জামালপুরের ইসলামপুরে গৃহবধূ মোছা. মঞ্জুয়ারা খাতুন হত্যার অভিযোগে দাযের করা মামলাটি তদন্ত করতে জামালপুর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-কে আদেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে জামালপুরের ইসলামপুর আমলি আদালতের বিচারক এই আদেশ দেন।
কে এই মঞ্জুয়ারা খাতুন :
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৫ বছর আগে পাশ্ববর্তী শেরপুর সদর উপজেলার সাত নম্বর চর এলাকার বাসিন্দা আহাম্মদ আলী মোল্লাহর মেয়ে মঞ্জুয়ারা খাতুনকে ইসলামপুর উপজেলার চরপুটিমারী ইউনিয়নের চার নম্বর চর এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে সুজন মিয়ার সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে দেওয়া হয়।
মঞ্জুয়ারার লাশ উদ্ধার :
গত ২৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় শ্বশুরবাড়ি থেকে মঞ্জুয়ারার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের পাঠায় ইসলামপুর থানা-পুলিশ।
হত্যা মামলা :
গত ২৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে মঞ্জুয়ারা খাতুনের মা রিনা খাতুন বাদী হয়ে হত্যার অভিযোগে জামালপুরের ইসলামপুর সিআর আমলি আদালতে মামলার আবেদন করলে সংশ্লিষ্ট বিচারক ইসলামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) ইউডি (অস্বাভাবিক মৃত্যু) বিষয়ে থানায় মামলা হয়েছে কি না, তা প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ দিয়ে গতকাল ধার্য তারিখ নির্ধারণ করেন।
মামলায় মঞ্জুয়ারার স্বামী সুজন মিয়া, দেবর লোকমান, লুৎফর, শাশুড়ি ছুরভানু এবং উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুর রহমান মলিনসহ ১১ জনের নামোল্লেখে আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া ৫-৭ জনকে করা হয়েছে অজ্ঞাতনামা আসামি।
মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আসামিরা মঞ্জুয়ারাকে মারপিটসহ নির্যাতন করে আসছিলো। ঘটনার দিন সকাল ১০টার দিকে স্বামীর বসতবাড়িতে মঞ্জুয়ারাকে আসামিরা মারপিট করলে ঘটনাস্থলে তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনা ধামাচাপা দিতে বসতবাড়িসংলগ্ন ব্রহ্মপুত্র নদে লাশ ফেলে দেওয়ার চেষ্টা চালায় আসামিরা। এতে স্থানীয় বাসিন্দারা বাধা দেওয়ায় বাড়ির উঠানে লাশ রেখে উল্লাস করে তাঁরা।
পাল্টাপাল্টি অভিযোগ :
মঞ্জুয়ারা হত্যার অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করার পর থেকে বাদী-বিবাদী উভয় পক্ষ একে অপরকে দোষছেন। নিজেদের অবস্থান ধরে করতে সংবাদ সম্মেলনসহ পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচিও পালন করেছেন তাঁরা।
সংবাদ সম্মেলন ডেকে হত্যাকাণ্ডকে ভিন্নখাতে প্রভাবিত করাসহ মামলা প্রত্যাহারের হুমকির অভিযোগ তোলেছেন বাদীপক্ষ। অপরদিকে, মামলায় যুবদল নেতা মলিনকে আসামি করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেছেন তাঁর অনুসারীরা। এ ছাড়া অভিযুক্ত যুবদল নেতা মলিন ফেসবুক লাইভে এসে মঞ্জুয়ারার মৃত্যুকে 'আত্মহত্যা' দাবি করায় সংবাদ সম্মেলন ডেকে প্রতিবাদ জানিয়েছেন মঞ্জুয়ারার স্বজনরা।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর বিকেলে যুবদল নেতা মলিন ফেসবুক লাইভে মঞ্জুয়ারার মৃত্যুকে 'আত্মহত্যা' দাবি করেন। পরে ওইদিন রাত ১০টার দিকে পৌর শহরের হাসপাতাল এলাকাস্থ একটি বাসায় সংবাদ সম্মেলন ডেকে মঞ্জুয়ারা খাতুনের মা রিনা খাতুন, বাবা আহাম্মদ আলী মোল্লা, বোন আঞ্জুয়ারা খাতুন এবং ছেলে রনি দাবি করেন, 'মঞ্জুয়ারাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু মামলার ১০ নম্বর আসামি যুবদল নেতা মলিন তাঁর ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে এসে মঞ্জুয়ারার হত্যাকাণ্ডকে 'আত্মহত্যা' বলে প্রচার করে। এ ছাড়া তাঁর লোকজনসহ অন্যান্য আসামির পক্ষে মামলা প্রত্যাহার করতে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। পরদিন ১ অক্টোবর দুপুরে চরগোয়ালিনী ইউনিয়নের হরিণধরা এলাকায় হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচার দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেন এলাকাবাসী। ২ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে যুবদল নেতা মলিনকে মামলায় আসামি করার প্রতিবাদে উপজেলার চরপুটিমারী ইউনিয়নের চার নম্বর চর এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন এলাকাবাসী। এতে দাবি করা হয়, রাজনৈতিক বিরোধের জেরে গৃহবধূ মঞ্জয়ারার 'আত্মহত্যার' ঘটনাকে 'হত্যাকাণ্ড' হিসেবে উপস্থাপন করে যুবদল নেতা মলিনকে আসামি করা হয়েছে। একদিন রাতে উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন ডেকে লিখিত বক্তব্যে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শেখ হেলাল উদ্দিন দাবি করেন, মঞ্জুয়ারা হত্যা মামলায় মলিনকে রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত স্বার্থে জড়ানো হয়েছে। ঘটনার সময় মলিনসহ যুবদলের নেতা-কর্মীরা দলীয় সাংগঠনিক কর্মসূচিতে জামালপুরে অবস্থান করছিলেন।
অভিযুক্ত যুবদল নেতা মলিনের ভাষ্য :
মামলা দায়েরের পর থেকেই অভিযুক্ত যুবদল নেতা মলিন দাবি করে আসছেন, 'তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধারে পুলিশকে সহযোগিতা করেন। মূলত তিনি আগামী চরপুটিমারী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে অংশ নেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে কুচক্রী মহল তাঁকে হয়রানি করতে মামলায় আসামি করেছে।'
পুলিশের বক্তব্য :
ইসলামপুর থানার ওসি জানান, 'লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর মঞ্জুয়ারার স্বামী সুজন মিয়াসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন আত্মগোপনে চলে গেছে।'
জামালপুর পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার (এসপি) পংকজ দত্ত বলেন, 'আদালত থেকে কাগজপত্র পাইনি। কাগজপত্র পাওয়ার পর আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
৫৮ মিনিট আগে
১ ঘন্টা ৪৫ মিনিট আগে
১৮ ঘন্টা ০ মিনিট আগে
১৮ ঘন্টা ০ মিনিট আগে
২০ ঘন্টা ১৩ মিনিট আগে
২০ ঘন্টা ১৮ মিনিট আগে
২০ ঘন্টা ২০ মিনিট আগে