নাগেশ্বরীতে ৬৩ পূজামণ্ডপের জন্য তৈরি হচ্ছে প্রতিমা: নিরাপত্তায় পুলিশের বিশেষ নজর ও পরিদর্শন নাগেশ্বরীতে ৬৩ পূজামণ্ডপের জন্য তৈরি হচ্ছে প্রতিমা: নিরাপত্তায় পুলিশের বিশেষ নজর ও পরিদর্শন শিল্পবর্জ্য ও দূষণের কারণে সুপেয় পানি কমছে : পানি সম্পদ মন্ত্রী জয়পুরহাটে মটর শ্রমিক ইউনিয়নের নবনির্বাচিত কমিটির অভিষেক ও শপথ কৃষকরাই দেশ গড়ার যোদ্ধা: রাষ্ট্রপতি লাখাইয়ে উর্ধ্বমুখী নিত্যপণ্যের দাম,অস্তিরতায় নিম্ন আয়ের মানুষ। জাতিসংঘ সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী আশাশুনি হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করনে নতুন ভবনের সয়েল টেস্ট উদ্বোধন তা’মীরুল মিল্লাতে আলিমে ভর্তি নিয়ে ভোগান্তির অভিযোগ, নির্বাচিত হয়েও ভর্তি হতে পারেননি অনেকে! দিনাজপুরে সম্ভাবনাময় পর্যটন শিল্পের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার আশ্বাস এমপি সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমের পীরগাছায় ছেলের হাতে বাবা খুন, ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন ১৬ বছরে পদার্পণ লালপুর উপজেলা প্রেস ক্লাব পীরগাছায় আল হাজরা ইয়াতিমখানার হাফেজ ছাত্রদের পাগড়ী প্রদান উপলক্ষে তাফসির মাহফিলের প্রস্তুতি ও সুধী সমাবেশ কবিরহাটে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা শেরপুরে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী জরিপ-এর প্রশিক্ষণ উদ্বোধন ঈশ্বরগঞ্জে নারী ও কন্যা শিশুর সহিংসতা নিরসনে আলোচনা সভা রূপালী ব্যাংকের গোপীনাথপুর শাখার নতুন ভবনের উদ্বোধন সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা ব্রীজের উপর ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল চালক নিহত কুষ্টিয়া রাজবাড়ী মহা সড়কে ট্রাক- নসিমন সংঘর্ষে ১ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু পরিকল্পিত সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বরিশাল মহানগর বিএনপির প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল

একাত্তরে তপুর মুক্তিযুদ্ধে মৃত্যু | নার্গিস আক্তার

তপু মা-বাবার একমাত্র সন্তান। ১৯৭১ সালে মেট্রিক পরীক্ষা দিবে, বয়স ১৮ বছর। মা-বাবার নিষেধ সত্ত্বেও সে মুক্তিযুদ্ধে যাবে। মা-বাবাকে না বলে রাতের আঁধারে কয়েক বন্ধু মিলে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। সকালে মা, বাবা দেখতে পায় তপু নেই। ছোট্ট একটি চিরকুট লিখে বালিশের নিচে রেখে যায়। হঠাৎ মা বালিশের নিচে হাত দিতে তপুর চিঠি পায়। চিঠি পড়ে মা-বাবা ভীষণ ভেঙে পড়ে এবং কান্নাকাটি করে। চিঠিতে লেখা ছিল, মা আমার জন্য চিন্তা করো না। আমি মুক্তিযুদ্ধে যাচ্ছি। তুমি আর বাবা কোন চিন্তা করবে না দেশকে স্বাধীন করে তবেই বাড়ি ফিরে আসবো। আমার জন্য দোয়া করবে। আমি, রইজ, স্বপন আরো কয়েকজন যাচ্ছি কোন চিন্তা করবে না, দেশকে স্বাধীন করে বাড়ি আসবো। কয়েক বন্ধু একসঙ্গে রওনা হল। হাঁটা ছাড়া ওদের আর কোন উপায় নেই। তারপর যুদ্ধ চলছে সবকিছু বন্ধ মানুষ জীবন নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে কোন নিরাপদ স্থানে। হাঁটতে হাঁটতে রাত হয়ে গেল। ঘুটঘুটে কালো অন্ধকার কোথায় কোন জন প্রাণী নেই। চিন্তায় পড়ে গেল কোথায় ওরা রাতটুকু কাটাবে। হঠাৎ দূরে হেরিকেনের একটু আলো দেখতে পেল। আস্তে আস্তে হেটে ওরা সেখানে পৌঁছায়। ওদেরকে দেখে তন্নি এবং তাঁর আম্মু হেরিকেন নিভিয়ে চকির নিচে পালায়। ভেবেছে হয়তো মিলিটারি এসেছে। তপু এবং তপুর বন্ধুরা অনেক ডাকাডাকি করছিল আপনারা কেউ বাড়ি আছেন। আমরা মিলিটারি না, আমরা পথিক। এই পথ দিয়ে আত্মীয়ের বাড়ি যাচ্ছিলাম রাত হওয়ায় এখন আর যাওয়া যাবে না। আপনারা কেউ আছেন। তপু এবং বন্ধুরা আধা ঘন্টা ডাকাডাকি করার পর তন্নির মা বের হল, বাবা তোমরা কারা ? কোথায় যাচ্ছিলে ? সবকিছু শোনার পর, তন্নির মা রাজি হল এবং ওদের জন্য ভাত রান্না করতে গেল। তপু তাঁর বন্ধুরা পানি খেতে চাইলো। তন্নি একটি গ্লাস এবং জগ ভর্তি পানি দিল। তন্নি দেখতে ছিল খুবই সুন্দরী। তপু এবং তাঁর বন্ধুরা জিজ্ঞাসা করলো তুমি কোন ক্লাসে পড়? তন্নি উত্তরে বলল আমি এবার এসএসসি পাশ করেছি। এখান থেকে শহর অনেক দূরে তাই কলেজে ভর্তি হই নাই। আমি আর লেখাপড়া করি না। ওদিকে তন্নির মার রান্না শেষ। বাইরের ঘরে ওদের থাকতে দেয়া হয়েছে এবং সেখানে খাবার দিয়ে আসছে তন্নি এবং তন্নির মা। তপু দেশের চিন্তা করছে এবং সেই মুহূর্তে তপু তন্নির প্রেমে পড়েছে। তন্নিকে তপু ভালোবেসে ফেলল। সারারাত কারো চোখে ঘুম নেই। সকাল হলে ওরা গন্তব্যে রওনা দিবে। ওদিকে তন্নির মা এবং তন্নির চোখে ঘুম নেই। কখন মিলিটারি আসবে এবং আমাদের মেরে ফেলবে। 


ভোর হলে তন্নির মা ওদেরকে খাইয়ে বিদায় জানালো। সকলেই তন্নির মা নিলুফা-কে কদমবুচি জানালো। তপু বলল, খালাম্মা আমরা মুক্তিযুদ্ধা দেশের জন্য লড়বো, দেশকে স্বাধীন করে তবেই ছাড়বো। আপনাকে অনেক কষ্ট দিলাম। দেশ স্বাধীন হলে আপনাদের সঙ্গে আবারো দেখা হবে। আপনি তন্নিকে নিয়ে কোন নিরাপদ স্থানে যান এখানে নিরাপদ নয়। সামনে নদী, মিলিটারি লঞ্চ নিয়ে হঠাৎ চলে আসতে পারে। দোয়া রইল, যাও বাবা তোমাদের মনের আশা পূর্ণ হোক এবং যার যার বাবা-মার কোলে ফিরে আসো। ঠিক আছে খালাম্মা আপনি আর তন্নি ভালো থাকুন। আপনাকে এবং তন্নিকে অনেক ভালো লেগেছে। আবার আসিব বলে তন্নি এবং তপু উভয়ের দিকে তাকিয়ে রইল। যুদ্ধক্ষেত্রে তপু মারা গেল। মা-বাবা এবং তন্নির মাকে মারা যাওয়ার আগে চিঠি লিখেছিল। তপু তাঁর বন্ধুদের বলেছিল আমি মারা গেলে এই ঠিকানায় আমার চিঠি পাঠাস। বন্ধুরা চিঠি পাঠিয়ে দিল তপু যুদ্ধে ক্ষেত্রে মারা গেছে। চিঠি পেয়ে মা বাবা হতভম্ব হয়ে বসে রইল। কান্না করতে পারছে না, বুকের মধ্যে প্রচন্ড ব্যথা হার্টবিট বেড়ে গিয়েছে। যেন আজগুবি খবর এসেছে মানিয়ে নিতে পারছে না। ওইদিকে তপুর মৃত্যুর খবর তন্নি এবং তন্নির মা পেয়ে বেশ কান্নাকাটি করছে এবং দুঃখ করে আকুতি করছে ছেলেটি ভালো ছিল। আবার আসতে চাইলো কিন্তু মৃত্যু তাকে চিরদিনের জন্য বিদায় দিলো। হঠাৎ একদিন মিলিটারি এসে তন্নিকে নিয়ে গেল এবং তন্নির মাকে মেরে ফেলল। তপু এবং তন্নির প্রেম অমর হয়ে রইল। 




নার্গিস আক্তার 

গোপালগঞ্জ, ইসলাম পাড়া, বাংলাদেশ।

আরও খবর
দোহারে ২৬০ পিছ চায়না দুয়ারি জাল জব্দ

১৮ দিন ২১ ঘন্টা ৪৪ মিনিট আগে