‎সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের চাপে আত্মসমর্পণ বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ৩ সদস্যের বজ্রপাতে নিহত ৪ গরুর মালিকদের আর্থিক সহায়তা দিল গলাচিপা উপজেলা প্রশাসন শ্যামনগর সরকারি মহসীন ডিগ্রী কলেজে বৃক্ষ রোপন কর্মসূচির উদ্বোধন ঝিনাইগাতীতে পাহাড়ি ঢলে মহারশি নদীর পানি বিপদসীমার দিকে, নদীর তীরবর্তী বাড়ি-ঘরে জলাবদ্ধতা নদীকে বাঁচাতে হবে: প্রধানমন্ত্রী ঋণের বোঝা কাঁধে নিয়ে প্রথমবার সাগরে, আর ফেরা হলো না আক্কাসের নালিতাবাড়ীর এক পরিবারে তিন বিসিএস ক্যাডার: শেরপুরজুড়ে প্রশংসা, শিক্ষার্থীদের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত সংবিধানে ফিরলো গণভোট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা লাখাইয়ে বুল্লা সিংহগ্রাম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএমসি সভাপতি ফজলে রাব্বি। রংপুরে ওয়াইসিডিও'র জব ফেয়ার অনুষ্ঠিত, তাৎক্ষণিক চাকরি পেলেন প্রায় ১০০ জন বকশীগঞ্জ খয়ের উদ্দিন ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা মাঠ যেন 'জলাশয়', ভোগান্তি চরমে, পৌর প্রশাসাকের ওপর স্থানীয়দের ক্ষোভ টানা বর্ষণে সাতকানিয়া-লোহাগাড়ায় বন্যা পরিস্থিতি, আতঙ্কে সাধারণ মানুষ শ্রীমঙ্গলে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ধর্ষণের অভিযোগ রজত জয়ন্তীতে গোবিপ্রবিতে তরুণ কলাম লেখক ফোরামের আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ নন্দীগ্রামের ঐতিহ্যবাহী নিমাইদিঘী আদর্শ কলেজের সভাপতি হলেন আদর গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নামে ১৩৭টি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত: তথ্যমন্ত্রী অনার্স পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা বিনামূল্যে করতে চাই: প্রধানমন্ত্রী শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞের প্রধান আসামি শেখ হাসিনা বগুড়ায় হবে সামরিক ড্রোন কারখানা: সংসদে প্রধানমন্ত্রী শার্শায় ইয়াবাসহ ২ ইউপি সদস্যসহ ৪ মাদক কারবারি আটক

স্মৃতির পাতায় স্কুল

দেশচিত্র নিউজ ডেস্ক

প্রকাশের সময়: 27-10-2022 01:51:42 am

ফাইল ছবি


◾  অমিত হাসান


প্রাথমিকের গন্ডি পেরিয়ে কিছু দিন হলো হাইস্কুলে ভর্তি হয়েছি । উপজেলার সবচেয়ে নামকরা স্কুল । প্রতি বছর ভালো ফলাফল ছাড়াও স্কুলটির আরেকটি বিশেষত্ব হচ্ছে স্কুলটির মনোমুগ্ধকর পরিবেশ । শীতলক্ষ্যা নদীর কোল ঘেষে অবস্থিত এই স্কুলটি নির্মিত হয়েছে সেই ব্রিটিশদের শাসনামলে । তারপর থেকে কত গুণীজনের বিদ্যাপীঠই না ছিল এই প্রতিষ্ঠান । কালের প্রবাহে আমারও সুযোগ হয় স্কুলটিতে অধ্যয়নের ।

  

২০১২ সাল । ক্লাস সিক্সে পড়ি । স্কুলে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মূলপর্বে বিভিন্ন ইভেন্টের খেলা চলমান । শিক্ষার্থীরা ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার সাথে একের পর এক বিভিন্ন ইভেন্টে নিজেদের মুন্সীয়ানা দেখিয়ে যাচ্ছে । কিছুক্ষণের মধ্যে এলো আমার পালা । ১০০ মিটার স্প্রিন্টে (একক) দৌড়াতে হবে আমায় । সবাই শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিয়ে নিচ্ছে । কিন্তু আমার বুকের ভেতর চাপা ভয় । আমি কি পারবো ? আর না পারলে আমায় নিয়ে সবাই হাসাহাসি করবে না তো ? নতুন স্কুল, নতুন পরিবেশ,নতুন বন্ধু-বান্ধব । ভয় আর উৎকন্ঠায় আমার গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে যাচ্ছে । মনে মনে সিদ্ধান্ত নিলাম আমি পালাবো । খেলায় হারের আগেই হার মেনে নিতে যাচ্ছিলাম । আর নিজেকে এই ভেবে সান্ত্বনা দিলাম যে, প্রতিযোগিতায় জিততে পারলে যা পুরষ্কার পেতে পারতাম তাঁর জন্য মন খারাপও করবো না । বরং বাসায় গিয়ে মা কে বলবো বিজয়ীরা যে পুরুষ্কার পায় সেটা দোকান থেকে কিনে দিতে । যেই ভাবা সেই কাজ । প্রতিযোগিতার ট্র্যাক থেকে পালিয়ে বাড়ি ফিরতে আমি এগিয়ে চলছি । 


ছবি: লেখকের স্মৃতিময় স্কুল 



স্কুলের পেছন দিকটার ওয়াল টপকে পালানোর ক্ষেত্রে অন্যদিন হলে বন্ধুরাই সাহায্য করতো । কিন্তু কোনো এক অজানা কারণে সেদিন বন্ধুরাই আমার বিপক্ষে । আজকাল দেশ-বিদেশে বিভিন্ন ইভেন্টে খেলার নাম করে পিকনিক ফেরত কর্মকর্তারা যেমন বলে-'জয়-পরাজয় বড় নয়,অংশগ্রহণটাই বড়' বন্ধুরাও তেমনটাই বললো । তারপর কী আর করা ! সহপাঠী,বন্ধু সবার জোরাজোরিতো অগত্যা ১০০ মিটারের স্প্রিন্টে দাঁড়ালাম । কিন্তু আমার দুষ্ট বুদ্ধিগুলো তখনো মাথায় ঘুরপাক করছিলো । মনে মনে ঠিক করেছি হুইসেল বাজার পর একটু দৌড়ে ইচ্ছে করেই মাটিতে পড়ে যাবো । মনে হচ্ছিলো পারবো তো না এমনিতেই । আর এই ভাণটা করলে হয়তো অন্তত ইনজুট অজুহাত দিয়ে লোকেদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য থেকে বেঁচে যেতে পারি । 

 

তারপর প্রতিযোগিতা শুরুর পর এই পরিকল্পনাটাও অন্য পরিকল্পনাগুলোর মতো শুধু পরিকল্পনাই রয়ে গেলো । হুইসেল বাজার সাথে সাথে পায়ে অপ্রত্যাশিত কিছু একটার স্পর্শ অনুভব করলাম । সাথেসাথে এক বন্ধু খানিকটা দূরে থেকে চিৎকার করে বললো,'সাপ,সাপ,অমিত দেখ তর পায়ের কাছে সাপ' ! আমি আর পিছনে ফিরে তাকানোর সাহস করতে না পেরে সোজা দৌড় । তখন সবাই দৌড়াচ্ছে প্রথম হতে,আর আমি দৌড়াচ্ছি সাপের ভয়ে । 

ছবি: লেখকের স্মৃতিময় স্কুল


তারপর ফলাফল যা হওয়ার তাই হলো । সেরা সেরা দৌড়বিদরা আমার জীবন বাঁচানো দৌড়ের কাছে হেরেই গেলো । যে আমি কিছুক্ষণ আগে প্রতিযোগিতার মঞ্চ থেকে পালাতে চাচ্ছিলাম সেই আমিই প্রথম হয়েছি । এ অভাবনীয় ফলাফলে বিস্মিত আমি মনে মনে আরেকটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি । যাঁদের জন্য আমি প্রথম হয়েছি পুরষ্কার পেয়ে তাঁদেরই দিয়ে দিবো । কারণ এই প্রথম হওয়ার পেছনে আমার নিজের অবদান একেবারে নেই বললেই চলে । কিন্তু এই ভাবনার মধ্যেও ঘটে যায় নতুন আরেক বিপত্তি ।  


আমার প্রথম হওয়ার পেছনে কার অবদান বেশি এই নিয়ে অন ফিল্ড বন্ধুরা নিজেরা নিজেদের মধ্যে কাঁদা ছোড়াছুড়ি করতে থাকে । এতে করে আসল ঘটনাটাও মুহূর্তের মধ্যে পুরো স্কুলে ছড়িয়ে পড়ে । দায়িত্বশীল স্যাররাও কিছুক্ষণের মধ্যে সবটা জানতে পেরে যায় এবং আমাকে শাস্তি হিসেবে ডিস কোয়ালিফাই ঘোষণা করে যে দ্বিতীয় হয় তাকে প্রথম ঘোষণা করে । এতে আমার বিন্দুমাত্র আক্ষেপ না থাকলেও একটা প্রশ্ন এখনো আছে । পুরনো স্মৃতি মনে পড়লে আমি এখনো ভাবি সেদিন আমার প্রথম হওয়ার পেছনে কার অবদান সবচেয়ে বেশি ছিল ? যে বন্ধু গোপন পরিকল্পনা ফাঁস করেছে তাঁর ? নাকি যারা পালাতে দেয় নি তাদের ? নাকি যে বন্ধু খেলনা সাপ আনার পরিকল্পনা করেছে সে বন্ধুর ? নাকি যে বন্ধু খেলনা সাপ ঠিক জায়গামতো মারতে পেরেছে সে বন্ধুর ? নাকি যে বন্ধু শেষ মুহূর্তে আমাকে সতর্ক করেছে সেই বন্ধুটার ?


আরও খবর