মুন্সি শাহাব উদ্দীন, চট্টগ্রাম
বর্তমান যুগ তথ্যপ্রযুক্তির যুগ। মোবাইল ফোন আমাদের জীবনকে সহজ ও গতিশীল করেছে। তবে এই প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহার, বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে মোবাইল ফোনের প্রতি আসক্তি, একটি উদ্বেগজনক সামাজিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে। এর ফলে অনেক শিশু পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে এবং অমনোযোগী হয়ে উঠছে।
একসময় শিশুদের অবসর সময় কাটত খেলাধুলা, বই পড়া কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে মেলামেশার মাধ্যমে। এখন সেই জায়গা দখল করে নিয়েছে স্মার্টফোন। অনলাইন গেম, ভিডিও, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন বিনোদনমূলক অ্যাপ শিশুদের দীর্ঘ সময় ধরে পর্দার সামনে আটকে রাখছে। ফলে তারা পড়ার টেবিলে বসলেও মনোযোগ ধরে রাখতে পারছে না।
মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার শুধু শিক্ষাজীবনেই নয়, শিশুদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। দীর্ঘক্ষণ মোবাইল ব্যবহারের কারণে চোখের সমস্যা, ঘুমের ব্যাঘাত, মাথাব্যথা এবং একাকীত্বের প্রবণতা বাড়ছে। একই সঙ্গে স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগের ক্ষমতাও কমে যাচ্ছে, যা শিক্ষার জন্য বড় বাধা।
এই সমস্যা সমাধানে পরিবারকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। অভিভাবকদের উচিত শিশুদের মোবাইল ব্যবহারের সময় নির্ধারণ করে দেওয়া এবং তাদের খেলাধুলা, বই পড়া ও সৃজনশীল কাজে উৎসাহিত করা। পাশাপাশি বিদ্যালয় ও সমাজকেও সচেতনতা বৃদ্ধিতে এগিয়ে আসতে হবে।
প্রযুক্তি আমাদের প্রয়োজন, কিন্তু প্রযুক্তির অপব্যবহার নয়। শিশুদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়তে হলে মোবাইল ফোন ব্যবহারে সংযম এবং সঠিক দিকনির্দেশনা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় একটি মনোযোগী ও মেধাবী প্রজন্ম গড়ে তোলার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে পড়বে।
১ ঘন্টা ৯ মিনিট আগে
১ ঘন্টা ১৩ মিনিট আগে
১০ ঘন্টা ৫ মিনিট আগে
১০ ঘন্টা ১২ মিনিট আগে
১১ ঘন্টা ১৯ মিনিট আগে