শ্যামনগরে দুর্গা পূজা মন্ডপ পরিদর্শনে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ড.মনিরুজ্জামান লাখাইয়ে পুজা মণ্ডপ পরিদর্শনে লাখাই প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ। সাংবাদিকদের উদ্দেশে এমপি সুলতান মাহমুদ বাবু বললেন, 'আমি যদি দুর্নীতি করি, সেটাও লিখবেন' তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসায় আলিম প্রথম বর্ষের নবীনবরণ অনুষ্ঠিত শান্তিগঞ্জে পিএফজি ও ওয়াইপিএজি'র ত্রৈমাসিক সভা অনুষ্ঠিত ঢাকায় পেশাদার বারিস্তা গড়ে তুলছে DSCA, দেশের প্রথম ISO-সার্টিফায়েড কফি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান উলিপুরে ছাত্র হিযবুল্লাহ্ কুড়িগ্রাম জেলা শাখার কাউন্সিল ও সম্মেলন অনুষ্ঠিত শার্শায় মোবাইলে ভিডিও ধারন করে প্রবাসী স্ত্রীর আত্মহত্যা সাতকানিয়ায় ‘মৌসুমী হিজড়া’র বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সুরক্ষায় সেরার স্বীকৃতি পেলো শেরপুর জেলা প্রকৃতি ও জীবন ক্লাব যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড পেলেন মৌসুমী জাতীয় পতাকার মান রক্ষা করা প্রতিটি সৈনিকের পবিত্র দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য অটুট রাখতে হবে : রাষ্ট্রপতি মহাষ্টমী: দেবীবন্দনা ও আমাদের সার্থকতা -সচ্চিদানন্দ দে সদয় পীরগাছায় ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন !! তদন্ত প্রতিবেদনে অনিয়ম ও অর্থ দাবির অভিযোগ সামাজিক সম্প্রীতি জোরদার হোক দুর্গাপূজায় দেবহাটায় শামীম হত্যা মামলায় ফজলুল হক আমিনী গ্রেপ্তার লোহাগাড়ায় ভাড়া বাসা থেকে কিশোরীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার সাতকানিয়ায় চুরির অপবাদে যুবককে পিটিয়ে হত্যা রায়পুরে মন্দিরে কাজ করতে গিয়ে ইলেকট্রিশিয়ানের মৃত্যু

মতিহারের সবুজ চত্বরে চড়ুইভাতির আমেজ

দেশচিত্র নিউজ ডেস্ক

প্রকাশের সময়: 09-12-2023 05:28:25 am


◾বসুদেব রায় : "গ্রাম ছাড়া ঐ রাঙা মাটির পথ আমার মন ভুলায় রে" কি বিরক্তি! আহা! কে রে? মাঝে মাঝে খুব মধুর কোনো জিনিসও বিরক্তিকর হয় যখন তা নিজের ইচ্ছের বিপরীতে ঘটে। রবি ঠাকুরের এই গানটি পছন্দ করে মোবাইলের রিংটোন হিসাবে সেট করেছিলাম। সকালবেলা তা বেজে উঠলে মেজাজ হারিয়ে ফেলি। ইতোমধ্যে দুবার বেজে উঠেছে। তৃতীয়বার আর দেরি না করে কলটা রিসিভ করতে গেলাম, ঠীক তখনি কেটে গেল। ধুত্তরি বলে মোবাইল হাতে নিয়ে দেখি ঘড়িতে এরমধ্যে পনে নয়টা বেজেছে । একবিংশ শতাব্দীতে ঘুম আসে দিনের প্রথম প্রহরে তাই প্রভাত একটু দেরিতে হয়। মোবাইল নাম্বার দেখে আর বুঝতে দেরী হল না কে কল দিচ্ছে। মিস কল ব্যাক করে বললাম, বন্ধু প্রশান্ত কি অবস্থা?প্রশান্ত বললো, বন্ধু কখন আসবি? কোথায় বলতে গিয়ে দন্তমূলে আঘাত পেয়ে বুঝতে পারলাম যে, আজকে আমাদের চড়ুইভাতি আছে। পাশের রুম থেকে চিৎকার করে আরেক বন্ধু হৃদয় বলল, রে বাসু গোছাও। তখন আর বেশি দেরী না করে আধ-ঘুমাবস্থায় ফ্রেশ হয়ে বেড়িয়ে পড়লাম। সবে স্নানিত সূর্য্যের মিষ্টি রোদে আর চারিদিকের মৃদু হাওয়ায় চোখের প্রশান্তি মিলছে । রাস্তায় পাশে দাঁড়িয়ে থাকা নব লতা পারুল মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে । তার গন্ধে আকুল হয়ে হলুদ রঙের প্রজাপতি দিশা হারিয়ে বৃত্তাকার পথে ঘুরতেছে।


চড়ুইভাতি মানেই যেন এক গুচ্ছ পাপড়ির সম্মিলিত ঘ্রাণ। যেখানে সম্প্রতি চেতনার বিকাশ ঘটে। সৃষ্টি হয় বন্ধুত্ব, লিডারশীপ, দায়িত্বশীলতা ও কর্তব্যপরায়ণতা। প্রীতি-ভোজের জন্য আমরা ঐতিহাসিক স্থানকে নির্বাচন করেছিলাম। ইতোমধ্যে আমি আর রুমন রিক্সা করে মতিহারের সবুজ চত্বরে ৭৫৩ একরের নিরালা বধ্যভূমিতে উপস্থিত। কোনো কিছুর আয়োজন মানেই যেন ব্যবস্থাপনার সমাহার। তাই সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার নিমিত্তে প্রত্যেক বন্ধুদের আলাদা আলাদা কাজের ভাগ করে দেওয়া হয়েছিল। সেই অনুযারী কিছুক্ষণ পরপর কেউ ডেকোরেশনের আসবাবপত্র, কেউ রান্নার উপকরণ,কেউ দীপ্র-৩০ এর ফ্রেম ও পুরষ্কার ইত্যাদি ইত্যাদি নিয়ে হাজির হচ্ছে। আসলে,ব্যবস্থাপনা বিষয়টিকে সাফল্যমণ্ডিত করে দায়িত্বশীলতা যা সকলে দ্বারা সম্ভব হয় না। আর এই গুনের অধিকারী ব্যক্তিরা সকলের মন জোগাতে পারে। এতক্ষণে আমরা অস্থায়ীভাবে একটা বাসযোগ্য স্থান তৈরি করে ফেলেছি। সাইন্ড বক্সের স্পন্দনের তালে তালে মুখরিত হচ্ছে মতিহার চত্বর। পাশে পুকুরের জলে মাছের সাথে ঝাঁক বাঁধা পানকৌড়ির খেলা। আগত দুপুরে ছায়ার নিচে বন্ধু-বান্ধবদের পদার্পণ। চেনা মুখগুলো অচেনা সাজে ভরপুর তাই বিমোহিত প্রকৃতি হিমেল হাওয়ার পানে।


একদিকে রান্না চলতে থাকে। অন্যদিকে আমাদের মতবিনিময় চলে। আয়োজনটিকে আমরা কয়েকটি ধাপে সম্পূর্ণ করেছিলাম। প্রথম ধাপে ছিল ছেলে ও মেয়েদের জন্য আলাদা আলাদা খেলাধূলার ব্যবস্থা। মেয়েদের জন্য ছিল বালিশ খেলা ও ঝুঁড়িতে বল নিক্ষেপ আর ছেলেদের জন্য হাঁড়ি ভাঙ্গা,বল নিক্ষেপ ও চেয়ার খেলা। এতে একদিকে যেমন আনন্দের জোয়ার ভাসছিল, অন্যদিকে তেমন সহনশীলতা ও সহানুভূতির জন্ম হয়েছিল। এরপর খাওয়া-দাওয়া ছিল দ্বিতীয় ধাপে। ডিপার্টমেন্টের শিক্ষকদের সঙ্গে একসাথে বসে খাওয়া ও বন্ধুদের নিয়মতান্ত্রিক পরিবেশন সত্যিই দিনটা অন্যরকম ছিল। খাওয়া-দাওয়া শেষে খেলাধূলায় বিজয়ীদের হাতে পুরষ্কার বিতরণ যা ছিল তৃতীয় ধাপে। অর্জন যতই ছোটো হোক না কেন প্রাপ্তির মর্যাদা সেখানে বহুলাংশে বিরাজ করে। এরপর ফটোসেশন চলে কিছু সময়। ততক্ষণে ক্লান্ত বিকেল নৈঋত কোণে বড় গাছটির চূড়ায় আড়ি পেতেছে। শেষে সাময়িক কালক্ষেপ নৃত্য। একই সুরে বাধিত হয় কয়েকটি গলা। কেউ বা সংকুচিত হয়ে পুলকে নিমেষের পলক মেলাচ্ছে। অদূরে আলোকিত আলো নিজেকে আড়ালে লুকিয়ে রাখছে। এভাবে অনুষ্ঠানের পরিসমাপ্তি ঘটাতে এগিয়ে আসছে আঁধার। দলবাঁধা পানকৌড়ি ছুটছে সাঙ্গ বিরাগে। অবশেষে অপেক্ষমান মৎস্যভোজী দুপাখা হাওয়ায় মিলাতে থাকে সম্প্রতির বন্ধনে।


লেখক:  বসুদেব রায়, শিক্ষার্থী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও সদস্য বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম,রাবি শাখা।


আরও খবর