সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা ভুবন মোহন (বিবিএম) কলেজিয়েট স্কুলের এক পরিচ্ছন্নতাকর্মীর বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থীকে ইয়াবা সেবনে প্ররোচিত ও মাদক সরবরাহের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীর বাবা গৌর কর্মকার গত ১ সেপ্টেম্বর আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগে অভিযুক্ত পরিচ্ছন্নতাকর্মীর নাম শুভ সাধু। তিনি বুধহাটা ভুবন মোহন কলেজিয়েট স্কুলে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
লিখিত অভিযোগ ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কুল্যা গ্রামের বাসিন্দা গৌর কর্মকারের ছেলে কৌশিক কর্মকার ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী। গত বছর সে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। কৌশিকের পরিবারের অভিযোগ, এসএসসি পরীক্ষার আগে ও পরে বিদ্যালয়ের পরিচ্ছন্নতাকর্মী শুভ সাধু তাকে ইয়াবা সেবনে প্ররোচিত এবং বিভিন্ন সময়ে মাদক সরবরাহ করতেন।
পরিবারের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ইয়াবা সেবনে অভ্যস্ত হয়ে পড়ার পর মাদকের অর্থ জোগাড় করতে কৌশিকের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও একটি আইফোন নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষার্থী কৌশিক কর্মকার অভিযোগের বিষয়ে বলেন, শুভ সাধু তাকে বিভিন্নভাবে ইয়াবা সেবনে উৎসাহিত ও চাপ প্রয়োগ করতেন। এমনকি ইয়াবা সেবন করলে পরীক্ষায় ভালো ফল করা যাবে—এমন কথাও তাকে বলা হয়েছিল বলে তার দাবি। পরবর্তীতে মাদক কেনার অর্থ জোগাড়ের জন্য বাবার প্রতিষ্ঠান থেকে টাকা নেওয়া এবং মায়ের স্বর্ণালংকার চুরির জন্যও তাকে চাপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন কৌশিক।
কৌশিকের বাবা গৌর কর্মকার বলেন, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করা হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে। তার দাবি, তার ছেলের জীবনে মাদকের প্রভাব পড়েছে এবং ভবিষ্যতে অন্য কোনো শিক্ষার্থী যাতে এ ধরনের পরিস্থিতির শিকার না হয়, সে জন্য অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মোহিত কুমার দাশ সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহে বাধা দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানপ্রধান হিসেবে তিনি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি বলেও অভিযোগকারীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
তবে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং অভিযোগটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। একইভাবে শিক্ষার্থীকে ইয়াবা সরবরাহ ও সেবনে প্ররোচিত করার অভিযোগেরও এখন পর্যন্ত কোনো স্বাধীন তদন্তগত সত্যতা পাওয়া যায়নি।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একজন কর্মচারীর বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীকে মাদক সেবনে প্ররোচনা ও মাদক সরবরাহের মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠায় স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তারা অভিযোগটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার শ্যামানন্দ কুন্ডু বলেন, বুধহাটা ভুবন মোহন কলেজিয়েট স্কুলের পরিচ্ছন্নতাকর্মী শুভ সাধুর বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে মাদকমুক্ত রাখতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও কর্মচারীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি অভিযোগটির দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ্যে আসবে এবং অভিযোগ সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
৪ ঘন্টা ২৯ মিনিট আগে
৪ ঘন্টা ৫৭ মিনিট আগে
৬ ঘন্টা ২২ মিনিট আগে
৬ ঘন্টা ৩০ মিনিট আগে
৭ ঘন্টা ১৬ মিনিট আগে
৭ ঘন্টা ২২ মিনিট আগে
৭ ঘন্টা ২৯ মিনিট আগে
৭ ঘন্টা ৩২ মিনিট আগে