উলিপুরে ট্রেনে কাটা পরে বৃদ্ধার মৃত্যু লোহাগড়ায় গ্রাম পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের মাসব্যাপী বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ" কোর্সের উদ্ধোধন ঝিনাইগাতীর নকশী সীমান্ত থেকে ১৪৭ বোতর ভারতীয় ইস্কাফ সিরাপ উদ্ধার নালিতাবাড়ীর সিবিও নেতৃবৃন্দের জামালপুরের উন্নয়ন সংঘের সীডস প্রকল্প পরিদর্শন মাঝ নদীতে ইঞ্জিন বিকল হয়ে ট্রলারডুবে নিখোঁজ দুই জেলে ইসরায়েলে ভোট আজ, চ্যালেঞ্জের মুখে নেতানিয়াহু জাপান-বাংলাদেশ বন্ধুত্ব হবে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির চালিকাশক্তি: প্রধানমন্ত্রী কুলিয়ারচরে ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কর্মঘণ্টায় তালা: চরম ভোগান্তিতে সেবাগ্রহীতারা রাষ্ট্র কাঠামোর সংস্কার না হলে তারেক রহমানও একই পথে হাঁটবেন: নাহিদ ইসলাম দুধ-কলা একসঙ্গে খেলে শরীরে কী ঘটে? ইয়োহেই সাসাকাওয়ার নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রী সরকার অনুমতি দিলে ক্রসফায়ার করতেও পিছপা হবে না পুলিশ : আইজিপি চুনতিতে ৪০ বছর পর উদ্ধার বনভূমিতে বৃক্ষরোপণ সিংড়ায় স্বামীর থাপ্পড়ে স্ত্রীর মৃত্যুর অভিযোগ সিংড়ায় স্বামীর থাপ্পড়ে স্ত্রীর মৃত্যুর অভিযোগ জয়পুরহাটে হত্যা মামলার ২৩ বছর পর মোজাম নামে একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড শ্যামনগরে দলিত জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে মতবিনিময় সভা মারকাজুত তাহফিজ মাদ্রাসার ১৮ সংবর্ধিত হাফেজকে নিয়ে কক্সবাজার ভ্রমণের ঘোষণা, এক বছরে হিফজ সম্পন্নকারীদের চট্টগ্রাম-কক্সবাজার বিমানে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি ঝিনাইগাতীর সীডস প্রকল্পের সিবিও নেতৃবৃন্দের দেওয়ানগঞ্জে সিএসএ কার্যক্রম পরিদর্শন ও অভিজ্ঞতা বিনিময় জাবিপ্রবির সার্বিক উন্নয়নে রাষ্ট্রপতির সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কবে নিশ্চিত হবে?

দেশচিত্র নিউজ ডেস্ক

প্রকাশের সময়: 19-09-2022 10:51:39 am

লেখক


◾ তোফায়েল আহমেদ রামীম


রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন নিয়ে গত ছয় বছর ধরে চলছে নানা ছিনিমিনি খেলা। আন্তর্জাতিক মহলের নির্লিপ্ততা, বিশ্ব নেতাদের অমনোযোগীতা ও জাতিসংঘ এখানে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করায় দীর্ঘায়িত হচ্ছে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়টি।


২৫ আগস্ট ২০১৭ সালে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী কর্তৃক রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর উপর বর্বরোচিত গণহত্যা চালায়। প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ সরকার মানবিকতার দৃষ্টিকোণ থেকে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়। এরই মধ্যে ছয় বছর অতিবাহিত হয়েছে, নানা নাটকীয়তার চাদরে মিয়ানমার ঢেকে দিচ্ছে বা দেওয়ার চেষ্টা করছে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ইস্যু। মিয়ানমার সরকার সব সময় আন্তর্জাতিক মহলকে বোঝানোর চেষ্টা করছে, তারা রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে আন্তরিক ; কিন্তু তাদের বাস্তবিক পদক্ষেপ নানা নাটকীয়তায় ভরা। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সরকারের মধ্যে ২০১৭ সালের ২৩ নভেম্বর ১৯ দফা সংবলিত একটি সমঝোতা দলিল স্বাক্ষরিত হলেও তার বাস্তবিক প্রতিফলন আজও রয়ে গেল অধরায়। সাত ভাগে বিভক্ত করে ৩ হাজার ৪৫০ জন রোহিঙ্গাকে মিয়ানমার নিজেদের দেশে ফেরত নেওয়ার কথা ২০১৯ সালের ২২ আগস্ট প্রকাশ করে। তবে সেটা কাগজের পাতায় সীমাবদ্ধ রয়ে গেল, বাস্তবায়ন করা আদৌ সম্ভব হয়নি।


২০১৯ সালে গাম্বিয়ার পক্ষ থেকে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে আরোপিত মামলার শুনানি শেষে ২০২০ সালের ২৩ জানুয়ারী মামলার অন্তর্বর্তীকালীন আদেশে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে সরাসরি কোনো নির্দেশনা বা ঈঙ্গিত আসেনি। তারপর করোনা ও মিয়ানমার সেনা অভ্যুত্থানের কারণে লাল ফিতার দৌরাত্মার ন্যায় ঢাকা পড়ে যায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের আলোচনা। ২০২১ সালের ১ ফ্রেরুয়ারী সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মিয়ানমারের ক্ষমতা দখল করে সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাই। এই রাজনীতি পটভূমি নতুনভাবে ভাবাতে শুরু করে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের আলোচনাকে। ১৮ জুন ২০২১ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে মিয়ানমার বিষয়ক গৃহীত রেজুলেশনে দেশটির গণতান্ত্রিক সমস্যাসহ অনেক বিষয় উল্লেখ থাকলেও ছিটকে পড়ে যায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ইস্যু। ২০২১ সালের ১২ জুলাই জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের ৪৭তম অধিবেশনে রোহিঙ্গাবিষয়ক গৃহীত রেজুলেশন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে জাতিসংঘের কোনো পদক্ষেপ এখনও দৃশ্যমান নয়।


এরই মধ্যে নতুন নাটকীয়তা জন্ম দেয় ২০২২ সালে বাংলাদেশের কাছে মিয়ানমারের পাঠানো রোহিঙ্গাদের তালিকা। ১১ হাজার জনের তালিকা পাঠানোর কথা থাকলেও সেই তালিকায় স্হান পায় মাত্র ৭০০ জন মানুষ। সেই তালিকায় পরিবারের বাবার নাম আসলেও স্হান মেলেনি অন্যান্য সদস্যদের। এটাও মিয়ানমারের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পিত কৌশল। স্বাভাবিকভাবেই পরিবারের একজনকে রেখে অন্যজন যেতে চাইবেনা, ঘটলও তা-ই। এই তালিকায় স্হান পাওয়া রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফেরত যেতে অস্বীকৃতি জানায়।


সম্প্রতি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ইস্যুতে নতুন মাত্রা যুক্ত করলেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল ব্যাশেলেট। গত ১৬ আগস্ট ২০২২ সালে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন তিনি। রোহিঙ্গারা তার কাছে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও মিয়ানমারে ফেরত যাওয়ার আশা ব্যক্ত করেন। তথ্য প্রযুক্তির কল্যাণে জানা গেল, তিনি বোঝানোর চেষ্টা করছেন রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য এখনও অনুকূল পরিবেশ তৈরী হয় নি। তিনি তাদেরকে অপেক্ষা ও ধৈর্য ধারণের পরামর্শ দেন।


অথচ এই রাখাইন রাজ্য নিয়ে কত-শত বাণিজ্যিক পরিকল্পনায় বিভোর রয়েছেন বিশ্বের ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলো। এর মধ্যে চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড' প্রকল্প, থেলং মিয়ানমার-চীন তেল, গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্প, গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণসহ, ভারতের কালাদান বহুমুখী প্রকল্প, দুটি পানি বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প, মিয়ানমার-থাইল্যান্ড ও ভারতের মধ্যে যোগাযোগ স্হাপনকারী চার লেন মহাসড়ক স্হাপন প্রকল্প, রাশিয়ার তেল কোম্পানি বাশনেফটের বিনিয়োগ, জাপান সরকারের রাখাইনের মংডুর কাছাকাছি পরিকল্পিত ইকোনমিক জোন প্রতিষ্ঠার মতো প্রকল্প উল্লেখযোগ্য। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য মিয়ানমার সরকার সুকৌশলে কাজ করে যাচ্ছে। রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন করলে ভেস্তে যেতে পারে এই ধরনের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা।


এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, মিয়ানমার সরকার রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ে রাজনীতি করে চলছে। সেই সূত্রে মিশেল ব্যাশেলেটের এ অপেক্ষার বাণী নতুন করে ভাবাচ্ছে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের সমাধানের পথকে। এখন দেখার বিষয় এই অপেক্ষার অবসান কবে ঘটে। কবে নিশ্চিত হয় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন। বিশ্ববাসী সেটা দেখার জন্য অপেক্ষার প্রহর ঘুনছে।



তোফায়েল আহমেদ রামীম

লেখক ও শিক্ষার্থী

আরও খবর



6ad3adc1cb7fd-171026111753.webp
দুর্গোৎসব: পূজার আড়ালে যে মানবতার পাঠ

১০ দিন ৫ ঘন্টা ০ মিনিট আগে


6ac3b9837d6ba-051026085147.webp
এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা তবুও অবহেলিত

২১ দিন ২৩ ঘন্টা ৩৭ মিনিট আগে