শি’র সঙ্গে ‘চমৎকার বাণিজ্য চুক্তি’ হয়েছে : ট্রাম্প মাদারীপুরে হাম পরিস্থিতি উদ্বেগজনক: আক্রান্ত ৩৬৫ ছাড়িয়েছে ভিসা জট কাটেনি, যাত্রী সংকটে স্থবির দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর মাওলানা নাসির উদ্দীন মাতুব্বরের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ ১৩তম সিটি করপোরেশন হলো বগুড়া, গেজেট প্রকাশ জ্বালানি সহযোগিতায় বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের সমঝোতা স্মারক সই ফেনসিডিলের ‘হোম ডেলিভারি’ থামাল র‍্যাব: চৌগাছায় ২১১ বোতলসহ গ্রেফতার ২, প্রাইভেটকার জব্দ ভবন নির্মাণে বাধা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ মধুপুর শিল্প ও বণিক সমিতির সংবাদ সম্মেলন শোকের ছায়ায় চরম্বা: হাজারো মানুষের অশ্রুসিক্ত বিদায়ে মাওলানা আবুল কাসেমের দাফন সম্পন্ন নির্যাতিত মুসলমানদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান গোয়ালন্দে ওলামায়ে কেরামদের অংশগ্রহণে জমজমাট প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচ গোয়ালন্দে সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের গ্রাহক সমাবেশ ও বীমা দাবি পরিশোধ শ্যামনগর বুড়িগেয়ালিনী সুন্দরবন সুরক্ষায় আর্থস্কাউট স্কুল ক্যাম্পেইন তরুণদের মাঝেও বাড়ছে কোলন ক্যানসার, ঝুঁকি কমাবেন যেসব উপায়ে টানা ৪ দিন অতিভারী বৃষ্টির আভাস রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনই একমাত্র সমাধান : শামা ওবায়েদ ফারাক্কা দিবস যেকোনো অধিকার আদায়ে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করে: মির্জা ফখরুল বগুড়ায় বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত ‎সুন্দরবনে কোস্টগার্ডের সঙ্গে দস্যুদের বন্দুকযুদ্ধ আটক ৩, উদ্ধার ৪ জেলে গলাচিপায় ১৫শ পিস ইয়াবাসহ নারীসহ আটক ৪

একজন জনপ্রিয় অধ্যাপক এবং আদর্শ বাবার শেষ পরিণতি

 জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবীণ অধ্যাপক আব্দুল আউয়ালের তিন সন্তানের মধ্যে মেয়ে সবার বড়, নাম রেজিনা ইয়াছমিন আমেরিকা প্রবাসী। 

বড় ছেলে উইং কমান্ডার (অব.) ইফতেখার হাসান। ছোট ছেলে রাকিব ইফতেখার হাসান অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী। জীবনে এত কিছু থাকার পরও তার দু’চোখে অন্ধকার। থাকেন আগারগাঁও প্রবীণ নিবাসে।

দীর্ঘ ১৭ বছর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন সুনামের সঙ্গে। ২০০৬ সালে অবসর নেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক (অব.) ড. এম আব্দুল আউয়াল (৭০)। অবসরের পর কিছুদিন ভালোই চলছিল তার। অধ্যাপক আব্দুল আউয়ালের সংসারে দুই ছেলে, এক মেয়ে।

আব্দুল আউয়াল জানান, শিক্ষকতার আগে ১৯৬৫-১৯৮৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ এটমিক এনার্জিতে চাকরি করেন এরপর শিক্ষকতা। জীবনে অনেক টাকা-পয়সা উপার্জন করেছি। 


২০০৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবসর নেন। এরপর ছেলে-মেয়েরা আমার খোঁজ খবর নেওয়া বন্ধ করে দেয়।


কল্যাণপুর হাউজিং এস্টেটে নিজের ফ্ল্যাট ছিল আব্দুল আউয়ালের। এছাড়া পল্লবীতেও বেশ কিছু জমি ছিল। কিন্তু এসব বড় ছেলে কৌশলে বিক্রি করে টাকা পয়সা নিজের অ্যাকাউন্টে জমা করেছেন, আক্ষেপ করেই বলেন অধ্যাপক আউয়াল।

তিনি বলেন, ওরা আমাকে এতো কষ্ট দেয় কেন। আমাকে নিয়ে এতো ছলচাতুরি করে কেন? বলতে বলতে ডুকরে কেঁদে উঠেন অধ্যাপক। তিনি বলেন, আমি কি এই জন্য এতো কষ্ট করে ওদের মানুষ করেছিলাম?

অধ্যাপক আউয়াল বলেন, চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর কিছু দিন বড় ছেলের সঙ্গেই থাকতাম। ছেলের সংসারে থাকার সময় জানতে পারি ছেলে ও বউয়ের মধ্যে সম্পর্ক ভালো যাচ্ছে না। একদিন বাসায় থাকা অবস্থায় বউয়ের মুখে গা*লি শুনে বাসা থেকে নেমে আসি। আর ফিরে যাইনি। ওরাও কেউ খোঁজ নেয়নি। 

ছোট ছেলে অস্ট্রেলিয়া থেকে দেশে আসে ২০১৪ সালে। এসে মিরপুর-১ নম্বরে একটি দোকানে আমার সঙ্গে দেখা করে কথা বলে। সেখানে গেলে আমাকে জানায় তার বিয়ে ঠিক হয়েছে। আমি ওর বাবা অথচ আমাকে জানালও না যে বিয়ে করতে যাচ্ছে। বিয়ে করে আবার চলে যাবে, একথা শুনে ছেলের বউকে দেখতে চান তিনি। কিন্তু তার সাথে দেখা করা যাবে না বলে জানায় ছেলে।

এ অধ্যাপক আফসোসের সুরে বলছিলেন, অথচ এই ছেলের পড়ালেখার জন্যও পেনশনের টাকা থেকে ২৬ লাখ পাঠিয়েছি। সেই ছেলেও আমাকে কোনো দিন ফোন করে না। মাঝে মাঝে ইমেইলে চিঠি লেখে।

🇯🇵অতি উচ্চ শিক্ষিত হতে গিয়ে আমরা দিন দিন আরও অমানুষ হয়ে যাচ্ছি। অথচ অনেক গরিব, মূর্খ আছে যারা বাবা মাকে নিয়েই একসাথে থাকে। 

তাহলে তারা কি আমাদের মতো মুখোশধারী শিক্ষিতের চেয়ে ভালো নয়? তাই উচ্চ শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিকতা ও মনুষ্যত্ববোধটাও সবার শিক্ষাগ্রহন করা উচিৎ

লেখক : প্রণব মন্ডল, কবি এবং সাহিত্যিক।

Tag
আরও খবর