বানিয়াচং মডেল প্রেসক্লাবের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী বাজেটের মূল লক্ষ্য দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন: অর্থমন্ত্রী জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড.খলিলুর রহমান লাখাইয়ে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে ২ ইটভাটাকে ৬ লক্ষ টাকা জরিমানা। লোকনাথ ব্রহ্মচারীর জীবনাদর্শ থেকে সম্প্রীতি ও মানবসেবার আদর্শ অনুসরণের আহ্বান . -এমপি সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমের ঝিনাইগাতীতে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, ৭ মামলায় জরিমানা ৩ হাজার ২০০ টাকা সুস্থধারার তরুণ রাজনীতিবিদ এম. রতন হায়দার: ৮নং আউশনারা ইউনিয়নের উন্নয়ন ও জনসেবায় প্রতিশ্রুতিশীল মুখ পীরগাছায় আলোকিত নাপাইচন্ডির ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে পাঁচ শতাধিক মানুষের চিকিৎসাসেবা প্রদান সংবাদ প্রকাশের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রশাসনের পদক্ষেপ: ঝিনাইগাতীর ভালুকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জলাবদ্ধতা নিরসনে সরেজমিনে ভারপ্রাপ্ত ইউএনও বগুড়ার আদমদীঘিতে দুই মাদক কারবারির জেল-জরিমানা ক্ষেতলালে সড়কে খড় শুকানোর দায়ে মোবাইল কোর্ট, ২ জনকে জরিমানা আক্কেলপুরে মাসুম বিল্লাহ হত্যার বিচার দাবিতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কমিশনের মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ বরিশাল শেরেই বাংলা হাসপাতলে চিকিৎসা পেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা, ক্ষোভে ফুঁসছে স্বজনরা” লাখাইয়ে ৩৭ ঘন্টা পর নিখোঁজ ভারসাম্যহীন ফখরুদ্দিনের লাশ উদ্ধার,গ্রেফতার -০২। নাগেশ্বরী উপজেলা ছাত্রদলকে সুসংগঠিত করে মানবিক রাজনীতি করতে চান আকাশ জমি বিরোধে থানায় লিখিত অভিযোগ ক্ষেতলালে পানির দামে কুরবানি পশুর চামড়া বিক্রি ক্ষেতলালে ট্রাক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে শ্যালক-দুলাভাই নিহত, আহত ১ ক্ষেতলালে একদিনে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২, শিশুকে অপহরণ করে হত্যাচেষ্টা, আত্মহত্যায় ২ নারীর মৃত্যু

মহামারী রূপে পরিণত হচ্ছে শব্দ দূষণ

দেশচিত্র নিউজ ডেস্ক

প্রকাশের সময়: 05-08-2022 09:21:29 am

ফাইল ছবি


• মোঃ রুবেল আহমেদ: 


বর্তমানে একটি মারাত্মক সমস্যার নাম

শব্দদূষণ। ২০২২ সালের UNEP (United Nations Environment Programme) এর তথ্য মতে, শব্দ দূষণে বাংলাদেশের অবস্থান শীর্ষে। বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে কোলাহলপূর্ণ নগর হিসেবে পরিচিত ঢাকা শহর। Frontuers-2022 এর প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ঢাকায় শব্দের গড় মাত্রা ১১৯ ডেসিবেল। যা বিশ্বের ৬১টি দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারতের মুরাদাবাদ। তৃতীয় ও চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে-পাকিস্তানের ইসলামাবাদ ও বাংলাদেশের রাজশাহী শহর। শব্দ দূষণের ফলে সবচেয়ে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্তের স্বীকার হচ্ছে ট্রাফিক পুলিশগণ। ১১.৮% ট্রাফিক পুলিশের শ্রবণশক্তি চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ঢাকায় আমরা যে শব্দ শুনি তা সহনীয় মাত্রার দ্বিগুণ। যদিও WHO (World Health Organization) এর নির্দেশনা অনুযায়ী আবাসিক এলাকায় সর্বোচ্চ দিনে ৫৫ ডেসিবেল এবং রাতে ৪৫ ডেসিবেল শব্দ ব্যবহারের নির্দেশ রয়েছে। বাণিজ্যিক এলাকায় দিনে ৭০ ডেসিবেল এবং রাতে ৬০ ডেসিবেল শব্দ ব্যবহার করা যাবে। হাসপাতাল, শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান, অফিসে-আদালতের আশেপাশে ১০০ মিটারের মধ্যে রাতে ৪০ ডেসিবেল ও দিনে ৫০ ডেসিবেল শব্দ ব্যবহারের নির্দেশ রয়েছে। 




সম্প্রতি ইক্যাপস এবং ইকিউএমএস কনসালটিং লিমিটেডের উদ্যোগে বাংলাদেশের ১৭ জায়গায় শব্দের মাত্রা হিসেব করা হয়। যেখানে দেখা যায় বাংলাদেশ মেডিক্যালের সামনে শব্দের মাত্রা ৭০ ডেসিবেল এবং সেন্ট্রাল হসপিটালের সামনে শব্দের মাত্রা ৮৯.৯ ডেসিবেল। ১৭ টি স্থানের গড় শব্দের মাত্রা ৮১.৭ ডেসিবেল। যা নির্ধারিত এবং সহনীয় মাত্রার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি। Water Keepers Bangladesh এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঢাকা শহরে সবচেয়ে বেশি শব্দ দূষণ হয় গুলশান-২ চত্ত্বরে। আর সবচেয়ে কম শব্দ দূষণ হয় জাতীয় সংসদ ভবনের এলাকায়। সাধারণত মানুষ কথা বলে ৩০ থেকে ৪০ ডেসিবেল শব্দে। আশেপাশে ৪৫ ডেসিবেল শব্দ থাকলে এক স্বাভাবিক মানুষ ঘুমাইতে পারে না। ৭০ ডেসিবেল পর্যন্ত শব্দ মানুষের কান গ্রহণ করতে পারে। ৮০ থেকে ৮৫ ডেসিবেলের উপরে গেলেই ক্ষতিগ্রস্ততা শুরু হয়। শব্দ দূষণের ফলে জনজীবনে যেসব সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে- হাইপার টেনশন, আলসার, হৃদরোগ, মাথাব্যথা, স্মরণশক্তি হ্রাস, স্নায়ুর সমস্যা ও মানসিক চাপ বেড়ে যাচ্ছে। 


WHO এর এক সমীক্ষা অনুযায়ী, মানুষের অসুস্থতার প্রথম কারণ বায়ুদূষণ এবং দ্বিতীয় কারণ হচ্ছে শব্দদূষণ। এই শব্দ দূষণের ফলে হৃদরোগে পরিমাণ বছরে প্রায় ৪৮ হাজার টা দেখা যায়। যার ফলে ১২ হাজার অপ্রাপ্ত বয়সীর মৃত্যু হয়। ১২ মিলিয়ন মানুষ ক্রনিক হাই এনোয়েন্সের শিকার হয়। এবং ৬.৫ মিলিয়ন মানুষ ক্রনিক হাই স্লিপ ডিসটারভেন্সের শিকার হয়। Australian Academy of Science এর রিপোর্ট মতে শব্দ দূষণের ফলে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে গর্ভবতী নারী ও শিশু। শিশুরা পড়ায় মনোযোগ হারিয়ে ফেলে। যদিও শব্দ দূষণ রোধে ২০০৬ সাল থেকে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন কর্তৃক বিধিমালা রয়েছে কিন্তু এসব আইন প্রয়োগে কারো কোন ধরনের হস্তক্ষেপ নেই। বিধিমালা অনুযায়ী কেউ যদি নিয়ম বর্হিভূত শব্দ ব্যবহার করে তাহলে ঐ ব্যক্তির একমাসের কারাদণ্ড বা ৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং একই অপরাধ যদি দ্বিতীয়বার করে তাহলে ৬ মাসের কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবে। কিন্তু আইনের প্রয়োগ যথাযথ হয়নি বলে এখনও পর্যন্ত শব্দ দূষণের শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ। সাম্প্রতিক তথ্যমতে, করোনা মহামারিতে মারা গেছে ৬.৩১ মিলিয়ন মানুষ। এই দিকে শব্দ দূষণের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে প্রতিবছর ২২ মিলিয়ন মানুষ। অতএব বলা যায়, বাংলাদেশ শব্দ দূষণের শীর্ষে থাকায় শব্দ দূষণ দেশের এক নতুন মহামারী রূপে পরিণত হচ্ছে। 


লেখক: রুবেল আহমেদ

ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ

ঢাকা কলেজ, ঢাকা।

আরও খবর