অনলাইন জুয়ার নেশায় তরুণ প্রজন্ম; পিছিয়ে নেই বালিয়াডাঙ্গী তাড়াইল হাসপাতালের সংকট ও উত্তরণের উপায় এআই লিখছে কবিতা-গল্প, তাহলে লেখকদের ভবিষ্যৎ কী? প্রয়াণ দিবসে জীবনানন্দ স্মরণ ‘স্রোতের’ যে পায় সে পায় - আহসান হাবিব বাঘার "৯০" এর বন্ধুদের তেতুলিয়া বাংলাবান্ধা জিরোপয়েন্ট আনন্দ ভ্রমণ সম্পন্ন। চলমান শ্রমিক বিক্ষোভে ৫ শতাধিক পোশাক কারখানা বন্ধ রয়েছে: বিজিএমইএ নোয়াখালীতে ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটির আনন্দ শোভাযাত্রা দোকান ঘর-সীমানাপ্রাচীর ভেঙে ব্যবসায়ীর জমি দখলের চেষ্টা, থানায় অভিযোগ ৪ নভেম্বর থেকে সারাদেশে গ্যাসের সরবরাহ কমবে: পেট্রোবাংলা দুবলার চরে পাঁচ মাসের শুঁটকি মৌসুম শুরু, ১০ হাজার জেলের কর্মযজ্ঞ পোশাক খাতের অস্থিরতা নিয়ে জরুরি বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নবীনগরে মামার বাড়িতে বেড়াতে এসে কিশোরের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে শেরপুরে র‍্যালি, আলোচনা সভা ও যুব ঋণ বিতরণ নওগাঁর নিয়ামতপুরে জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে ঋণের চেক ও সনদপত্র বিতরণ মিরসরাইয়ে জাতীয় যুব দিবসে শ্রেষ্ঠ যুব সংগঠকের সম্মাননা পেলেন গোলাম মর্তুজা জাতীয় যুব দিবসে মিরসরাইয়ের ফয়সাল আলম পেলেন শ্রেষ্ঠ উদ্যোক্তার সম্মাননা ইসলামপুরে যমুনা নদীতে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় এক আসামিকে আটক করেছে পুলিশ পীরগাছায় জাতীয় যুব দিবস উদযাপন, যুব ঋণ বিতরণ র‌্যালি, আলোচনা সভা জয়পুরহাটে এসআরবির অভিযানে ইয়াবা ও টাপেন্টাডলসহ মাদক ব্যবসায়ী মিলন গ্রেপ্তার

দেশের অর্থনীতির এক দানবীয় শত্রু হুন্ডি।

মোঃ নাজমুল হাসান - প্রতিনিধি

প্রকাশের সময়: 16-09-2024 12:49:57 pm

লেখক: মোঃ নাজমুল হাসান

বিগত ৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার এক অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতা থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেন। অন্যদিকে ৮ই আগস্ট শপথ গ্রহণের মাধ্যমে নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনুস প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গঠন করেন।

বিদ্যমান রাষ্ট্র ব্যবস্থায় ধসে পড়া প্রতিটি সেক্টরে প্রয়োজনীয় সংস্কারের মাধ্যমে সুষ্ঠু গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ভাবে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরই এই সরকারের উদ্দেশ্য। আর মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক অবিস্মরণীয় পটপরিবর্তন ঘটে যায়। ইতোমধ্যেই অন্তবর্তীকালীন সরকার সংস্কারের কাজ হাত দিয়েছে। অন্যান্য সকল সেক্টরের পাশাপাশি পুরো আর্থিক খাতে শুরু হয়েছে বড় ধরনের পরিবর্তনের হাওয়া। পুরো আর্থিক খাতের শ্বেতপত্র বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে প্রকাশ করা হবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ঠিক করতে হবে কোন সংস্কার এখনই দরকার। আর্থিক খাত সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে যেটা করা দরকার তা এখনই শুরু করতে হবে। তা না করা হলে বড় বিপদে পড়তে যাচ্ছে পুরো আর্থিক খাত।

সাম্প্রতিক সময়ে সর্বাধিক আলোচিত হচ্ছে দেশ থেকে বিদেশে টাকা পাচার ও বিদেশ থেকে অবৈধপথে দেশে টাকা পাঠানোর বিষয়টি। আর এ কর্মকান্ডের সাথে সম্পূর্ন ওতপ্রোতভাবে জড়িত হচ্ছে হুন্ডির নাম। "সাধারণ চোখে ব্যাংকিং বা অফিসিয়াল চ্যানেল ব্যতীত অন্য যেকোন উপায়ে বিদেশ থেকে বাংলাদেশে টাকা (বৈদেশিক মুদ্রা) প্রেরণ করাকে হুন্ডি বলে।" আরো সুন্দর করে সাজিয়ে বললে বলা যায় "হুন্ডি হলো একটি নীতি বহির্ভূত এবং দেশের আইন দ্বারা নিষিদ্ধ অপ্রাতিষ্ঠানিক অর্থ হস্তান্তর বা স্থানান্তর ব্যবস্থা। এটি Bill of Exchange বা বিনিময় বিল নামেও পরিচিত।"

আমাদের দেশ থেকে বিদেশে অর্থ পাচার এবং বিদেশ থেকে অবৈধভাবে দেশে রেমিট্যান্স ঢুকছে মূলত হুন্ডির মাধ্যমে। এর ফলে সরকার একদিক থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বিপুল অঙ্কের রাজস্ব আদায় থেকে কারণ হুন্ডিচক্র বিদেশে ডলার বা অন্যান্য বৈদেশিক মুদ্রা রেখে দেয় এবং তাদের এজেন্টরা দেশে সুবিধাভোগীদের হাতে টাকা পৌঁছে দেয়। এভাবে প্রতিনিয়ত বড় অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে দেশ। প্রবাসীরা তাদের আয় হুন্ডির মাধ্যমে দেশে পাঠালে তা যোগ হচ্ছে না কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে। তাছাড়া ধনী অসাদু ব্যবসায়ী গোষ্ঠী তারা অর্থ পাচার করে মূলত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের আড়ালে আর যারা ঘুষ-দুর্নীতি, কর ফাঁকি, চোরাচালান বা অন্য কোনো উপায়ে অর্থ উপার্জন করেছে, তারা অর্থ পাচারের জন্য বেছে নেন হুন্ডিকেই। তাই সরকারের কোনো পদক্ষেপেই যেন থামছেই না হুন্ডি ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য। বরং নিত্যনতুন প্রযুক্তির সহায়তায় মোবাইল, ইন্টারনেট ব্যবহার করে ব্যাংকিং চ্যানেলের ফাঁকফোকর দিয়ে দিন দিন আরও ফুলে ফেঁপে উঠছে হুন্ডির কারবার।

উপমহাদেশে হুন্ডির উদ্ভব হয় মূলত মুঘল সাম্রাজ্যের শাসনামলের। তৎকালীন রাজধানী দিল্লি থেকে প্রদেশগুলোর দূরত্ব ছিলো অনেক বেশি। তাছাড়া রাস্তাঘাটও ছিল অনেক দুর্গম ও বিপদসঙ্কুল। তাই প্রদেশগুলো থেকে আদায় করা রাজস্ব দিল্লিতে প্রেরণের জন্য স্থানীয় মহাজনদের সাহায্য গ্রহণ করতেন বিভিন্ন প্রদেশের মুঘল প্রশাসকরা। এই স্থানীয় মহাজনদের ছিল ভারতজুড়ে নিজস্ব নেটওয়ার্ক। তারা নিজেদের মধ্যে অর্থ বিনিময় করতেন এক ধরনের স্বীকৃতিপত্র বা দলিলের মাধ্যমে, যাকে তুলনা করা যায় আধুনিক ব্যাংকিংয়ের চেকের সঙ্গে। এই দলিলকেই বলা হতো হুন্ডি। ভারতের বিভিন্ন শহরে গড়ে ওঠা মহাজনদের এই নেটওয়ার্ক আবার বজায় থাকতো তাদের পরিচিতি, দীর্ঘদিনের লেনদেন এবং পারস্পরিক বিশ্বস্ততার মধ্য দিয়ে। মুঘল প্রশাসকরা দিল্লিতে রাজস্ব পাঠানোর জন্য যখন এই মহাজনদের ওপর নির্ভর করতেন তখন এই মহাজনরাই তাদের নিজস্ব নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অর্থ পৌঁছে দিতেন কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে। ১৭৫৭ সালের পলাশী ট্র্যাজেডির অন্যতম কুশীলব জগৎ শেঠও ছিলেন একজন হুন্ডির কারবারি। পুরো ভারতজুড়ে ছিল তার হুন্ডির কারবার। মুঘল আমলের ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে ব্রিটিশ আমলেও জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পায় হুন্ডির। এর কার্যকারিতার জন্য ব্রিটিশরাও একে অর্থ লেনদেনের দেশীয় ব্যবস্থা হিসেবে মেনে নেয়। ব্রিটিশ সরকার হুন্ডি প্রথাকে আদিবাসী বা ঐতিহ্যবাহী বলে মনে করত, তবে তা অপ্রাতিষ্ঠানিক ছিল না। এমনকি তারা এতে হস্তক্ষেপ করতে অনিচ্ছুক ছিল কারণ এটি ভারতীয় অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ জুড়ে ছিল এবং তারা এই ব্যবস্থার অধীনে লেনদেনের উপর কর আরোপ করতে চেয়েছিল। সরকারি হুন্ডি সমূহ রানী ভিক্টোরিয়া সহ ব্রিটিশ রাজাদের ছবি সংবলিত রাজস্ব স্ট্যাম্পে যুক্ত করে তৈরি করা হয়েছিল।

একটা সময়ে হুন্ডি ছিল বৈধ ও নিরাপদ। এখনো তা নিরাপদ, তবে বৈধ না বর্তমানে হুন্ডি একটি বৈশ্বিক চক্র। মার্কিন নাগরিক ফরেস্ট কুকসন ৯০-এর দশকে বাংলাদেশে এসেছিলেন আর্থিক খাত সংস্কার কর্মসূচির একজন পরামর্শক হয়ে। আমেরিকান চেম্বার অব কমার্সের সভাপতিও হয়েছিলেন। তিনি ২০১৮ সালে হুন্ডি নিয়ে কিছু লেখালেখি করেছিলেন। সেখানে তিনি মোটাদাগে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার পাঁচ ধরনের চাহিদার কথা বলেছিলেন। যেমন-

১. আমদানিতে আন্ডার-ইনভয়েসের বার্ষিক চাহিদা ১০ থেকে ১৫ বিলিয়ন ডলার, যা ক্রমেই বাড়ছে।

২. বাংলাদেশে কর্মরত আছেন (মূলত বস্ত্র ও পোশাক খাতে) প্রচুর ভারত ও শ্রীলঙ্কান নাগরিক, যাঁরা নিজ নিজ দেশে বছরে ৩-৪ বিলিয়ন ডলার অর্থ পাঠান।

৩. বাংলাদেশিদের পুঁজি পাচার হয় বছরে ১ থেকে ২ বিলিয়ন ডলার।

৪. শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে (মূলত ভারতে) অর্থ পরিশোধ করা হয় বছরে ১ বিলিয়ন ডলার।

৫. বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অনানুষ্ঠানিক বাণিজ্যের ঘাটতি পূরণের জন্য বছরে প্রয়োজন হয় ১-৩ বিলিয়ন ডলার।

সব মিলিয়ে বছরে প্রয়োজন হয় ১৬ থেকে ২৫ বিলিয়ন ডলার, যা অবৈধ পথে লেনদেন হয়। আর এটিও একটি বড় কারণ এখানে হুন্ডির এত প্রসারের।

আবার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটির (জিএফআই) প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে ৪ হাজার ৯৬৫ কোটি ডলার পাচার হয়েছে। এই হিসাবে প্রতিবছর গড়ে ৭৫ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়। মূলত আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমের মাধ্যমে মূল্য কমবেশি দেখিয়ে অর্থ পাচারের কাজটি করা হয়।

বাণিজ্যের আড়ালে অর্থ পাচার আসলে ধনী ও প্রভাবশালীদের কাজ। বাণিজ্যভিত্তিক মানি লন্ডারিংয়ের মধ্যে প্রধান হচ্ছে ওভার ও আন্ডার-ইনভয়েসিং। ওভার ইনভয়েসিং হচ্ছে পণ্যের দাম বেশি দেখানো। অর্থাৎ কোনো একটি পণ্যকে বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দামের ইনভয়েস কিংবা চালানপত্র বানিয়ে অন্য দেশে পণ্য রপ্তানি করা। এতে বিক্রেতা ক্রেতার কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ পান, যা দেশে আর আসে না। এর অর্থ হলো আমদানিকারক পণ্যের মূল্য হিসাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ অন্য দেশে থাকা রপ্তানিকারকের কাছে অবৈধ পথে পাচার করে দিতে পারেন। অন্যদিকে আন্ডার-ইনভয়েসিং হচ্ছে কম মূল্য দেখানো। এটা মূলত করা হয় শুল্ক ফাঁকি দেওয়ার জন্য। কম মূল্য দেখানো হলেও প্রকৃত মূল্য অবৈধ পথে বা হুন্ডির মাধ্যমে আমদানিকারকের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। যেমন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার গত ১ ডিসেম্বর এক অনুষ্ঠানে উদাহরণ দিয়ে বলেছিলেন, এক লাখ ডলারের মার্সিডিজ বেঞ্জ গাড়ি মাত্র ২০ হাজার ডলারে আমদানির জন্য ঋণপত্র খোলা হয়েছে। বাকি অর্থ হুন্ডিতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সারাবিশ্ব থেকে প্রবাসীদের পাঠানোর অর্থ দেশে পরিজনদের পৌঁছে দেন। হুন্ডি কারবারিরা প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকায় এমন পরিস্থিতি তৈরি করেন অনেক সময় তারা ব্যাংকে যেতে পারেননা। আবার প্রবাসের সব শ্রমিকের বৈধ কাগজ নেই। যে কারণে চাইলেও অনেকে ব্যাংকে অর্থ পাঠাতে পারেন না। তাই হুন্ডি সেখানে তাদের কাছে প্রচলিত ব্যাংকিং পদ্ধতির বাইরের অর্থ লেনদেনের একটি লাভজনক উপায়। দেশে বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময়ের জন্য দেশি বাণিজ্যিক ব্যাংক, দেশের মানি এক্সচেঞ্জ, বিদেশি ব্যাংক ও হুন্ডির রেট ভিন্ন ভিন্ন। ব্যাংকের বিনিময় হারের তুলনায় হুন্ডিতে ভালো বিনিময়মূল্য পান বলেই প্রবাসীরা হুন্ডিতে টাকা পাঠানোর দিকে আগ্রহী হন এটিও একটি কারণ। এমনকি সরকার ঘোষিত প্রণোদনার পরও হুন্ডিতে অনেক বেশি বিনিময় মূল্য পান প্রবাসীরা। এজন্যই ব্যাংকের বদলে হুন্ডির দিকে ঝুঁকেছেন তারা। উচ্চ শিক্ষার জন্য বিদেশগামী শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, রোগী কিংবা পর্যটক সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকে ডলার কিনতে গেলে নানা হয়রানির শিকার হন। তেমনি বিদেশ থেকে আনা মুদ্রা বিক্রি করতে গেলেও ব্যাংকে অনেক সময়ই বিনিময় মূল্য কম পাওয়া যায়। তাছাড়া ব্যাংকের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কাগজপত্র চাওয়া হয়। এতে ডলার কিনতে আগ্রহী গ্রাহকদের সময় ও কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়।

অন্যদিকে হুন্ডি এজেন্টদের গ্রাহকরা ফোন দিলে তারা গ্রাহকের বাসায় টাকা ও বিদেশি মুদ্রা নিয়ে আসে, পাশাপাশি তাদের দেয়া রেটও ব্যাংকের থেকে ভালো। গ্রাহকদের কাছে ব্যাংকের থেকে হুন্ডির সেবা তাই সহজ ও দ্রুত। বিদেশের কর্মস্থল থেকে এজেন্টকে ফোন দিয়ে পরিমাণ বলে দিলেই তারা সমপরিমাণ টাকা পৌঁছে দিয়ে আসেন গ্রাহকের স্বজনের কাছে। এক্ষেত্রে তারা ব্যবহার করেন বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিং কোম্পানির সেবা। এছাড়া গ্রামে বা শহরে একেবারে গ্রাহকদের বাড়িতে গিয়েও হাতে হাতে টাকা পৌঁছে দেন হুন্ডির কারবারিরা।

বর্তমানে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কঠোর নীতি প্রয়োগের মাধ্যমে হুন্ডির চাহিদা বন্ধ না করা গেলে বিদেশে থেকে অবৈধ পথে অর্থ আনা এবং অর্থ পাচার কোনভাবেই ঠেকানো যাবে না। তাই হুন্ডির ব্যবহার কমিয়ে আনতে আমার ব্যক্তিগত পরামর্শ হলো - 

১. যথাযথ সময় উপযোগী ও কঠোর আইন প্রনয়নের পাশাপাশি তা বাস্তবায়ন করা।
২. যেহেতু পাচার বহুলাংশে ‘ক্ষমতা ও প্রভাব’ প্রশ্নের সঙ্গে জড়িত, তাই অর্থ পাচার ও হুন্ডির ব্যবহার রোধ করতে রাজনৈতিক সদিচ্ছা অতীব জরুরি।
৩. হুন্ডির সেবা সহজ দ্রুত এবং নিরাপদ, সুতরাং অনুরূপ সেবা ব্যাংকে আনতে হবে। 
৪. আন্তব্যাংক সংযোগ যথেষ্ট দুর্বল এটিকে দ্রুত উন্নত ও ব্যবহার সহজ করতে হবে।
৫. অর্থ প্রেরণে শুধু প্রণোদনা না দিয়ে রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচও কমাতে হবে। 
৬. বিমানবন্দরে অমার্জিত আচরণ বন্ধ করে প্রবাসীদের (রেমিট্যান্স যোদ্ধা) যোগ্য সম্মান প্রদর্শন করতে হবে ও পরবর্তীতে যথাযথ পূণর্বাসনের ব্যবস্থা করা।
৭. বৈদেশিক মুদ্রা আনতে ফ্রিল্যান্সারদের জন্য উপযুক্ত চ্যানেলের ব্যবস্থা করা।
৮. দেশের অভ্যন্তরে ‘মানি এক্সচেঞ্জ’ ব্যবস্থাটি নিবিড়ভাবে মনিটরিং করতে হবে।
৯. বিশ্বায়নের যুগে হুন্ডিতে পাচার হচ্ছে বৈধ অর্থও তাই প্রয়োজনীয় অর্থ বিদেশে নিতে নির্দিষ্ট ব্যবস্থা প্রনয়ন করা।
১০. দেশের অভ্যন্তরে দূর্নীতি চিরতরে নির্মূল করতে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি উপরে তুলে ধরা সমাধান সমূহ অচিরেই বাস্তবায়ন করা গেলে হুন্ডির ব্যবহার রোধ করে দেশের আর্থিক খাতে সুদিন দ্রুত ফিরিয়ে আনা সম্ভব।


লেখক: মোঃ নাজমুল হাসান: শিক্ষার্থী, আইন বিভাগ, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।
Email: pressnazmulbd@gmail.com

আরও খবর



6ad459daeeeb3-181026113210.webp
সামাজিক সম্প্রীতি জোরদার হোক দুর্গাপূজায়

১৪ দিন ১৫ ঘন্টা ১৫ মিনিট আগে


6ad3adc1cb7fd-171026111753.webp
দুর্গোৎসব: পূজার আড়ালে যে মানবতার পাঠ

১৫ দিন ১০ ঘন্টা ৪১ মিনিট আগে


6ac3b9837d6ba-051026085147.webp
এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা তবুও অবহেলিত

২৭ দিন ৫ ঘন্টা ১৮ মিনিট আগে