এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ ১০ আগস্ট গোয়ালন্দে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে তিন মাদকসেবী আটক, কারাদণ্ড ও জরিমানা ‎মোংলা-খুলনা মহাসড়কে বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত উপজেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার সমন্বয়ে ঝিনাইগাতীতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি মোহাম্মদপুর জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি হলেন মনির হোসেন শুভ শেরপুরে প্রাথমিক শিক্ষকদের সুপারভিশন ও মনিটরিং বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত মিরসরাইয়ে স্বজন সংসদ'র কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন, সভাপতি নুর আলম নুরু; সম্পাদক নুর উদ্দিন বাবু দৌলতদিয়ায় নৌ পুলিশের সচেতনতামূলক কর্মসূচি, ৩ বিদ্যালয়ের প্রায় ১,৪০০ শিক্ষার্থীকে সাঁতার শেখা ও জলদুর্ঘটনা প্রতিরোধে পরামর্শ রাজবাড়ীর খানখানাপুর রেলক্রসিংয়ে তেলবাহী ট্রেনের বগি বিচ্ছিন্ন হয়ে বাস-মাহিন্দ্রে ধাক্কা, নিহত ২, আহত ৬ দৌলতদিয়ায় যৌনপল্লীতে যৌন উত্তেজক ঔষধ খেয়ে এক ব্যক্তির মৃত্যুর অভিযোগ ওয়াশিংটনের গুলিতে ২ নিহত, আহত ৫ ব্রয়লার মুরগি খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য কতটা নিরাপদ? বিজ্ঞাপনের চুক্তির কথা বলে ডেকে নিয়ে শারিরীক নির্যাতন, মামলা করতে থানায় মডেল স্নিগ্ধা বরিশালের দুই সাংবাদিককে লাঞ্ছিত, জোরপূর্বক মুচলেখা অভিযোগ গুরুতর অসুস্থ বিএমএসএস প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান খন্দকার আছিবুর রহমান, সুস্থতা কামনায় দেশবাসীর দোয়া প্রার্থনা" গড়াই নদীর ভাঙনে বিলীন হচ্ছে জনপদ, আতঙ্কে পাংশার কসবামাজাইল ইউনিয়নের নাদুরিয়া গ্রামের মানুষ শ্রীমঙ্গলে যুব মজলিস নেতৃবৃন্দের সাথে খেলাফত মজলিস মক্কা মহানগরী শাখার সেক্রেটারির মতবিনিময় শার্শার বাগআঁচড়া আকিজ গ্রুপের ট্রাকের ধাক্কায় ভ্যানচালক নিহত গোয়ালন্দে পদ্মায় ৫২টি অবৈধ চায়না দুয়ারী জাল উদ্ধার, আগুনে ধ্বংস শ্রীমঙ্গলে রিসোর্টে গোপনে গেস্টের ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করা সেই মেঘমালতি এখন বেলাশেষে রিসোর্ট

অবহেলার পাত্র নাকি সভ্যতার স্থপতি?

সম্পাদকীয় ডেস্ক - প্রতিনিধি

প্রকাশের সময়: 04-04-2025 10:43:56 pm



"কৃষক" শব্দটি উচ্চারণমাত্রই অনেকের চোখে ভেসে ওঠে এক ক্লান্ত, মলিন মুখ। সমাজের একশ্রেণির মানুষ এই পেশাকে অবহেলার দৃষ্টিতে দেখে, যেন এটি গৌণ, নগণ্য। অথচ সভ্যতার ভিত্তি দাঁড়িয়ে আছে এই কৃষকদের শ্রমের ওপর। তারা নিঃশব্দে মানবজাতির খাদ্য ও অর্থনীতির ভিত্তি রচনা করেন। কিন্তু আধুনিক সমাজে তারা কি যথাযথ সম্মান পাচ্ছেন?


জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO) বলছে, বিশ্বে ৮০ কোটিরও বেশি মানুষ এখনো ক্ষুধার্ত অবস্থায় দিন কাটায়। অথচ কৃষকদের নিরলস পরিশ্রমেই প্রতিদিন কোটি কোটি মানুষের খাবার জোটে। বাংলাদেশে মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ৪০% আসে কৃষি খাত থেকে। কিন্তু এই শ্রমজীবী মানুষগুলোর অবস্থা কেমন?


কৃষকরা চাষাবাদ করেন, ধান-গম-সবজি ফলান, গবাদি পশু লালন করেন-এই প্রতিটি ধাপ অত্যন্ত পরিশ্রমসাধ্য। সূর্যের প্রখর তাপে, বর্ষার প্লাবনে কিংবা হিমশীতল শীতে-প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও তারা খাদ্য উৎপাদন অব্যাহত রাখেন। কিন্তু তাদের আয়ের অবস্থা কেমন?

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (BARC) তথ্য অনুযায়ী, দেশে ধান উৎপাদন বিগত কয়েক দশকে বহুগুণ বেড়েছে, কিন্তু কৃষকের আয় আশানুরূপ বাড়েনি। কেন?

১. কৃষকরা সরাসরি বাজারে তাদের পণ্য বিক্রি করতে পারেন না। ফলে ফড়িয়া, দালাল ও পাইকাররা কম দামে কৃষকের কাছ থেকে ফসল কিনে বেশি দামে বিক্রি করেন। এতে প্রকৃত উৎপাদকরা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হন।

২. বীজ, সার, কীটনাশক, সেচের খরচ বেড়ে চলেছে, কিন্তু ফসলের দাম সে অনুযায়ী বাড়েনি। কৃষকরা লাভবান হতে না পেরে ধার-দেনায় জড়িয়ে পড়েন। ফলে ঋণের বোঝা তাদের দারিদ্র্যের ফাঁদে আটকে রাখে।

৩. খরা, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, বজ্রপাত-এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগ কৃষি উৎপাদনে বড় বাধা। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এসব দুর্যোগ আরও বাড়ছে, যা কৃষকদের জীবনকে কঠিন করে তুলেছে।


বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা, চাকরি কিংবা শহুরে জীবনের দিকে ঝোঁক থাকলেও কৃষিকাজকে এখনো পিছিয়ে পড়া পেশা হিসেবে দেখা হয়। শিক্ষিত সমাজে কেউ কৃষক হতে চায় না। অথচ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পেশা এটিই। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে কৃষকদের উচ্চ মর্যাদা দেওয়া হয়। জার্মানিতে কৃষকরা সরকারি ভর্তুকি পান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কৃষকের জীবনমান উন্নয়নে নানা নীতি গ্রহণ করা হয়। কিন্তু বাংলাদেশে কৃষকদের প্রতি তেমন নজর দেওয়া হয় না।

তাদের এ দুর্দশা লাঘবে আমাদের তথা রাষ্ট্রের দায়িত্ব নেয়া অতীব জরুরী যেমন-

১. সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে সরকারিভাবে ধান, গম, সবজি ক্রয় করে তাদের উপযুক্ত মূল্য নিশ্চিত করা উচিত।

২. কৃষকদের জন্য স্বল্পসুদে ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে, যেন তারা সহজে চাষের খরচ জোগাড় করতে পারেন।

৩. উন্নত প্রযুক্তি ও আধুনিক কৃষি পদ্ধতি ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি ও ব্যয় হ্রাস করা সম্ভব।

৪. কৃষকদের জন্য সম্মানজনক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা এবং তরুণদের কৃষিখাতে আকৃষ্ট করতে কৃষি শিক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।


যারা মাঠে ঘাম ঝরিয়ে খাদ্য উৎপাদন করেন, তারা অবহেলার পাত্র নন; বরং সভ্যতার স্থপতি। কৃষকের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো শুধু নৈতিক দায়িত্ব নয়, এটি আমাদের অস্তিত্বের প্রশ্ন। যদি কৃষকরা উৎপাদন বন্ধ করে দেন, তবে কেমন হবে আমাদের ভবিষ্যৎ? উন্নয়ন, চাকরি, আধুনিক জীবন-সবকিছুই তখন অর্থহীন হয়ে পড়বে। তাই কৃষকদের যথাযথ সম্মান ও সুযোগ-সুবিধা প্রদান করাই হবে একটি টেকসই সমাজ ও অর্থনীতির মূল চাবিকাঠি।


লিখেছেনঃ

দিলীপ ভৌমিক

উন্নয়ন কর্মী

আরও খবর