এবি ব্যাংকের শ্রীমঙ্গলে কৃষিঋণ বিতরণ কৃষি জমি থেকে মাটি কেটে বিক্রি করায় এক ব্যক্তির ১ বছরের কারাদণ্ড আশাশুনিতে আমদানীকৃত ভারতীয় অবৈধ বাগদার ডিম জব্দ, মালিককে না পেয়ে ড্রাইভারকে জরিমানা। নোয়াখালীতে টিন কেটে ঘরে ঢুকে গৃহবধূকে ধর্ষণ, আটক-১ জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান প্রধান (কলেজ) অধ্যক্ষ মোঃ নুরুল আমিন। শেরপুরে জেলা পর্যায়ে স্টার্ট আপ, সায়েন্স প্রজেক্ট ও ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রামের শুভ উদ্বোধন গোয়ালন্দে পল্লী মঙ্গল কর্মসূচির ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, চিকিৎসাসেবা পেলেন শতাধিক অসহায় মানুষ ঠাকুরগাঁওয়ে ঘুরতে নিয়ে গিয়ে কিশোরীকে গ*ণধ*র্ষ*ণ, প্রেমিকসহ গ্রেফতার ৩ দৌলতদিয়ায় পদ্মার তীব্র ভাঙন, আতঙ্কে নদীপাড়ের মানুষ রাজবাড়ীতে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামীলীগ সংগঠনের ৮ সক্রিয় সদস্য গ্রেপ্তার কুঁড়েঘরে এসি-সিসি ক্যামেরা, মাদক ব্যবসায়ীর রাজকীয় আস্তানা হাতিয়ায়তে কিশোররীকে ধর্ষণের অভিযোগে পুলিশ কর্মকর্তা প্রত্যাহার নোয়াখালীতে জুলাই স্মৃতি স্তম্ভে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা সেনবাগে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আপন দুই ভাই নিহত, আহত ১ দিনাজপুরে শিশুর ছবি বিকৃত করে পর্নোগ্রাফি ও ব্ল্যাকমেইল: প্রধান আসামি ঢাকা থেকে গ্রেফতার পিরোজপুরে শিক্ষা, গবেষণা ও বিজ্ঞান চর্চায় উদ্বুদ্ধকরণের লক্ষ্যে সেমিনার অনুষ্ঠিত পলাশে কবি জাকির মুরাদের জন্মদিন উদযাপন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বাস পোড়ানোর পর অবশেষে চালু হচ্ছে ভূরুঙ্গামারী–ঢাকা নাইট কোচ চিলমারীতে "ছেলের বউ ও নাতির হাতে বাবা ও মেয়েকে" আহতের অভিযোগ উঠেছে দশ জেলা সদর হাসপাতালে চালু হচ্ছে আইসিইউ

নিয়ম নাকি হেনস্তা?

দেশচিত্র নিউজ ডেস্ক

প্রকাশের সময়: 01-09-2022 03:43:26 am

প্রতীকি ছবি

◾ নুসরাত জাহান


কখনো কি ভাবার সুযোগ হয়েছে হলের গাট্টি ধরা নিয়মগুলো নিয়ে? এগুলো কি শিক্ষার্থীদের হেনস্তার জন্য বানানো? নাকি এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে একজন শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা! উচ্চশিক্ষা লাভের আশায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর একজন শিক্ষার্থী যখন পরিবার ছেড়ে আসে, তখন সবার আগে যে বিষয়টি মাথায় আসে তা হলো, আবাসন। এ ক্ষেত্রে হলের কোনো বিকল্প নেই। অথচ নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য আবাসন হলে আসন পাওয়ার পরও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পাওয়া যায় নানান অভিযোগ।


জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুবাদে আমার জীবনে মেস এবং হল দুটি পরিবেশে থাকারই অভিজ্ঞতা হয়েছে। আমি যখন ভর্তি হয়েছিলাম, তখন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের বসবাসের জন্য কোনো হল ছিল না। যদিও এটা জেনেই ভর্তি হয়েছিলাম। তখন ভেবেছিলাম খুব সহজে সবকিছু ‘ম্যানেজ’ করে নিতে পারব। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস শুরুর পর হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছিলাম!


পুরান ঢাকার বাড়িগুলো ছিল বেশ পুরোনো, স্যাঁতসেঁতে ও অন্ধকারাচ্ছন্ন। যদিও থাকার জন্য কোনো মেস পাওয়া যেত, তবে সেটিতে যেতে হবে অনেক সরু গলি দিয়ে। ফলে রাতে কোনো কাজ থাকলে মেয়ে-শিক্ষার্থীদের জন্য মেসে ফেরা বিপজ্জনক ছিল। ছেলেরাও একাধিকবার পড়েছে ছিনতাইয়ের কবলে। আমার এক বন্ধুর তিনটি মোবাইল ফোন হারিয়েছে এভাবেই। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো বাংলাদেশের সবচেয়ে ঘিঞ্জি পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া। 

এরপর যখন হলে সিট পাই, তখন আসলেই বুঝেছিলাম একজন শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষার অন্যতম একটি অংশ তার হল। যদি আমরা অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা চিন্তা করি, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় যে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার পর যখন হলে সিট পান, তখন তিনি নানা সমস্যায় পড়েন। পরিবার থেকে এসে যখন থাকতে হয় গণরুমে, তখন আকাশ ভেঙে মাথায় পড়াটা খুব স্বাভাবিক।


হলে আবার সিনিয়রদের ‘গুড ম্যানারস’ শেখানোর প্রতিযোগিতা তো চলেই। ক্যানটিনের খাবারের কথা না হয় না-ই বলি। এ ছাড়া রয়েছে পানির সমস্যা, গ্যাসের সমস্যা, টুকটাক জিনিসপত্র হারিয়ে যাওয়া, অপর্যাপ্ত শৌচাগার ইত্যাদি। যেন সমস্যার এক রাজ্যে বসবাস।


একে তো এত সমস্যা, তারপর হলের এত এত নিয়ম। রাত ৯টার মধ্যে হলে ফিরতে হবে। সকাল ৭টার আগে হল থেকে বের হওয়া যাবে না। বাইরে কোথাও থাকলে দরখাস্ত লিখতে হবে। হলে গেস্ট থাকতে পারবে না। এত্তসব নিয়মের গ্যাঁড়াকলে অতিষ্ঠ শিক্ষার্থীর জীবন।


আমরা কি একবারও ভেবে দেখেছি হলের এই নিয়মগুলো কেন দেওয়া হয়েছে? রাত ৯টার পর বা সকাল ৭টার আগে একজন শিক্ষার্থীর জন্য বাইরে থাকা কি নিরাপদ? আর হলে যখন কোনো বহিরাগত আসেন, তিনি কি সত্যিই আমাদের জন্য নিরাপদ? এমনকি কখনো হতে পারে না যে একজন বহিরাগত এসে হলের কারও পক্ষ নিয়ে হলের ভেতর ঝামেলার সৃষ্টি করলেন? এমনও হতে পারে কারও টাকা, কারও মোবাইল ফোন বা কারও ল্যাপটপ খুঁজে পাওয়া গেল না। হতে পারে তিনি মাদক নিয়ে হলে ঢুকলেন। হয়তো তাঁর সঙ্গ দিতে গিয়ে অনেকেই মাদকে আসক্ত হয়ে গেলেন।  


আর যদি হয় মেয়েদের হল, তাহলে তো কোনো কথাই নেই। ধরলাম, আপনার খুব কাছের কোনো বন্ধু হলে এসে মজার ছলে বাথরুমে একটি ক্যামেরা রাখলেন। বেশ কিছু ভিডিও তিনি ধারণ করলেন। একবারও কি ভেবে দেখেছেন তখন কী হবে?  


হয়তো বলতে পারেন এমন তো হতেই পারে না, তিনি অনেক কাছের বন্ধু। এটা অসম্ভব। খুব বেশি দিন আগের কথা নয়। অনেক স্বনামধন্য শপিং মল আর পারলারেও কিন্তু গোপন ক্যামেরায় নারীর ছবি ধারণ করে ব্ল্যাকমেল করা হতো। তাহলে আমরা এত বেশি কনফিডেন্ট কীভাবে হব যে এমন কিছু হবে না?


আসলে যখন কেউ হলে সিট পেয়ে যান, তিনি ধরেই নেন সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাওয়া তাঁর অধিকার। এটা অবশ্যই ঠিক। তবে হলের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করার পাশাপাশি হলের নিয়মগুলোও সঠিকভাবে পালন করা একজন শিক্ষার্থীর দায়িত্ব। নিয়মগুলো কেবলই আমাদের নিরাপত্তার জন্য করা। কিন্তু আমরা ভুলে যাই অধিকার আর কর্তব্য একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ।


লেখক: সাংবাদিক


আরও খবর