চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার হাশিমপুরে এক কৃষকের গোয়ালঘরে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এতে একটি দুধেল গাভী পুড়ে মারা গেছে এবং আরও ৬টি গরু গুরুতর আহত হয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছে। গত ২৩ জুলাই দিবাগত রাতে হাশিমপুর ইউনিয়নের পূর্ব ছৈয়দাবাদ গ্রামের ঋণগ্রস্ত কৃষক মো. মোস্তাক মিয়ার গোয়ালঘরে এ বর্বরোচিত ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা মোস্তাক মিয়ার গোয়ালঘরে আগুন লাগিয়ে পালিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর আগুন জ্বলতে দেখে মোস্তাকের ঘুম ভাঙলে তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে ততক্ষণে মোস্তাকের ৮৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি দুধেল গাভী আগুনে পুড়ে মারা যায়।
এছাড়া গোয়ালঘরে থাকা একটি বাচ্চাসহ দুধেল গাভী, ৮০ হাজার টাকা মূল্যের একটি গর্ভবতী গাভী, ১৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি বাছুর এবং ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের আরও ২টি গাভী আগুনে পুড়ে মারাত্মকভাবে আহত হয়। আগুনে সব মিলিয়ে তার প্রায় ৪ লাখ টাকারও বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক। আহত ৬টি গরুকে চন্দনাইশ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের চিকিৎসকরা চিকিৎসা দিচ্ছেন।
ক্ষোভ ও কান্নাজড়িত কণ্ঠে মোস্তাক মিয়া বলেন, "কারো সাথে আমার কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতা থাকলে সেটা আমার সাথে মেটাতে পারত, কিন্তু নিরপরাধ অবলা জীবগুলোর ওপর কেন এই প্রতিশোধ নেওয়া হলো? আমি এর বিচার আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিলাম।"
তিনি আরও জানান, চারটি এনজিও থেকে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে গরুগুলো কিনেছিলেন। দুধ বিক্রি করে প্রতি সপ্তাহে তাকে ৬ হাজার টাকা করে ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে হতো। এখন গরুগুলো পুড়ে যাওয়ায় দুধ বিক্রি বন্ধ হয়ে যাবে, ফলে কিস্তির টাকা চালানো তার পক্ষে আর সম্ভব হবে না। গতকাল ২৪ জুলাই সকালে খবর পেয়ে চন্দনাইশ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
এ
বিষয়ে চন্দনাইশ থানার
অফিসার ইনচার্জ এস.
এম. দিদারুল ইসলাম
সিকদার জানান, "সংবাদ পাওয়ার
পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
তবে এ বিষয়ে
এখন পর্যন্ত কোনো
লিখিত অভিযোগ পাওয়া
যায়নি। লিখিত অভিযোগ
পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত
ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
২ ঘন্টা ৯ মিনিট আগে
২ ঘন্টা ২১ মিনিট আগে
৩ ঘন্টা ১৭ মিনিট আগে
৩ ঘন্টা ৪৫ মিনিট আগে
৩ ঘন্টা ৫৬ মিনিট আগে
৩ ঘন্টা ৫৭ মিনিট আগে
৪ ঘন্টা ৩৯ মিনিট আগে