শেখ হাসিনাকে ট্রাভেল পাস দেওয়া হবে না: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী দু-এক মাসের মধ্যে শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরি নির্ধারণ করা হবে: প্রধানমন্ত্রী ২০২৭ সালের সরকারি ছুটির তালিকা প্রকাশ করে প্রজ্ঞাপন ময়মনসিংহে রেলওয়ের জমিতে ১৮ তলা ভবন, বিপাকে ১০৫ জন শেয়ার হোল্ডার ঝিনাইগাতী সীমান্তে ১১ লাখ টাকার ভারতীয় পোশাক জব্দ কটিয়াদীতে ছুরিকাঘাতে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জনের ছেলে আহত জয়পুরহাটে বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে কিশোর নিহত, বিক্ষুব্ধদের আগুনে পুড়ল বাস ইরানকে সহায়তার অভিযোগে ভারত ও তুরস্কের ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা পরীমনি জামিন নিতে আদালতে অর্থনৈতিক ও অবকাঠামো সহযোগিতায় বাংলাদেশ-চীনের সমঝোতা স্মারক সই স্বর্ণের দামে বড় লাফ, ভরি কত জোরারগঞ্জ থানায় ছয় মাসে ১০৮ মাদক মামলা, গ্রেপ্তার ১২৬ কারবারি আজ খুলনা ও বাগেরহাট সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী জাপানসহ যে ১২ দেশে কর্মী পাঠাতে লাগবে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন একনেকে ৫৮ হাজার কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন পরিবেশ রক্ষায় ধামরাইয়ে প্রশাসনের অভিযান, গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো দুই ইটভাটার স্থাপনা ধামরাইয়ের বিভিন্ন এলাকায় বৃহস্পতিবার দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বন্ধ, আগাম প্রস্তুতির পরামর্শ বানিয়াচংয়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ক্লাবে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ নলডাঙ্গায় স্বর্ণ ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, বিচারের দাবিতে মানববন্ধন প্রয়াত সাংবাদিক আব্দুল অদুধ মিয়ার পরিবারের পাশে সোনালী ধারা সম্পাদক

গণঅভ্যুত্থান: প্রতিবাদে সৃজনশীলতার উত্থান

জুলাই ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশে ইতিহাসে এক বিশেষ অধ্যায়ের জন্ম দিয়েছে। বিশেষত, দেশের তরুণ প্রজন্ম, বিশেষ করে জেনারেশন জেড (Gen Z), তাদের সাহসী ও সৃজনশীল আন্দোলনের মাধ্যমে সমাজের প্রতি তাদের দায়িত্ব এবং প্রত্যাশা প্রকাশ করেছে। সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিবাদে এই প্রজন্মের তরুণরা আজ শুধু অংশগ্রহণই নয়, এক নতুন ভাষা ও মাধ্যম সৃষ্টি করেছে দেয়াল লিখন ও গ্রাফিতি।


২০২৪ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশে যেভাবে গণঅভ্যুত্থান শুরু হয়, তার পেছনে ছিল নানা ধরনের সামাজিক অবিচার, সরকারি দমন-পীড়ন এবং রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা। তরুণরা অনুভব করছিল এক নতুন ধরনের চাপে, যেখানে তাঁদের দাবিগুলোর প্রতিফলন এবং ন্যায্যতা প্রাপ্তির প্রয়োজনীয়তা ছিল সবচেয়ে বেশি। এই সংকটের মধ্যে, জেন জেড তরুণরা যে আন্দোলনটির সূচনা করেছিল, তা ছিল ব্যতিক্রমী দেওয়াল লিখন এবং গ্রাফিতি। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ২৯ জুলাই সারাদেশে গ্রাফিতি কর্মসূচি ঘোষণা করে। ছাত্রছাত্রীরা, বিশেষত স্কুল, মাদ্রাসা, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা, নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাঠে নামে। এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে তারা নিজেদের মধ্যে চাঁদা তুলে, সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে একত্রিত হয়ে, দেয়াল লিখন এবং গ্রাফিতি আঁকার মাধ্যমে তাদের প্রতিবাদ প্রকাশ করে। পুলিশের আতঙ্ক, স্বৈরাচারের দোসর ছাত্র সংগঠনের হামলা এবং হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালানোর শঙ্কা নিয়েও তরুণরা তাদের দৃঢ়তা হারায়নি।


যদিও দেয়াল লিখন এবং গ্রাফিতি বাংলাদেশের সামাজিক প্রতিবাদের ইতিহাসে এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গি, এর গুরুত্ব এবং প্রভাব তাও চরম। দেয়ালগুলো হয়ে ওঠে তরুণদের ক্ষোভ ও দাবির প্ল্যাটফর্ম, যেখানে তারা সামাজিক ন্যায্যতা, মানবাধিকার এবং গণতন্ত্রের পক্ষে স্লোগান এবং চিত্র অঙ্কন করে। এই কাজগুলি শুধু শৈল্পিক নয়, বরং রাজনৈতিক প্রতিবাদের মাধ্যমও হয়ে ওঠে। "স্বাধীনতা" ও "সামাজিক ন্যায্যতা" এই ধরনের স্লোগানগুলো দেয়ালগুলোর গায়ে প্রতিধ্বনিত হয়, যেখানে গণতান্ত্রিক অধিকার এবং মানবাধিকারের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।


এ আন্দোলনের একটি বিশেষ দিক হলো তরুণদের সৃজনশীলতা এবং সাহসিকতা। যারা গ্রাফিতি আঁকছিল, তারা শুধু রাজনৈতিক প্রতিবাদই জানাচ্ছিল না, সমাজের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করার এক নতুন ভাষাও তৈরি করছিল। তারা জানতো, তাদের এই কাজের মাধ্যমে কেবল সরকারের দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা নয়, বরং দেশের ভবিষ্যতকে একটি নতুন দিশা দেখানো হচ্ছে। এই গ্রাফিতি ও দেয়াল লিখন তরুণদের মধ্যে এক ধরনের সামাজিক চেতনা সৃষ্টি করেছিল, যা রাষ্ট্রীয় স্তরের দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে একতাবদ্ধ হওয়ার আহ্বান ছিল।


গ্রাফিতি কর্মসূচির প্রতিক্রিয়া হিসেবে সরকার ও তার প্রশাসনিক বাহিনী নানা ধরনের পদক্ষেপ নেয়। পুলিশি হস্তক্ষেপ, ছাত্র সংগঠনগুলোর হামলা, এবং অন্যান্য বাধার সম্মুখীন হলেও, তরুণরা তাদের প্রতিবাদের ধারা থামাতে পারেনি। তারা জানতো, তাদের প্রতিটি স্কেচ, প্রতিটি স্লোগান এবং প্রতিটি আঙ্কিত চিত্র শুধু তাদের নিজের জন্য নয়, দেশ ও জাতির জন্য একটি শক্তিশালী বার্তা পৌঁছে দেয়।


দেয়াল লিখন ও গ্রাফিতির এই আন্দোলন এক ধরনের সামাজিক আন্দোলনের সূচনা করেছে। এতে নতুন প্রজন্মের তরুণরা সরকারের প্রতি তাদের হতাশা, ক্ষোভ এবং প্রত্যাশা প্রকাশ করেছে। তারা জানে, বাংলাদেশের ভবিষ্যত তাদের হাতে, এবং তাদের এই সৃজনশীল প্রতিবাদ ও সামাজিক সচেতনতায় দেশের রাজনীতি ও সমাজের নানা অবিচার থেকে মুক্তির পথ খুঁজে বের করা সম্ভব।


জুলাই ২৪-এর গণঅভ্যুত্থান এবং তার পরবর্তী সময়কাল বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে, যেখানে তরুণরা তাদের সৃজনশীলতার মাধ্যমে সামাজিক পরিবর্তনের জন্য আন্দোলন করেছে। দেয়াল লিখন ও গ্রাফিতি আজকের দিনের সচেতন, সাহসী এবং দায়িত্বশীল প্রজন্মের প্রতিচ্ছবি। বাংলাদেশের জেন জেড প্রজন্মের তরুণরা এক নতুন দিগন্তের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, যেখানে তারা তাদের শৈল্পিক ভাষা এবং প্রতিবাদের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যত তৈরি করবে।

আরও খবর
ক্যাম্পাসেই উদ্যোক্তা হওয়ার হাতেখড়ি

২৪৩ দিন ৪ ঘন্টা ৪২ মিনিট আগে




রাজশাহীতে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চাকরি মেলা

৪০৯ দিন ২০ ঘন্টা ২৯ মিনিট আগে