভিন্ন মত ও পথের অনুসারী মানুষ এই মাহফিলে একত্রিত হন, যা মুসলিম উম্মাহর মধ্যে ঐক্য ও সংহতি তৈরিতে সহায়তা করে।

১৯ দিন ব্যাপী সীরাতুন্নবী (সা.) মাহফিলের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভের জন্য এর বিষয়বস্তু, আয়োজন এবং প্রচারণার মান বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।এই লক্ষ্যে, মাহফিলটিকে আরও ব্যাপক আন্তর্জাতিকভাবে প্রচার ও প্রসারের জন্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, মাল্টিমিডিয়া কন্টেন্ট, বিভিন্ন ভাষা তথা  ইংরেজি, আরবি, ফরাসি এবং অন্যান্য প্রধান ভাষাগুলোতে অনুবাদ করা। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইসলামিক সংস্থা, যেমন মুসলিম ওয়ার্ল্ড লীগ, ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা (OIC), ও ইউনিসেফ -এর সাথে যোগাযোগ করে মাহফিলটিকে একটি আন্তর্জাতিক ইভেন্ট হিসেবে উপস্থাপিত করা যেতে পারে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক নিউজ চ্যানেল, রেডিও এবং অনলাইন পোর্টালগুলোর সাথে যোগাযোগ করে তাদের মাধ্যমে মাহফিলটির খবর প্রচারের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। আগামীতে  শুধুমাত্র বাংলাদেশ বা স্থানীয় বক্তাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত আলেম, ইসলামী চিন্তাবিদ এবং ইসলামিক স্কলারদের আমন্ত্রণ জানানো যেতে পারে। প্রয়োজনে ভিডিও কনফারেন্সের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।  তাছাড়া উপস্থিত শ্রোতাদের সুবিধার্থে সিরাত ময়দান এবং আশেপাশের এলাকায় প্রজেক্টেরের ব্যবস্থা করা অতি জরুরি। একইসাথে রাসূল (সা.) এর জীবনকর্মের উপর স্বল্পদৈর্ঘ্য  ডকুমেন্টারী ভিডিও উপস্থাপন করতে পারলে এই সিরাত মাহফিলটি এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে যাবে বলে আশা রাখি। 

চুনতীর ১৯ দিন ব্যাপী সীরাতুন্নবী (সাঃ) মাহফিল মুসলিম উম্মাহর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় আয়োজন। এই মাহফিল থেকে সকলে আত্মশুদ্ধি, জ্ঞানার্জন ও পারস্পরিক সহযোগিতা লাভের প্রত্যাশা করে। এই মাহফিলের মাধ্যমে সকলে আরও বেশি করে ইসলামের সুমহান আদর্শের দিকে আকৃষ্ট হবে এবং নিজেদের জীবনকে আরো সুন্দর ও অর্থবহ করে তুলবে, এটাই সকলের প্রত্যাশা। 


লেখক : কলামিস্ট। 

সদস্য, চট্টগ্রাম ইতিহাস চর্চা কেন্দ্র। 

সাধারণ সম্পাদক , বাংলাদেশ মুসলমান ইতিহাস সমিতি।

আরও খবর
deshchitro-6a6d6af09497c-010826094136.webp
বিশ্ব স্কার্ফ দিবস

৯ দিন ২৩ ঘন্টা ৩৬ মিনিট আগে