শেখ হাসিনাকে ট্রাভেল পাস দেওয়া হবে না: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী দু-এক মাসের মধ্যে শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরি নির্ধারণ করা হবে: প্রধানমন্ত্রী ২০২৭ সালের সরকারি ছুটির তালিকা প্রকাশ করে প্রজ্ঞাপন ময়মনসিংহে রেলওয়ের জমিতে ১৮ তলা ভবন, বিপাকে ১০৫ জন শেয়ার হোল্ডার ঝিনাইগাতী সীমান্তে ১১ লাখ টাকার ভারতীয় পোশাক জব্দ কটিয়াদীতে ছুরিকাঘাতে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জনের ছেলে আহত জয়পুরহাটে বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে কিশোর নিহত, বিক্ষুব্ধদের আগুনে পুড়ল বাস ইরানকে সহায়তার অভিযোগে ভারত ও তুরস্কের ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা পরীমনি জামিন নিতে আদালতে অর্থনৈতিক ও অবকাঠামো সহযোগিতায় বাংলাদেশ-চীনের সমঝোতা স্মারক সই স্বর্ণের দামে বড় লাফ, ভরি কত জোরারগঞ্জ থানায় ছয় মাসে ১০৮ মাদক মামলা, গ্রেপ্তার ১২৬ কারবারি আজ খুলনা ও বাগেরহাট সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী জাপানসহ যে ১২ দেশে কর্মী পাঠাতে লাগবে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন একনেকে ৫৮ হাজার কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন পরিবেশ রক্ষায় ধামরাইয়ে প্রশাসনের অভিযান, গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো দুই ইটভাটার স্থাপনা ধামরাইয়ের বিভিন্ন এলাকায় বৃহস্পতিবার দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বন্ধ, আগাম প্রস্তুতির পরামর্শ বানিয়াচংয়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ক্লাবে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ নলডাঙ্গায় স্বর্ণ ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, বিচারের দাবিতে মানববন্ধন প্রয়াত সাংবাদিক আব্দুল অদুধ মিয়ার পরিবারের পাশে সোনালী ধারা সম্পাদক

পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু প্রতিরোধে করণীয়


◾শেখ আব্দুল্লাহ:  বাংলাদেশ জুড়ে অসংখ্য নদ-নদী, খাল-বিল, পুকুর, ডোবা জালের মতো বিস্তৃত রয়েছে। এসব অসংখ্য জলাশয় থাকার কারনে চাষাবাদ, পশু-পাখি পালন, গৃহস্থালির কাজ ইত্যাদি যেমন সহজ হয়ে দাড়িয়েছে, তেমনি প্রতিবছর ব্যাপক হারে জান ও মালের ক্ষতি হওয়ার কারনে এ জলাশয়গুলো মানুষের কাল হয়ে দাড়িয়েছে। আমাদের দেশে প্রতিবছর পানিতে ডুবে অসংখ্য মানুষ প্রাণ হারান; প্রাণ হারানোর দিক থেকে শিশুদের সংখ্যাই বেশি ।


এক সমীক্ষায় দেখা যায়, বাংলাদেশের শিশুরা নিউমোনিয়া রোগের পরেই পানিতে ডুবে বেশি প্রাণ হারায়। তাই শিশুদের এই অকাল মৃত্যুর হার শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে আমাদের সর্বস্তরের মানুষ সচেতন হতে হবে, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব। 


পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যুর হার কমাতে আগে জানতে হবে কোন কোন কারনে শিশুরা পানিতে ডুবে প্রাণ হারাচ্ছে; পরে এর প্রতিরোধ ব্যবস্থা বিষয়ে জানতে হবে। শিশুদের পানিতে ডুবার অন্যতম কারন হলো বাবা-মায়ের অসচেতনতা। গ্রামে দেখা যায় বাবারা জীবিকার তাগিদে বেশি সময় বাইরে বাইরে থাকেন এবং মায়েরা খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে গৃহস্থালি কাজের ব্যস্ত হয়ে পড়েন; বাচ্চাকে সঠিকভাবে দেখশোনা করতে পারেন না। এর ফলে একটা বাচ্চা তার মায়ের দৃষ্টি গোচরে বাড়ির পাশে পুকুর বা জলাশয়ে কাছে গিয়ে কৌতূহল বসতে পানিতে নেমে যায় এবং সাঁতার না জানার কারনে পানিতে ডুবে প্রাণ হারায়। এছাড়াও পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর অন্যতম কারণ হলো সঠিক তত্ত্বাবধান ও শিক্ষার অভাব। একজন শিশুকে সাঁতার শিখানোর সঠিক বয়স ৫ বছর। কিন্তু সাঁতার শেখানোর পর্যাপ্ত বয়সেও একটা শিশুকে সাঁতার শিখানো হচ্ছে না, ফলে একটা শিশুর সাঁতার শেখার পর্যাপ্ত বয়স থাকার সত্বেও পানিতে ডুবে অকালে প্রাণ হারাচ্ছে। বাড়ির পাশে অপ্রয়োজনীয় ডোবা বা জলাশয় থাকাটাও শিশু মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ।


তাই আমরা একটা শিশুর অকাল মৃত্যু ঠেকাতে বেশকিছু প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিতে পারি। আর এ প্রতিরোধ ব্যবস্থার মাধ্যমে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যুর হার অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। 


পানিতে ঢুবে শিশুর মৃত্যুর হার কমিয়ে আনার প্রথম ধাপ হলো বাবা-মায়ের সচেতন হওয়া। একটা শিশু হাটা শেখার পরে তাকে চোখে চোখে রাখতে হবে এবং বাড়ির পাশের পুকুর বা জলাশয়ের দিকে যেন না যায়, সে দিকে লক্ষ রাখতে হবে। বাড়ির পাশের পুকুর বা জলাশয়ের চারিদিকে বেড়া দিতে হবে এবং অপ্রয়োজনীয় পুকুর বা গর্ত-ডোবা থাকলে বন্ধ করে দিতে হবে। এছাড়াও একটা শিশুর ৫ বছর বয়স হওয়ার পরে অবশ্যই সাঁতার শেখার গুরুত্ব দিতে হবে। সাঁতার শেখার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে একটা শিশুকে অবগত করতে হবে। একজন শ্রেণি শিক্ষকও এক্ষেত্রে অনেক ভূমিকা পালন করতে পারেন। তিনি সাতার শেখার শারীরিক প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে সাঁতার শিখতে উদ্বুদ্ধ করতে পারেন। এছাড়াও বেশ কিছুদিন আগের থেকে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যুর হার কমাতে সরকার বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন, যদি এই পদক্ষেপগুলো সঠিকভাবে কার্যকর করা হয় তাহলে সরকার ও সর্বসাধারণের প্রচেষ্টায় শিশু মৃত্যুর হার অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। 


শেখ  আব্দুল্লাহ 

লেখক ও সংগঠক



আরও খবর