পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলমান থাকবে: কালিগঞ্জে ইউএনও তানিয়া
‘পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুধু একটি কর্মসূচি নয়, এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া’—এমন মন্তব্য করেছেন সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানিয়া আক্তার।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ও জেলা প্রশাসক, সাতক্ষীরার নির্দেশনায় কালিগঞ্জে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
কর্মসূচির শুরুতে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে এসে শেষ হয়। পরে উপজেলা পরিষদ চত্বর ও আশপাশের এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি), স্কাউট, গার্লস গাইড, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, আনসার-ভিডিপির সদস্য এবং বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এ সময় উপজেলা পরিষদ চত্বরসহ আশপাশের বিভিন্ন স্থানের ময়লা-আবর্জনা ও জঞ্জাল পরিষ্কার করে নির্ধারিত স্থানে ফেলা হয়।
পরিচ্ছন্নতা অভিযানের পাশাপাশি নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা-আবর্জনা ফেলা, পরিবেশ পরিষ্কার রাখা এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া আক্তার নিজ হাতে ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করে তা নির্ধারিত ডাস্টবিনে ফেলে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযানের উদ্বোধন করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মফিজুর রহমান, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা অর্না চক্রবর্তী, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দীপঙ্কর কুমার বিশ্বাস, উপজেলা প্রকৌশলী মো. জাকির হোসেন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তা জুয়েল হোসেন, পরিসংখ্যান কর্মকর্তা শশাঙ্ক কুমার মণ্ডল, আইসিটি কর্মকর্তা হেমেন্দ্র নাথ মণ্ডল, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হোসনেয়ারা খানম, সহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া আক্তার বলেন, “পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান একটি চলমান প্রক্রিয়া। উপজেলা পরিষদসহ বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিতভাবে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার পরিচ্ছন্নতা অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
তিনি আরও বলেন, উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন মোড়ে ইতোমধ্যে ডাস্টবিন স্থাপন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানেও ডাস্টবিন স্থাপন করা হবে। এর মাধ্যমে মানুষকে নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলার অভ্যাস গড়ে তুলতে উৎসাহিত করা হবে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধ প্রসঙ্গে ইউএনও বলেন, যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলে রাখা যাবে না। বিশেষ করে ময়লার স্তূপ ও ঝোপঝাড় নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে। বর্তমানে ডেঙ্গুর প্রকোপ বিবেচনায় পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
তিনি জানান, এ বিষয়ে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে অবহিত করা হয়েছে এবং নিজ নিজ এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতন ও সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের মাধ্যমে উপজেলা পরিষদ চত্বরসহ পুরো উপজেলাকে পরিচ্ছন্ন ও বসবাসযোগ্য রাখতে এ কর্মসূচি ধারাবাহিকভাবে পরিচালনা করা হবে।
১ ঘন্টা ১২ মিনিট আগে
১ ঘন্টা ১৪ মিনিট আগে
১ ঘন্টা ৪৪ মিনিট আগে
২ ঘন্টা ১০ মিনিট আগে
২ ঘন্টা ১৯ মিনিট আগে
২ ঘন্টা ৪০ মিনিট আগে