নড়াইল সদরে অবস্থিত দক্ষিণ নড়াইল শিমুলিয়া মহাবিদ্যালয়ের ইতিহাসের এক বেদনাবিধুর দিন। যে মানুষটি প্রতিদিন সবার আগে কলেজে এসে দায়িত্ব, কর্তব্য ও ভালোবাসার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করতেন, আজ তিনি ফিরলেন ঠিকই, কিন্তু জীবিত অবস্থায় নয়—লাশবাহী গাড়িতে করে, শেষবারের মতো তাঁর প্রিয় কর্মস্থল, স্মৃতিবিজড়িত কলেজ প্রাঙ্গণে।
যে গেট দিয়ে প্রতিদিন হাসিমুখে প্রবেশ করতেন, শিক্ষকদের খোঁজ নিতেন, শিক্ষার্থীদের স্নেহভরে উপদেশ দিতেন, কলেজের প্রতিটি কার্যক্রমে নেতৃত্ব দিতেন—আজ সেই গেট দিয়ে প্রবেশ করলেন নিথর দেহ হয়ে। মুহূর্তেই যেন পুরো কলেজ প্রাঙ্গণ শোকে স্তব্ধ হয়ে গেল। শিক্ষক, কর্মচারী, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, এলাকাবাসী ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে আগত অসংখ্য মানুষ ছুটে এলেন প্রিয় মানুষটিকে শেষবারের মতো এক নজর দেখার জন্য।
কেউ চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি। কারও মুখে কোনো কথা ছিল না। শুধু অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলেন সবাই, আর হৃদয়ের গভীর থেকে উচ্চারিত হচ্ছিল একটি দীর্ঘশ্বাস—“এভাবেই কি বিদায় নিতে হয়!”
তিনি ৩০ মে শনিবার সামরিক হাসপাতালে অসুস্থ জনিত কারণে ২.১৮ সময় ইন্তেকাল করেন ( ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন) মৃত্যুর সময় তার বয়স হয়েছিল ৬০ বছর। রবিবার কলেজ প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত হলো জানাজা। তার মৃত্যুতে কলেজ হারালো একজন দক্ষ প্রশাসককে, শিক্ষার্থীরা হারালো একজন স্নেহময় অভিভাবককে, সহকর্মীরা হারালো একজন প্রজ্ঞাবান সহযাত্রীকে, আর সমাজ হারালো একজন আলোকিত মানুষকে। তাঁর নেতৃত্ব, কর্মনিষ্ঠা ও মানবিকতা চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
কত স্বপ্ন ছিল, কত পরিকল্পনা ছিল! আগামী ডিসেম্বর মাসে অবসরে যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। হয়তো সহকর্মীরা বিদায় সংবর্ধনার প্রস্তুতি নিতেন, শিক্ষার্থীরা ভালোবাসার ফুলে ফুলে ভরিয়ে দিত কলেজ প্রাঙ্গণ। কিন্তু মহান আল্লাহর বিধান অন্যরকম ছিল। অবসর নয়, তাঁকে চলে যেতে হলো চিরদিনের জন্য। এমন বিদায় কেউ চায় না, এমন দৃশ্য কেউ দেখতে চায় না।
আজ কলেজের প্রতিটি ইট, প্রতিটি শ্রেণিকক্ষ, প্রতিটি করিডোর যেন তাঁর স্মৃতিতে ভারাক্রান্ত। তাঁর পদচারণার শব্দ আর শোনা যাবে না, তাঁর আন্তরিক কণ্ঠে কোনো নির্দেশনা আর ভেসে আসবে না, কোনো শিক্ষার্থীকে স্নেহভরে ডাকবেন না, শাসন করবেন না তিনি। শূন্যতা আর বেদনার এক বিশাল অধ্যায় রেখে তিনি চলে গেলেন অনন্তের পথে। বক্তারা বলেন
প্রিয় অধ্যক্ষ স্যার, আপনি ছিলেন, আছেন এবং থাকবেন আমাদের হৃদয়ের গভীরে। আপনার কর্ম, আদর্শ ও ভালোবাসা দক্ষিণ নড়াইল শিমুলিয়া মহাবিদ্যালয়ের প্রতিটি প্রজন্মকে পথ দেখাবে। আপনার শূন্যতা কখনো পূরণ হওয়ার নয়।
আল্লাহ তাআলা আপনাকে জান্নাতুল ফেরদাউসের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করুন, আপনার সকল ভুলত্রুটি ক্ষমা করে দিন এবং আপনার কবরকে জান্নাতের বাগিচাসমূহের একটি বাগিচায় পরিণত করুন।
বক্তব্যে শিক্ষকরা বলেন বিদায় প্রিয় অধ্যক্ষ স্যার। আপনার এই বিদায় আমাদের হৃদয়ে আজীবন বেদনার স্মৃতি হয়ে থাকবে।
১ ঘন্টা ৯ মিনিট আগে
১ ঘন্টা ১৩ মিনিট আগে
১০ ঘন্টা ৬ মিনিট আগে
১০ ঘন্টা ১২ মিনিট আগে
১১ ঘন্টা ২০ মিনিট আগে